ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুযযামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর  ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

সংখ্যা: ৮৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

          পিতা-মাতার সহিত সদাচরণ করলে আল্লাহ্ পাক তার বদলা দেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

عن ابن عمر رضى الله عنهما قال ان رجلا اتى انبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انى اصبت او اذنبت ذنبا عظيما فهل لى من توبة قال هل لك من ام قال لا قال وهل لك من خالة قال نعم قال فبرها.

হযরত ইবনে ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন এক লোক আসলেন। এসে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! انى اصبت او اذنبت ذنبا عظيما.

আমি কঠিন গুণাহ্ করেছি, অনেক বড় গুণাহ্ করেছি। ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা বলার মতো নয়। অনেক বড় গুণাহ্, অনেক শক্ত গুণাহ্, কঠিন গুণাহ্ করেছি। فهل لى من توبة.

আমার জন্য কি কোন তওবা রয়েছে? আমার জন্য কি কোন তওবার দরজা খোলা রয়েছে? ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!”

فقال النبى صلى الله عليه وسلم هل لك من ام.

নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার কি মা রয়েছেন? قال لا লোকটি বললো,  “আমার মা তো ইন্তিকাল করেছেন।”

هل لك من خالة তোমার কি খালা রয়েছেন?

قال نعم “জী, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম! আমার খালা রয়েছেন, মা’র বোন- খালা রয়েছেন।”

فقال النبى صلى الله عليه وسلم فبرها.

“তাহলে তুমি তোমার খালার সাথে সদাচরণ কর। আল্লাহ্ পাক তোমার গুণাহ-খতাগুলো ক্ষমা করে দিবেন।” (সুবহানাল্লাহ্)

মূলতঃ পিতা-মাতার সহিত সদাচরণ করলে আল্লাহ্ পাক গুণাহ-খতা ক্ষমা করে দেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “পিতা-মাতার সহিত সদাচরণ করলে আল্লাহ্ পাক গুণাহ-খতা ক্ষমা করে দেন।” জীবিত পিতা-মাতার সহিত যেমন সদাচরণ করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব এবং কর্তব্য তেমনি মৃত পিতা-মাতার সহিতও। যাদের পিতা-মাতা ইন্তিকাল করেছেন, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন তাদের পিতা-মাতার জন্য দান-খয়রাত করে এবং তাঁেদর কবর জিয়ারত করে।

এক হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, এক লোক এসে বললো, সে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করতে পারেনি। সে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,

ان العبد ليموت والداه او احدهما وانه لهما لعاق.

“যে ব্যক্তির পিতা-মাতা একজন বা দু’জন ইন্তিকাল করেছেন, যাদের সাথে সে অসদাচরণ করেছিল। যাদের সাথে সে অসদাচরণ করেছিল, তাদের উভয়েই ইন্তিকাল করেছেন, সে বুঝতে পারেনি।

وانه لهما لعاق “নিশ্চয়ই সে তাদের সাথে অসদাচরণ করেছে।”

فلا يزال يدعو لهما ويستغفر لهما حتى يكتبه الله بارا.

অর্থাৎ কোন ব্যক্তির পিতা-মাতা ইন্তিকাল করেছেন, হায়াতে তাদের সাথে সদাচরণ করতে পারেনি। সব সময় তাদের নাফরমানী করেছে, সরাসরি নাফরমানী করেছে, বিরোধীতা করেছে বা তাদের সাথে অসদাচরণ করেছে বা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, এই অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন পিতা-মাতা।

فلا يزال يدعو لهما ويستغفر لهما.

সে যদি বুঝার পর দায়েমীভাবে, সব সময় পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ্ পাক-এর কাছে, حتى يكتبه الله بارا.

তাহলে আল্লাহ্ পাক নেক সন্তান হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ করবেন।” (সুবহানাল্লাহ্)

কাজেই যাদের পিতা-মাতা রয়েছেন, তাদের সাথে সন্তানরা সদাচরণ করবে। আর যাদের পিতা-মাতা ইন্তিকাল করে গেছেন, তাদের সাথে তো সরাসরি সদাচরণ করা যাবেনা। যেহেতু তারা ইন্তিকাল করেছেন। তাদের সাথে দায়িত্ব হচ্ছে, কবর জিয়ারত করা- কমপক্ষে প্রতি সপ্তাহে অর্থাৎ প্রতি জুমুয়াতে একবার এবং কিছু দান-খয়রাত করা। আরো উত্তম হবে প্রতি নামাযের পর কিছু দোয়া করা। আরো উচিত দায়েমী ভাবে দোয়া করা, ইস্তেগ্ফার করা, তওবা করা, গুণাহ্-খতা মাফ চাওয়া। আল্লাহ্ পাক তাহলে সে সমস্ত সন্তানকে নেক সন্তান হিসেবে কবুল করবেন। কাজেই এটা প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য সে যেন তার পিতা-মাতার হক্ব আদায় করে। ফার্সীতে একটা কথা বলা হয়,

قدر بابا نادانى – كرتو باب ناشوى.

          (ক্বদরে বাবা নাদানী, গারতু বাবা নাশাবী)

অর্থাৎ- “তুমি পিতা-মাতার ক্বদর হাক্বীক্বীভাবে ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত পিতা-মাতা না হবে।”

এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটা হলো, এক লোক- তার মা রয়েছেন বৃদ্ধা। তার সন্তানও রয়েছে। তার সন্তানটা বাচ্চা, ছোট, কোলের শিশু। গ্রামে তার বাড়ী। গ্রামের বাড়ীতে সাধারণতঃ বাড়ীর সামনে উঠান থাকে। সেখানে সে একটা কাজ করছিল অর্থাৎ সেই বৃদ্ধা মহিলার ছেলেটা সেই বাড়ীর উঠানে কাজ করছিল। খুব প্রখর রোদ্র। যে রোদ্র সহ্য করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, খুব কঠিন রোদ্র। এই রোদ্রে মানুষ সাধারণত ঘর থেকে বের হলেও যাতে ছায়া পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করেই বের হয়। কিন্তু সে সন্তানটা প্রখর রোদ্রের মধ্যে কাজ করছিল। তার মা এসে বার বার বলছিল যে, “দেখ বাবা! তুমি রোদ্রের মধ্যে কাজ করনা, খুব কঠিন রোদ্র, খুব প্রখর রোদ্র, এতে তোমার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।” ছেলেটা বার বার জবাব দিচ্ছিল যে, “কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে আমি এখনই চলে আসতেছি।” একবার, দু’বার, তিনবার মা বললো। ছেলেও একই জবাব দিল। মা দেখলো, ছেলেতো কাজ শেষ না করে আসবেনা। তাকে বললে সে বলে, “এই তো কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে আমি এখনই আসতেছি।” তখন তার মা তাকে ব্যাপারটা বুঝানোর জন্য তার যে বাচ্চা শিশুটা ছিল অর্থাৎ কোলের শিশু যে বিছানায় শোয়া ছিল। সেই শিশুটাকে নিয়ে রোদ্রের মধ্যে শুইয়ে দিল। যখন শিশুটাকে রোদ্রের মধ্যে শুইয়ে দিল। তখন বাচ্চার বাবা তথা বৃদ্ধা মহিলার ছেলে তার বৃদ্ধা মাকে বললো, “আপনি এটা কি করলেন, একটা বাচ্চা ছেলেকে রোদ্রে শোয়ালেন, সে কি বরদাস্ত করতে পারবে?” এ কথা বলে সে তাড়াতাড়ি তার সন্তানটাকে রোদ্র থেকে নিয়ে ছায়ার মধ্যে রাখলো। বাড়ীর বিছানার মধ্যে রাখলো। তখন সেই বৃদ্ধা মহিলা, তার মাতা বললো, “দেখ বাবা! এই সন্তানটা যেমন তোমার কাছে ছোট, ঠিক তুমি আমার কাছে তদ্রুপই ছোট। তার কষ্টটা যেমন তোমার কাছে কষ্ট লেগেছে। ঠিক তোমার কষ্টটাও আমার কাছে কষ্টই লাগে। তুমি কিন্তু ব্যাপারটা বুঝতে পারনি এতক্ষণ পর্যন্ত। এখন তুমি বুঝতে পেরেছ, যেহেতু তোমার ছেলেকে আমি রোদ্রে দিয়েছি। কিন্তু এর আগে তুমি বুঝতে পারনি আমার কথাটা।” হাক্বীক্বত ব্যাপারটা ঠিক।

قدر بابا نادانى – كرتو بابا ناشوى

          (ক্বদরে বাবা নাদানী, গারতু বাবা নাশাবী)

অর্থাৎ- “তুমি পিতা-মাতার ক্বদর হাক্বীক্বীভাবে ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝবে না যতক্ষণ পর্যন্ত পিতা-মাতা না হবে।”

কাজেই পিতা-মাতার যে হক্ব রয়েছে, যে দায়িত্ব রয়েছে সন্তানের প্রতি, সে হক্বটা প্রত্যেক সন্তানের উচিত যথাযথ আদায় করা। অবশ্যই ভুলক্রটি মানুষ মাত্রই হবে। শুধরিয়ে নিবে, তওবা করবে, ইস্তেগ্ফার করবে এবং পিতা-মাতার জন্য দোয়া করবে ও দান খয়রাত করবে। (অসমাপ্ত)

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয ্যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য ৬১-৬১

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার  ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ: কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ: কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য