কারামত মুবারক (৩)
ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ ও ইখলাছের সাথে তা’লীম দিতেন। ছাত্ররাও গভীর মনোযোগ সহকারে তা’লীম গ্রহন করতেন।
একদিন তিনি তা’লীম দিচ্ছিলেন। এমন সময় একটি বিষধর সাপ উনার দিকে ধেয়ে আসছিল। একেবারে নিকটে চলে আসলো। কেউ কোন কথা বলার সাহস পেলেন না। ইমামুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রোব-এর কারণে কেউ কোন নড়াচড়া করার শক্তি পেলেন না। সাপটি উনার নিকটবর্তী হয়ে উনাকে পর পর ছয়বার ছোবল মারলো। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটুও নড়চড়া করলেন না। গভীর মনোযোগের সাথে তা’লীম মুবারক দিয়ে যাচ্ছিলেন। সপ্তমবার সাপটি গোসসা করে খুব জোড়ে ছোবল মারলো। ফলে সাপটিই মারা গেল। উপস্থিত শিক্ষার্থীগণ তা দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন। তা’লীম শেষে অত্যন্ত আদবের সাথে একজন শিক্ষার্থী বললেন, হুযূর বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আজকে একটি ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। এই সাপটি আপনাকে কামড় দেয়ার কারণে সাপটি নিজেই মারা গেল। তার কি কারণ? আমরা তো দেখেছি সাপ ছোবল মারলে সংশ্লিষ্ট লোকটি মারা যায়। অথচ আজকে ব্যতিক্রম দেখলাম।
ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, সাপটি আমাকে পর পর ছয়বার ছোবল মেরেছে। কিন্তু তার বিষ কোনভাবেই আমার শরীরের ভিতর প্রবেশ করাতে পারেনি। তাই ৭ম বার গোসসা করে খুব জোড়ে ছোবল মারার কারণে আমার ভিতরে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফাত মুহব্বতের যে তাছীর বা প্রভাব তা তার ভিতরে প্রবেশ করেছে, সাপটি তা বরদাশত বা সহ্য করতে পারেনি। ফলে সেই মারা গেছে। সুবহানাল্লাহ!
কারামত মুবারক (৪)
ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, ইমামুল মুহাদ্দিছীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন হাকিমুল হাদীছ। সমসাময়িক সকল ইমাম মুজতাহিদ আউলিয়ায়ে কিরাম উনাকে সকল বিষয়ের সমাধান দাতা বলে স্বীকৃতি দিতেন, জানতেন ও মানতেন। এমনকি সাধারণ লোকেরাও দুনিয়া ও উখরবী সকল বিষয়ের সঠিক সমাধান দাতা মনে করতেন উনাকে। একবার একজন লোক আসলেন উনার দরবার শরীফে। অত্যন্ত আযিযী ও ইনকেছারী (অনুনয়-বিনয়) করে আরজু করলেন, হুযূর বেয়াদবি ক্ষমা চাই। আমি কিছু রৌপ্য মুদ্রা আমার ঘরে পুতে রেখেছিলাম। কিন্তু কোথায় রেখেছি তা এখন মনে করতে পারছি না। আপনি দয়া করে বলে দিন, আমি সেই মুদ্রাগুলো ঘরের কোন স্থানে রেখেছি।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে ব্যক্তি! তোমার ঘরে তুমি মুদ্রা রেখেছ, আমি তা কিভাবে জানবো? লোকটি বললেন, হুযূর বেয়াদবি ক্ষমা চাই, আমরা বিশ্বাস করি আপনি সবই জানেন। সুবহানাল্লাহ!
আপনি দয়া করে আমার সাথে চলুন। দয়া করে দেখিয়ে দিন, কোথায় মুদ্রাগুলো রয়েছে। লোকটি ছিল নাছোড় বান্দা। কোনক্রমেই তাকে নিবৃত করা গেল না। পরিশেষে তিনি যেতে বাধ্য হলেন। লোকটির সাথে তার বাড়ীতে গেলেন। বাড়ির সীমানায় পৌছে এক স্থানের দিকে নির্দেশ করে বললেন, এ স্থান খুড়ে দেখ। খোড়ার সাথে সাথে দেখা গেল মুদ্রাগুলো চক চক করছে। সুবহানাল্লাহ!