উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ মা’ছূমুর রহমান

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة.

অর্থঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাঝে তোমাদের জন্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব/২১)

প্রসঙ্গতঃ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক দরবার শরীফ বা মজলিশ সমূহও উম্মতের জন্য শ্বাশত আদর্শ।

          সাইয়্যিদুল কাওনাইন, ফখরে মওজুদাত, সাইয়্যিদুল খলায়িকে ওয়াল বাশার, উসওয়াতুন হাসানাহ্, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ ছিল খুবই সাদাসিদে ও স্বাভাবিক।

          মজলিশে নববীতে আগমণকারীদের জন্যে কোন বাধা-ছিলনা। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্র, মহত্ব সকল মজলিশে সমুন্নত ও অচিন্তনীয় ভাব ধারণ করত। এ মজলিশে সরলতা, পবিত্রতা, নম্রতা এবং আদব ও শিষ্টাচারপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান ছিল। মজলিসে নববী রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরে নুবুওওয়তের জ্যোতিতে সমুদ্ভাসিত থাকত।

 হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশে যখন লোকজন বসে থাকত, তখন মনে হত যেন তাঁদের মাথার উপর পাখি বসে রয়েছে।” অর্থাৎ সকলেই তাঁর উপস্থিতিতে নিথর নিশ্চুপ থাকত। কথা-বার্তা বলার অনুমতির ক্ষেত্রেও তরতীবের প্রতি নজর রাখা হত।

          তাঁর মজলিশে দুনিয়াবী ধন-দৌলত, মান-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদি কারণে কাউকে প্রাধান্য দেয়া হতনা বরং তাক্বওয়ার আলোকে প্রাধান্য দেয়া হত। আর সর্ব প্রথম অভাবী লোকদের প্রতি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দৃষ্টি দিতেন। তাদের বক্তব্য শ্রবণ করে তাদের  প্রয়োজন পূরণে যত্নবান হতেন।

          প্রয়োজনের সময় কোন আরজকারী যখন সীমাতিক্রম করে যেত তখন তিনি ধৈর্য্যরে সাথে তা গ্রহণ করে নিতেন।

          মজলিশে যে বিষয়ে আলোচনা হত তিনিও সে বিষয়েই আলোচনায়  অংশ গ্রহণ করতেন। মার্জিত হাস্য-খুশিতেও তিনি অংশ গ্রহণ করতেন।  কখনো নিজেও আনন্দ দায়ক কথা-বার্তা বলে মজলিশের লোকদেরকে আনন্দ দিতেন।

          মজলিশে কোন সম্মানীত ব্যক্তি এলে তার যথাযথ সম্মান প্রদান করতেন। শারীরীক সুস্থতার কথা জিজ্ঞেস করে কারো কোন কথা, প্রয়োজন বা অভিযোগ আছে কিনা তা জিজ্ঞেস করতেন এবং একথাও বলতেন, যে ব্যক্তি নিজের অভিযোগ ও আবেদন আমার নিকট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনা, তোমরা তাদের সংবাদ আমার নিকট পৌঁছে দাও।

          মজলিশে কোন কিছু বিতরণ কালে ডানদিক হতে শুরু করা হত। অনুরূপভাবে কোন কাজ শুরু করতে চাইলে বিসমিল্লাহ্ বলে শুরু করা হত।

          দরবারে নববীতে প্রত্যেকেই বসার স্থান লাভ করত। আসন গ্রহণের ব্যাপারে কারো এরূপ ধারণা হতনা যে, অপরকে তার অপেক্ষা অধিক মর্যাদাপূর্ণ আসন দেয়া হয়েছে। উত্তম বিষয়ে কোন আলোচনা হলে তিনি তার প্রশংসা করতেন। আর কেউ কোন অসংলগ্ন কথা বললে তিনি তাকে বারণ করতেন।

          আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণকে এ ব্যাপারে নিষেধ করলেন যে, তাঁর নিকট যেন কারো শেকায়েত বা দোষ-ত্রুটি পৌঁছানো না হয়।  রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, “আমি চাই দুনিয়া হতে এমন অবস্থায় বিদায় নেই, যেন আমি পরিচ্ছন্ন, পরিস্কার এবং নির্মল।” (আবু দাউদ শরীফ)

          আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বয়ান পেশকালে কেউ কোন প্রশ্ন করলে তিনি বয়ান বন্ধ করতেন না। বয়ান শেষ হলে প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জাওয়াব দিতেন।

          প্রকাশ্য মজলিশের ফয়েজ ও বরকত সাধারণতঃ পুরুষদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতে মহিলাগণ পরিপূর্ণ ফায়দা হাসিলের সুযোগ কম পেতেন। এ কারণে মহিলাগণ তাদের জন্যে একটি দিন নির্দিষ্ট করার আরজী পেশ করলে তা কবুল করা হয়।

          সাধারণভাবে মজলিশের নির্ধারিত সময়টি ছিল সকালবেলা। ফজর নামাযান্তে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে পড়তেন। একই সাথে জারী হয়ে যেত রূহানী ফুয়ুজ ও বারাকাতের প্রস্রবণী স্রোতধারা। কোন কোন বর্ণনামতে জানা যায় যে, প্রত্যেক নামাযের পরই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুটা সময় বসতেন। সাথে সাথে তখনই মজলিশ বসে যেত।

          নামাযের পর যেসব মজলিশ হত, এতে ওয়াজ-নসীহত এবং মজলিশে উদ্ভূত প্রাসঙ্গিক কথা-বার্তার উপরও আলোচনা হত। এ সকল সময় ছাড়াও রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাস করে হাক্বায়েক ও মায়ারেফ অর্থাৎ অন্তর্নিহিত মর্ম ও পরিচয়ের সুত্রাবলী প্রকাশের জন্যও মজলিশ অনুষ্ঠান করতেন। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক দিন সাধারণ মানুষের জন্যে নির্দিষ্ট করে নিতেন।

          এসব মজলিশ যেহেতু আম জনতার কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে করা হত, এ জন্যে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একান্ত ইচ্ছা ছিল যে, সাধারণ মানুষ যাতে ফয়েজ ও বরকত থেকে মাহরূম না হয়। সে জন্যে যে সকল লোক মজলিশে হাজির হওয়ার পর এমনিতেই চলে যেত তিনি তাদের উপর খুবই নাখোশ হতেন।

          আখিরী রসূল,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এধরণের এক মজলিশে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের নিয়ে মসজিদে বসে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক এসে উপস্থিত হল। তাদের একজন মজলিশের জনগণের মাঝে একটুখানি খালি জায়গা পেয়ে তথায় বসে পড়ল। দ্বিতীয় ব্যক্তি মাঝখানে জায়গা না পেয়ে সকলের পিছনে গিয়ে বসল। তৃতীয় ব্যক্তি চলে গেল। আখিরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োজনীয় কথা শেষ করে বললেন, “এদের মাঝে একজন আল্লাহ পাকের কাছে আশ্রয় চেয়েছে, আল্লাহ পাকও তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয়জন লজ্জা পেয়েছে সুতরাং আল্লাহ পাকও তার প্রতি লজ্জা প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু তৃতীয় ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, আল্লাহ পাকও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ)

{দলীলঃ আলকুরআন, বুখারী শরীফ, আবু দাউদ, তিরমিযী, শামাইল-ই-তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাযাহ, আখলাকুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সীরাতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম}

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা

আন্ নাবীউস্ সালেহ্, ছহিবুল উসীলা, হায়াতুন্ নবী, রিসালতে পানাহ্, আকরামুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন,  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পর্শ ধন্য কিছু জিনিস মুবারকের বেমেছাল মর্যাদা ও ফযীলত প্রসঙ্গে