ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

সংখ্যা: ৯৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

          (ধারাবাহিক)

          যেমন, এর মেছালস্বরূপ বলা হয়, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণের শানে আল্লাহ্ পাক নাযিল করেছেন। উনাদের ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,

اتبعوا من لايسئلكم اجرا وهم مهتدون.

“তোমরা এমন ব্যক্তিদেরকে অনুসরণ কর, যারা কোন বিনিময় গ্রহণ করেননা; وهم مهتدون অথচ তারা হিদায়েত প্রাপ্ত।”

এটা নবীদের জন্য খাছ। সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণ বিনা বিনিময়ে, কোন কিছু গ্রহণ না করে, উনারা মানুষকে হিদায়েতের কথা বলেছেন। হিদায়েতের বাণী পৌঁছিয়েছেন, কোন বিনিময় গ্রহণ করেননি। এটা হচ্ছে নবীদের জন্য খাছ।

          এখন সেই আয়াত শরীফের উপর যদি কেউ আমল করে তাহলে তার আলাদা ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান বৃদ্ধি পাবে কোন সন্দেহ নেই। যেহেতু এটা সুন্নতে আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালাম। ঠিক এই আয়াত শরীফের মধ্যে যদিও খাছ করে হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। কিন্তু হুকুম আম। এর মধ্যে যে ছিফত, গুণসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে, যে ফযীলতগুলো বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলো যারা হাছিল করবে, তাদের জন্য আলাদা ফযীলত থাকবে। এখানে কি বলা হয়েছে? আল্লাহ্ পাক প্রথম বলেন,

ينساء النبى لستن كاحد من النساء.

“হে নবীর স্ত্রীগণ! আপনারা যারা রয়েছেন, তাঁরা অন্য কোন মহিলার মত নন।” তাহলে কেমন?

          এর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে অনেক কিছু। সংক্ষিপ্ত ও মূল বিষয় যেটা সেটা হচ্ছে, আল্লাহ্ পাক অন্যত্র ইরশাদ করেছেন,

وما كان لكم ان تؤذوا رسول الله ولا ان تنكحوا ازواجه من بعده ابدا ان ذلكم كان عند الله عظيما ان تبدوا شيئا او تخفوه فان الله كان بكل شئ عليما.

          আল্লাহ্ পাক এখানে ইরশাদ করেন,

وما كان لكم ان تؤذوا رسول الله.

“তোমাদের উচিত হবেনা, যিনি আমার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়া,

ولا ان تنكحوا ازواجه من بعده ابدا.

এবং উনার যারা স্ত্রী রয়েছেন, তাঁদেরকে উনার পর ক্বিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের কারো জন্য বিয়ে করা জায়েয নেই। ان ذلكم كان عند الله عظيما.

নিশ্চয়ই তোমাদের নবী যিনি আখিরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা, বিয়ের চিন্তা-ফিকির করা, এটা একটা কঠিন ব্যাপার। আল্লাহ্ পাক-এর কাছে এটা কঠিন ব্যাপার। সে চিন্তা করা তোমাদের ঠিক হবেনা।

ان تبدوا شيئا او تخفوه.

তোমাদের অন্তরে সেটা বা সে বিষয় পুশিদা থাকুক অথবা তোমরা প্রকাশ কর,

فان الله كان بكل شئ عليما.

নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক সে সমস্ত বিষয় অবগত রয়েছেন। অর্থাৎ তোমাদের অন্তরে যা কিছু চুপিয়ে রাখ অথবা প্রকাশ করে থাক সে সকল বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক অবগত রয়েছেন।”

          এই আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছিল কেন? এই আয়াত শরীফের শানে নুযূল সম্পর্কে বলা হয়, একবার কয়েকজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আসলেন আখিরী রসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে। এসে উনারা পরস্পর আলোচনা করতেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন আলোচনা করতেছিলেন যে, হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর বয়স অল্প। অন্য একজন বলতে ছিলেন যে, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় নেয়ার পর আমি হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে বিয়ে করবো, ইত্যাদি ইত্যাদি আলোচনা করতেছিলেন। ঠিক সে সময় আল্লাহ্ পাক নাযিল করলেন,

وما كان لكم ان تؤذوا رسول الله ولا ان تنكحوا ازواجه من بعده ابدا ان ذلكم كان عند الله عظيما.

“তোমাদের জন্য এটা কখনই জায়েয হবেনা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়া এবং উনার যারা স্ত্রী রয়েছেন তাঁদেরকে বিয়ে করা। আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় নেয়ার পর ক্বিয়ামত পর্যন্ত। এটা আল্লাহ্ পাক-এর কাছে খুব কঠিন বিষয়। সেটা তোমরা প্রকাশ কর অথবা চুপিয়ে রাখ;

فان الله كان بكل شئ عليما.

আল্লাহ্ পাক সে বিষয় জানেন। অর্থাৎ তোমরা অন্তরেও পোষণ করতে পারবে না, প্রকাশ্যেও বলতে পারবে না। কোন মতেই সে ধারণা পোষণ করতে পারবে না যে, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে তোমরা উনাদেরকে বিয়ে করবে।

          এরপর আল্লাহ্ পাক নাযিল করে দিলেন কি? আল্লাহ্ পাক নাযিল করে দিলেন,

النبى اولى بالمؤمنين من انفسهم وازواجه امهتهم.

“নিশ্চয়ই আখিরী রসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের কাছে তোমাদের নিজের  চাইতেও বেশী আপন, প্রিয়, ঘনিষ্ঠ এবং উনার যাঁরা স্ত্রী রয়েছেন তাঁরা হচ্ছেন তোমাদের মাতা। উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না।

কাজেই উনাদেরকে তো বিয়ে করা জায়েয হবেনা এবং বিয়ে করার কল্পনা, চিন্তা-ফিকির করাও জায়েয হবেনা।” যেহেতু উনারা হচ্ছেন, সমস্ত মু’মিনদের মাতা। সেটাই আল্লাহ্ পাক ঘোষণা করেছেন,

ينساء النبى لستن كاحد من النساء.

“হে নবীর স্ত্রীগণ! আপনারা যারা রয়েছেন, তাঁরা অন্য কোন মহিলার মত নন।”

          অন্য কোন মহিলাদের মত আপনারা নন। অন্যান্য মহিলাদের যে হুকুম-আহ্কাম রয়েছে আপনাদের হুকুম-আহ্কাম তার চাইতে পার্থক্য। আপনারা হচ্ছেন, সমস্ত মু’মিনদের মাতা। এটা আল্লাহ্ পাক পার্থক্য করে দিয়েছেন। হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাদের সম্পর্কে এবং এর পূর্বে আরো কিছু আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়েছে। সেটা অন্যান্য আমল-আখলাক সম্পর্কেও উনাদেরকে পার্থক্য করে দেয়া হয়েছে। উনাদের ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান উল্লেখ করা হয়েছে।

          এরপর আল্লাহ্ পাক উল্লেখ করেন, ان اتقيتن. যদি আপনারা পরহেযগারী ইখতিয়ার করে থাকেন, বা পরহেযগার হয়ে থাকেন। তাহলে পরহেযগার কাকে বলে, তাক্বওয়া কাকে বলে? হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনারা কতটুকু পরহেযগারী, কতটুকু তাক্বওয়া অবলম্বন করেছেন? উনাদের তাক্বওয়া সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেছেন, যেটা আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন,

يايها الذين امنوا اتقوا الله حق تقته ولا تموتن الا وانتم مسلمون.

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ পাককে ভয় করার মত ভয় কর। ইন্তিকাল করোনা খালিছ মুসলমান না হয়ে।”

          মুফাস্সিরীনে কিরাম বলেন, যখন আয়াত শরীফ নাযিল হয়ে গেল তখন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন। আল্লাহ্ পাক যে বললেন, “হে ঈমানদারগণ আল্লাহ্ পাককে ভয় করার মত ভয় কর। ইন্তিকাল করোনা খালিছ মুসলমান না হয়ে।”

          তখন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সত্যিই খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন যে, আল্লাহ্ পাক ঘোষণা করেছেন, “আল্লাহ্ পাককে ভয় করার মত ভয় কর।” حق تقته এখন আল্লাহ্ পাককে ভয় করার মতো ভয় সেটা কতটুকু, তার মেছদাক কি, তার কি নমুনা, তার কি স্তর, তার অবস্থা কি? সে চিন্তায় হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ খুবই চিন্তিত হয়ে গেলেন এবং আখিরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর হাক্বীক্বত কি, আমরা কতটুকু মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবো?”

মহান আল্লাহ পাক তিনি পরবর্তীতে আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন, فاتقوا الله مالستطعتم.

“মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর তোমাদের সামর্থ অনুযায়ী, মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা অনুযায়ী।”

পবিত্র আয়াত শরীফ যখন নাযিল হয়ে গেল। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদেরকে জানিয়ে দিলেন। উনারা জেনে ইতমিনান হলেন, যে প্রত্যেকেই উনার সামর্থ অনুযায়ী, সাধ্য অনুযায়ী ভয় করবে। (অসমাপ্ত)

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, ক্বাইয়্যূমুয যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজান, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহকাম

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার  ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন  শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ্ শরীফ উনাদের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

খলীফাতুল্লাহ,  খলীফাতু   রসূলিল্লাহ,  ইমামুশ  শরীয়ত  ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল  আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গাউছূল আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-  পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

খলীফাতুল্লাহ,  খলীফাতু   রসূলিল্লাহ,  ইমামুশ  শরীয়ত  ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল  আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গাউছূল আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-  পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম