ওয়াজ শরীফ: কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

সংখ্যা: ৯৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه ونعوذ بالله من شرور انفسنا ومن سيئات اعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلله فلا هادى له ونشهد ان لا اله الا الله وحده لاشريك له ونشهد ان سيدنا ونبينا وحبيبنا وشفيعنا ومولنا محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم. اما بعد : فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم. بسم الله الرحمن الرحيم. ان الله وملئكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما. اللهم صل على سيدنا ونبينا وحبيبنا وشفيعنا ومولنا محمد. صلى الله عليه وسلم.

          সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্য, যিনি আমাদেরকে এখানে হাযির হয়ে ওয়াজ-নছীহত শোনার তাওফিক দান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ ফরমান,

وذكر فان الذكر تنفع المؤمنين.

“হে আমার হাবীব! আপনি নছীহত করুন, নিশ্চয়ই আপনার নছীহতগুলো মু’মিনদের জন্য উপকারী।”

আর হাদীস শরীফে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ما جتمع قوم فى بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدا رسونه بينهم الا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملئكة وذكرهم الله فيمن عنده.

“যখন কোন এলাকার লোক আল্লাহ্ পাক-এর ঘরে অথবা কোন স্থানে একত্রিত হয়ে আল্লাহ্ পাক-এর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং পরস্পর দ্বীনী আলোচনা করে, তখন আল্লাহ্ পাক-এর রহ্মতের ফেরেশ্তারা তাদেরকে বেষ্টন করে নেন, আল্লাহ্ পাক-এর রহ্মত তাদের উপর ছেঁয়ে যায় এবং তাদের উপর আল্লাহ্ পাক-এর নিকট হতে শান্তি বর্ষিত হয় এবং স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশ্তাদের সাথে সেই মাহ্ফিলের লোকদের সম্পর্কে আলোচনা করেন।”

          এবং হাদীস শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়, “মাহ্ফিল যখন শেষ হয়ে যায়, সকল মানুষ চলে যায়, ফেরেশ্তারাও চলে যান আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে। আল্লাহ্ পাক-এর জানা থাকা সত্ত্বেও ফেরেশ্তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, “হে ফেরেশ্তারা! তোমরা কোথা হতে আসলে?” ফেরেশ্তারা বলেন, “আল্লাহ্ পাক! অমুক মাহ্ফিল হতে।” তখন আল্লাহ্ পাক জিজ্ঞাসা করেন, “তারা কি চেয়েছে এবং কি থেকে পানাহ্ চেয়েছে?” ফেরেশ্তারা বলেন, “আল্লাহ্ পাক! তারা আপনার সন্তুষ্টি চেয়েছে, জান্নাত চেয়েছে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চেয়েছে।” আল্লাহ্ পাক পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, “হে ফেরেশ্তারা! তারা কি আমাকে দেখেছে?” ফেরেশ্তারা বলেন, “না, তারা দেখেনি।” আল্লাহ্ পাক বলেন, “তারা কি জান্নাত-জাহান্নাম দেখেছে?” ফেরেশ্তারা বলেন, “না, তারা দেখেনি। যদি আপনাকে দেখতো তাহলে আপনার রেযামন্দী বা সন্তুষ্টির জন্য আরো বেশী কোশেশ করতো, আর জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলে জান্নাত বেশী বেশী তলব করতো এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ্ তলব করতো।” ইত্যাদি অনেক কথপোকথনের পর আল্লাহ্ পাক বলেন,

فاشهدكم انى قدغفرت لهم.

          “(হে ফেরেশ্তারা)! তোমরা সাক্ষী থাক, আমি এই মাহ্ফিলে যারা এসেছে, তাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করে দিলাম।” (সুবহানাল্লাহ্)

قال ملك من الملائكة فيهم فلان ليس منهم انماجاء لحاجة.

“তখন একজন ফেরেশ্তা বলেন, “আল্লাহ্ পাক! এ মাহ্ফিলে এমন একজন লোক ছিল, যে মূলতঃ ওয়াজ-নছীহত শুনার উদ্দেশ্যে আসেনি, সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তার কাজে। তখন দেখলো যে, এখানে মাহ্ফিল হচ্ছে, সে দেখার জন্য এখানে বসেছিল এবং লোকটা খুব বদ্কার, গুণাহ্গার, আপনি কি তাকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন?”

قال هم الجلساء لا يشقى جليسهم.

          “তখন আল্লাহ্ পাক বলেন, এই মাহ্ফিলে যে সমস্ত নেককার লোক এসেছিল, আমি সেই নেক্কারদের উছীলায় ঐ বদ্কারের গুণাহ্-খতাও ক্ষমা করে দিয়েছি।” (সুবহানাল্লাহ্)

এবার চিন্তা ফিকির করে দেখুন, ওয়াজ মাহ্ফিলের অর্থাৎ দর্স-তাদরীসের মাহ্ফিলের কত ফযীলত।

          প্রকৃতপক্ষে ওয়াজ মাহ্ফিল হচ্ছে সাকিনা হাছিলের মাহ্ফিল, রহ্মত, বরকত হাছিলের মাহ্ফিল, সর্বোপরি ওয়াজ মাহ্ফিল হচ্ছে নিজের গুণাহ্-খতা মাফ করার মাহ্ফিল। অতএব, খুব ধ্যান ও খেয়ালের সহিত শুনতে হবে আর শুনে মনে রেখে আমল করে খালিছ আল্লাহ্ওয়ালা হতে হবে। তাই আল্লাহ্ পাক বলেন, كونوا ربانين.

“তোমরা সকলেই আল্লাহ্ওয়ালা হয়ে যাও।” অর্থাৎ মাথার তালু হতে পায়ের তলা এবং হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত আল্লাহ্ পাক-এর মতে মত ও আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে পথ হতে হবে।

          আজকের ওয়াজ পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফযীলত-ফাযায়েল ও হুকুম-আহকাম ইত্যাদি সম্পর্কে। পর্দার ফাযায়েল-ফযীলত, হুকুম-আহ্কাম, গুরুত্ব-তাৎপর্য সম্পর্কে জানা প্রত্যেক বালেগ এবং বালেগা মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরযে আইন।

          হাদীস শরীফে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

بنى الاسلام على خمس شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله واقام الصلوة وايتاء الزكوة والحج وصوم رمضان.

          “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে পাঁচটা বিষয়ের উপর। সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ পাক ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। ছলাত বা নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ্ব সম্পাদন করা ও রমজান শরীফের রোযা রাখা।” অর্থাৎ কলেমা, নামায, রোযা, হজ্ব এবং যাকাত এই পাঁচটি প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য বিশ্বাস করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা দায়িত্ব-কর্তব্য।

এরপর বিশেষ করে পুরুষদের জন্য,

طلب كسب الحلال فريضة بعد الفريضة.

“হালাল কামাই করা, অন্যান্য ফরযের পরে ফরয।” এটা হচ্ছে পুরুষদের জন্য দায়িত্ব এবং কর্তব্য। আর মেয়েদের জন্য হচ্ছে,

الحجاب فريضة على النساء.

“মেয়েদের জন্য পর্দা করা ফরয।”

          অর্থাৎ কলেমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত আদায় করার পর পুরুষদের জন্য হালাল কামাই করা যেমন ফরয ঠিক মেয়েদের জন্যও কলেমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত ইত্যাদি আদায় করার পর তাদের জন্য আরেকটা ফরয সেটা হচ্ছে, পর্দা করা। মহিলারা যে সমস্ত পুরুষের মা-তাহ্ত বা অধীনে থাকবে সে পুরুষদের দায়িত্ব হলো সে মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن ابى سعيد الخدرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتقوا الدنيا واتقوا النساء فان اول فتنة بنى اسرائيل كانت فى النساء.

“হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, আখিরী রসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

فاتقوا الدنيا واتقوا النساء.

“তোমরা দুনিয়া থেকে সতর্ক থাক এবং সাথে সাথে মেয়েদের কাছ থেকেও সতর্ক থাক।”

فان اول فتنة بنى اسرائيل كانت فى النساء.

“নিশ্চয়ই বণী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের প্রথম যে ফিৎনা হয়েছিল সেটা মেয়ে সংক্রান্ত। কাজেই দুনিয়া থেকে যেমন সতর্ক থাকবে ঠিক তেমন মেয়েদের কাছ থেকেও সতর্ক থাকবে।” (অসমাপ্ত)

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৩)

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, ক্বাইয়্যূমুয যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজান, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহকাম