ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

সংখ্যা: ৯১তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

          আল্লাহ্ পাক সাক্ষী হয়ে নিজেই আয়াত শরীফে নাযিল করে দিলেন, “হে আমার আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! স্বয়ং আমি আল্লাহ্ পাক, আফযালুন্নাছ বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আর যিনি আমীনুল্লাহ্, আমীনুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবূ উবায়দা ইবনে জাররাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দ্বয়ের সাক্ষী।” (সূরা মুজাদালা/২২)

لاتجد قوما يؤمنون بالله واليوم الاخر يوادون من حاد الله ورسوله ولو كانوا اباءهم او ابناء هم او اخوانهم اوعشيرتهم اولئك كتب فى قلوبهم الايمان وايدهم بروح منه ويدخلهم جنت تجرى من تحتها الانهر خلدين فيها رضى الله عنهم ورضوا عنه اولئك حزب الله الا ان حزب الله هم المفلحون. لاتجد قوما يؤمنون بالله واليوم الاخر.

“আপনি পাবেন না তাদেরকে এ অবস্থায় যারা আল্লাহ্ পাক-এর উপর ঈমান এনেছে এবং পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে।”

يوادون من حاد الله ورسوله.

“যে আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে শত্রুতা রাখে, তাদের সাথে উনারা কখনই মুহব্বত রাখেন না। এমন অবস্থায় উনাদেরকে পাবেন না।

ولوكانوا اباءهم او ابناءهم او اخوانهم او عشيرتهم.

“যদিও উনাদের পিতৃস্থানীয় পিতা বা অন্য কেউ হয়ে থাকে অথবা সন্তানবর্গ তার সন্তানতুল্য কেউ হয়ে থাকে অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠি, ভাই যারা রয়েছে, তারা যদি হয়ে থাকে অথবা সম্প্রদায়ের কেউ যদি হয়ে থাকে, তারপরেও উনারা আত্মীয়তার কারণে আল্লাহ্ পাক এবং আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে যারা বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে তাদের সাথে কখনই মুহব্বত পোষণ করবেন না।” আল্লাহ্ পাক নিজেই সেই সাক্ষী হয়ে গেলেন এবং আরো বললেন,

اولئك كتب فى قلوبهم الايمان وايدهم بروح منه.

“এবং তারাই সেই সম্প্রদায় যাদের অন্তরের মধ্যে আমি ঈমানকে মহর মেরে দিয়েছি, যারা খালিছ ঈমানদার, মু’মিন এবং যাদেরকে আমি আমার গায়েবী মদদের দ্বারা সাহায্য করেছি।”

ويدخلهم جنت تجرى من تحتها الانهر خلدين فيها رضى الله عنهم ورضوا عنه.

“আল্লাহ্ পাক তাঁদেরকে সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যেই জান্নাতের নিচ দিয়ে নহর প্রবাহিত হয়ে থাকে, সেখানে তাঁরা অনন্তকাল ধরে থাকবেন এবং তাঁরা আল্লাহ্ পাক-এর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন এবং আল্লাহ্ পাক তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন।” তারাই হচ্ছেন,

اولئك جزب الله الا ان جزب الله هم المفلحون.

“তারা আল্লাহ্ পাক-এর খাছ দল। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক-এর মত ও পথে রয়েছেন এবং তাঁরাই কামিয়াব।”

          আল্লাহ্ পাক আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন। অর্থাৎ সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার হক্ব রয়েছে অনেক। সে হক্ব পিতা-মাতাকে যথাযথ আদায় করতে হবে। যদি সেখানে ত্রুটি হয়ে যায়, সন্তানের হক্ব আদায় না করে তাহলে তার প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলে দিয়েছেন। যেমন, মাতা দুধ পান করালে দুধ পান করানোর জন্য অনেক ফযীলত পাবেন, দুধ পান না করালে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। ঠিক পিতা সন্তানের হক্ব আদায় করবেন, করলে অনেক ফযীলত পাবেন। যদি ব্যতিক্রম করে থাকেন তাহলে সেটাও শরীয়তে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

تلك حدود الله فلا تعتدوا.

“ইহা আল্লাহ্ পাক-এর একটা নির্দিষ্ট সীমা। তোমরা সীমা লংঘন করোনা। কারণ যে সীমা লংঘন করে, আল্লাহ্ পাক তাকে পছন্দ করেন না।”

          কাজেই সন্তানের জন্য মাতার হক্ব রয়েছে, পিতার হক্ব রয়েছে। তার খেলাফ হলে মাতা এবং পিতাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কাজেই সেজন্য পিতা-মাতাকে সতর্ক থাকতে হবে এ বিষয়।

          এ প্রসঙ্গে বলা হয়, আল্লাহ্ পাক আয়াত শরীফে সন্তানের প্রতি পিতার হক্ব কতটুকু রয়েছে সে প্রসঙ্গে বলেন,

فانكحوا ماطاب لكم من النساء مثنى وثلث وربع فان خفتم الاتعدلوا فواحدة.

আল্লাহ্ পাক বলেন,

فانكحوا ماطاب لكم من النساء.

“তোমরা বিবাহ্ কর মেয়েদের থেকে যাকে পছন্দ হয় একজন, দুইজন, তিনজন, চারজন।”

فان خفتم الاتعدلوا فواحدة.

যদি তোমরা ভয় কর যে, তোমরা সমতা রক্ষা করতে পারবে না একাধিক বিবাহ্ করে, তাহলে একজনই কর। এটাই তোমাদের পরহেযগারী, তাক্বওয়ার নিকটবর্তী। দু’জন, তিনজন, চারজন বিবাহ্ করা আল্লাহ্ পাক পুরুষের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ্ পাক বলে দিয়েছেন, “যদি তোমরা একাধিক বিবাহ্ করে সমতা রক্ষা করতে না পার তাহলে একজনই কর।” এটাই তাক্বওয়া এবং পরহেযগারীর নিকটবর্তী। কারণ কেউ যদি একাধিক বিবাহ্ করে, একাধিক বিবাহ্ করার পর যদি সমতা রক্ষা করতে না পারে তাহলে হাশরের দিন সে অর্ধাঙ্গ হয়ে উঠবে। (নাউযুবিল্লাহ্) কঠিন অবস্থা। সে কারণে আল্লাহ্ পাক বলে দিয়েছেন, একাধিক বিবাহ্ করনা, যদি কর তাহলে সমতা রক্ষা করতে হবে। আর যদি সেটা করতে না পার তাহলে একাধিক বিবাহ্ করনা।

          এখন সন্তানকে পিতা বিবাহ্ করাবেন বা সন্তান বিবাহ্ করবে। এরপর সন্তানের যে হক্ব রয়েছে অর্থাৎ সে সন্তানকে বিবাহ্ করানোর পর সেই স্ত্রী কেমন হতে হবে? দ্বীনদার, পরহেযগার, আল্লাহ্ওয়ালী হতে হবে। যদি তার খেলাফ হয় এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এসেছে,

عن ابن عمر رضى الله تعالى عنه كان تحتى امرأة احبها كان عمر رضى الله تعالى عنه يكرهها وقال لى طلقها فابيت فاتى عمر رضى الله تعالى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له فقال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم طلقها.

“হযরত ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি জলিলুল ক্বদর ছাহাবী। যার প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পরে উনাকে খলীফা মনোনীত করা হোক। সেই জলিলুল ক্বদর ছাহাবী যিনি সুন্নতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। উনি বর্ণনা করতেছেন, كان تحتى امراة আমার একজন স্ত্রী ছিল احبها আমি তাকে মুহব্বত করতাম وكان عمر رضى الله تعالى عنه يكرهها কিন্তু আমার পিতা হযরত ওমর ইবুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাকে পছন্দ করতেন না। অর্থাৎ সেই মেয়েটাকে উনি পছন্দ করতেন না। فقال لى طلقها. আমাকে আমার পিতা বললেন, “তুমি তালাক দিয়ে দাও তোমার এই স্ত্রীকে। فابيت আমি অস্বীকার করলাম।

فاتى عمر رضى الله تعالى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له.

শেষ পর্যন্ত আমার পিতা হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসলেন। এসে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার ছেলে আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর সে একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে, সেটা আমার পছন্দ হয়না। আমি তাকে বলেছি, তালাক দিয়ে দেয়ার জন্য। সে তালাক দিচ্ছে না। আপনি বলে দিন যেন সে তালাক দিয়ে দেয়।

فقال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم طلقها.

তখন আমাকে আখেরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে বললেন যে, “হে আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর! তোমার পিতা তোমার যে স্ত্রীকে পছন্দ করেন না, তুমি সে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দাও।” আমি তালাক দিয়ে দিলাম। যেহেতু আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এখানে চু-চেরা, কিল-কাল করার কোন সুযোগ নেই। (অসমাপ্ত)

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুযযামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- উনার মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুযযামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর  ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয ্যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য ৬১-৬১

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার  ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ: কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য