ওয়াজ শরীফ: কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

সংখ্যা: ৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

          এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে যে আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান,

المرأة اذا حملت كان لها اجر الصائم و القائم والمخبت المجاهد فى سبيل الله والذا ضربت الطلق فلا تدرى الخلائق مالها من الاجر واذا وضعت كان لها بكل مصة او رضعة اجر نفس تحييها واذا افطمت ضرب الملك على منكبها وقال استأنفى الحمل.

আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, দেখ المرأة اذا حملت.

“যখন কোন মাতা হামেলদার হন” অর্থাৎ সন্তান সম্ভবা হয়ে যান, সন্তান ধারণ করেন তখন তাকে কতটুকু বদলা দেয়া হবে? মাতার ফযীলতটা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, কাকুতি-মিনতির সহিত আল্লাহ্ পাক-এর রাস্তায় জিহাদ করলে একটা লোকের যে ফযীলত ঠিক তদ্রুপ ফযীলত সে মাতাকে দেয়া হবে। (সুবহানাল্লাহ্)

كان لها اجر الصائم والقائم والمخبت المجاهد فى سبيل الله.

অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক-এর রাস্তায় জিহাদ করলে ও তার আনুসঙ্গিক কাকুতি-মিনতি সহকারে রাতভর নামায পড়ে, সারাদিন রোজা রেখে আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ মোতাবিক জিহাদ করলে যে ফযীলত, সেটা মাতা পাবেন।    واذا ضربت الطلق.

অর্থাৎ সেই সন্তানকে মাতা যখন প্রসব করবেন, তার নিকটবর্তী সময় যখন হয়ে যাবে।

فلاتدرى الخلائق مالها من الاجر.

কোন মাখলুকাত জানে না, তাদের জানা নেই, তাদের হিসেবে নেই সেই সন্তানকে ধারণ করার কারণে এবং তাকে প্রসব করা পর্যন্ত আল্লাহ্ পাক তাকে কত নেকী দান করবেন। সেটা আল্লাহ্ পাক ব্যতীত কোন মাখলুকাতের পক্ষে গণনা করে বা হিসেব করে শেষ করা সম্ভব নয়। (সুবহানাল্লাহ্)

          এত ফযীলত আল্লাহ্ পাক দান করবেন সেই মাতাকে। এরপর যখন আল্লাহ্ পাক-এর রসূল বললেন,

واذا وضعت كان لها بكل مصة او رضعة اجر نفس تحييها.

যখন সেই সন্তান জমিনে আসে এবং আসার পর যখন সে মাতার বুক থেকে দুধ চুষে চুষে পান করে। অর্থাৎ প্রতিটি ঢোকে সে বাচ্চাটা দুধ চুষে যতটুকু পান করতে পারে তাঁর প্রতি ঢোকে একটা মানুষ জিন্দা করলে যতটুকু ফযীলত বা একটা মানুষকে কোন বিপদ-আপদ থেকে অথবা কোন পানির পিপাসায় যে ইন্তিকাল করতেছে এ অবস্থায় তাকে পানি দিয়ে তার জানকে হিফাযত করলে যতটুকু ফযীলত ঠিক সেই মাতা ততটুকুই পাবেন। অর্থাৎ প্রত্যেক ঢোকে বা প্রতি চুমুকে দুধের সন্তান যা পান করবে তার বিনিময়ে মাতা তত মানুষ জিন্দা করার ফযীলত পাবেন। অর্থাৎ প্রতি চুমুকে বা প্রতি ঢোকে মাতা মানুষ জীবিত রাখার ফযীলত হাছিল করবেন (সুবহানাল্লাহ্)। এরপর বলা হয়েছে,

واذا افطمت ضرب الملك على منكبها وقال استأنفى الحمل.

যখন সে সন্তানকে মাতা দু’বছর দুধ পান করানোর পর দুধ পান শেষ করে দেন, তখন ফেরেশ্তাগণ আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে এসে সে মাতাকে বলতে থাকেন, ঠিক আছে তুমি আবার দ্বিতীয়বার সন্তান ধারণ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর। অর্থাৎ পূর্বে তোমার প্রতি যেমন রহমত করা হয়েছিল ঠিক সামনের বারও তদ্রুপ রহমত বর্ষণ করা হবে। (সুবহানাল্লাহ্)

          মাতাকে এত ফযীলত দেয়া হয়েছে কেন? একমাত্র কারণ মাতা সন্তানকে দুধ পান করাবেন, প্রত্যেক ঢোকে একটা মানুষকে জিন্দা করলে যতটুকু ফযীলত ঠিক সেই পরিমাণ ফযীলত মাতা হাছিল করবেন। (সুবহানাল্লাহ্)

          ঠিক তার বিপরীতও রয়েছে যে, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান,

ثم انطلق بى فاذا بالنساء تلحش ثديهن الحيات قلت مابال هؤلاء قيل هؤلاء يمنعن اولاد هن البنهن.

আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, ثم انطلق بى فاذا بالنساء.

আমি মিরাজ শরীফে যখন চলতেছিলাম, চলতে চলতে একস্থানে গিয়ে পৌঁছলাম, فاذا بالنساء যেখানে কিছু মহিলা রয়েছে تلحش ثديهن الحيات.

“যাদের বুকের মধ্যে, সিনার মধ্যে সাপ কামড়াচ্ছিল, قلت مابال هؤلاء.

আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “এই মহিলাদের কি হয়েছে? তাদেরকে কেন বুকের মধ্যে সাপ কামড়াচ্ছে?”

قيل هؤلاء يمنعن اولادهن البنهن.

যে ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই সমস্ত মহিলারা তাদের সন্তানদেরকে তাদের বুকের দুধ দান করতোনা বা দুধ দিতনা। যার কারণে সন্তান কষ্ট পেয়েছে বা অনেক অসুবিধা হয়েছে।

          মূল বিষয় হচ্ছে- আল্লাহ্ পাক-এর নির্দেশ ছিল সন্তানকে বুক থেকে দুধ পান করানো, সে আদেশ তারা পালন করেনি। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে, অবজ্ঞা করেছে, এহানত করেছে এবং খারাপ মনে করেছে, যার জন্য আজকে তাদের এই কঠিন শাস্তি হচ্ছে। (নাউযুবিল্লাহ্)

          কাজেই আল্লাহ্ পাক এত ফযীলত দিয়েছেন মাতাকে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কত ফযীলত, কত নেকী যে রয়েছে আল্লাহ্ পাক সেটা বেহ্তর জানেন। মানুষের সেটা জানা নেই। فلا تدرى الخلائق.

যেটা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন মাখলুকাত সেটা জানেনা। এরপরেও যখন সেই মাতা সন্তানকে দুধ পান করাবেন না তখন সেই মাতার কঠিন শাস্তি হবে।

এখন ফিকিরের বিষয়, চিন্তার বিষয়, যে পিতা-মাতার কতটুকু হক রয়েছে সন্তানের প্রতি আর সন্তানের কতটুকু হক রয়েছে মাতার প্রতি যা সহজেই অনুধাবনীয়।

          এ প্রসঙ্গে বলা হয়, একদিন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বর্ণনা করেন, এক মহিলা আসলো; তার সাথে দু’টি মেয়ে এসে তারা অভাবের কথা বললো, ক্ষুধার কথা বললো। বলার পর হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনি একাই ছিলেন, আখেরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেননা। উনি বললেন, “আমি তিনটা খেজুর তাদেরকে দান করলাম খাওয়ার জন্য। মাতাকে একটা দুই মেয়েকে দুইটা দিলাম, তারা খাবে।” হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বর্ণনা করতেছেন, “যখন দেয়া হলো, দুই মেয়ে দুইটা নিয়ে খেয়ে ফেলল। মাতাকে যেটা দেয়া হয়েছিল সেটা সে রেখে দিয়েছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা গেল দুই মেয়ে তার মার হাত থেকে সে খেজুরটাও নিয়ে নিল। যখন নিয়ে যাচ্ছিল মা সেটাকে দুই ভাগ করে, দুই সন্তানকে দিয়ে দিলেন।” যখন এই ঘটনাটা বলা হলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মাতা তার সন্তানের সাথে এই ব্যবহার করেছেন।” তখন আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে দেখ, “সেই মাতার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল।” (সুবহানাল্লাহ)

          কারণ সে নিজে না খেয়ে, তার ক্ষুধা সে না মিটায়ে সে তার সন্তানদেরকে দিয়ে দিল। সন্তানের যে হক সেটা সে পুরোপুরি আদায় করলো, যার জন্য তার জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। (সুবহানাল্লাহ্) (অসমাপ্ত)

ওয়াজ শরীফ: কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

সম্পাদকীয়

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য