খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র
খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির
ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবিক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়
যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি
(তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড)
কাদিয়ানী রদ! (১)
(পঞ্চম ভাগ)
(মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহ, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিযে হাদীস, মুফতীয়্যূল আযম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খ-ে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমীন)। এক্ষেত্রে উনার কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষায়র সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয়)।
মির্জ্জা ছাহেব প্রথমে বলিয়াছে-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“তফছির অতি উৎকৃষ্ট, ইনি মিষ্টভাষী, কুরআন শরীফ উনার নিগুঢ়তত্ত্ব খুব বর্ণনা করিয়াছেন, উহা অন্তর হইতে বাহির হইয়াছে এবং অন্তর সমূহে আছর করিয়া থেকে।”
যখন ডাক্তার আব্দুল হাকিম ছাহেব মির্জ্জা ছাহেবের মছিহ হওয়ার কথা নিজের তফছিরে লিখিয়াছিলেন, তখন মির্জ্জা ছাহেব উপরোক্ত প্রকার প্রশংসা করিয়াছিলেন, কিন্তু যখন তিনি উনাকে মিথ্যাবাদী ধারণা করিয়া তাহার কথা তফছির হইতে লোপ করিয়া দিলেন, সেই সময় মির্জ্জা ছাহেব ১৯০৬ সালের ৭ই জুন তারিখের ‘বদর’ পত্রিকায় লিখিয়াছেন-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“যদি আব্দুল হাকিমের পরহেজগারি টিক হইত, তবে সে কখনও তফছির লিখিবার নাম লইত না, কেননা সে উহার উপযুক্ত নহে, তাহার কুরআন শরীফ উনার তফছিরে একবিন্দু আত্মিক ভাব নাই, জাহেরি এলমে তাহার কোন অংশ নাই। আমি তাহার তফছির কখনও দর্শন করি নাই।”
মির্জ্জা ছাহেব ডাক্তার ছাহেবের তফছির না দেখিয়া দুই প্রকার ভিন্ন ভিন্ন মত কিরূপে প্রকাশ করিলেন?
(৮) হযরত মছিহ আলাইহিস সালাম উনার সম্বন্ধে মতভেদ- ‘হকিকাতোল-অহি’ ১৫০ পৃষ্ঠা :-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“আমি ইহাও দেখিতেছি যে, এবনো হযরত মরয়িম আলাইহাস সালাম হযরত মুছা আলাইহিস সালাম উনার শেষ খলিফা, আর আমি এই শ্রেষ্ঠতম রাসূল ও নবী উনার শেষ খলীফা,. এই হেতু খোদা ইচ্ছা করিয়াছেন যে, আমাকে তাঁহা অপেক্ষা কম না করেন।”
ইহাতে মির্জ্জা ছাহেব হযরত মছিহ আলাইহিস সালাম উনার তুল্য হওয়া দাবি করিয়াছেন। (অসমাপ্ত)
(ধারাবাহিক)
মুসলমানদের অন্য ধর্মে পরিবর্তিত করার নীতির প্রেক্ষিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অন্য ধর্মের প্রচারের সুযোগ সীমা লঙ্ঘন করতে পারেনা। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- পবিত্র সূরা মুবারক ৫; আয়াত শরীফ-৫৪-
يايها الذين امنوا من يرتد منكم عن دينه فسوف ياتى الله بقوم يحبهم ويحبونه اذلة على المؤمنين اعزة على الكفرين ….
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে নিজ ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে তিনি মুহব্বত করবেন এবং উনারা উনাকে মুহব্বত করবেন। উনারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-ন¤্র হবেন এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পথে জিহাদ করবেন এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবেননা। এটি মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রাচুর্য দানকারী মহাজ্ঞানী…।”
পবিত্র সূরা মুবারক ২; আয়াত শরীফ-২১৭-
ومن يرتدد منكم عن دينه فيمت وهو كافر فاولئك حبطت اعمالهم فى الدنيا والاخرة واولئك اصحب النار هم فيها خلدون.
অর্থ: “তোমাদের মধ্যে যারা নিজের ধর্ম থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সকল আমল নষ্ট হয়ে যাবে। আর তারা হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।”
এই প্রশ্নের দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই। কারণ এটা প্রত্যেক ধর্মেরই একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় যে, কোন ব্যক্তির ধর্ম পরিবর্তন করাকে সমধর্মীরা কখনও শত্রুতা ছাড়া কিছু মনে করেনি।
এই বিষয়ে একটি নজীর হলো- নিম্নবর্ণ হিন্দুদের সম্মিলিতভাবে ইসলাম গ্রহণে হিন্দু ও তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের বিরোধীতা। এটা যুক্তিসংগত কারণ যে, এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে অপসারণ, সেই ধর্মীয় সমাজ নানা অংশে বিভক্ত করার একটি শক্তি। কাদিয়ানীদের প্রচারমূলক বর্ণনায়ও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম থেকে কাদিয়ানী ধর্ম গ্রহণ করলো এবং পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে গেল উনাকে মুরতাদ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এটাই বিশ্বাস করতে হবে যে, অমুসলিমদের মত তাকেও জাহান্নামের আযাব ভোগ করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ!
এই অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা বলা মুশকিল যে, ইসলাম অমুসলিমদের মৌলিক অধিকার হিসেবে মুসলমানদের মধ্যে নিঃশর্তে তাদের ধর্ম প্রচারে কতটুকু ছাড় দেয়। ইসলামের ইতিহাসে এরকম নজির উল্লেখ করা হয়েছে যে, খলীফা বা বাদশাহদের দরবারে কোন ধর্ম অধিকতর ভাল তা ধর্মীয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে। মুসলিম এবং অমুসলিম ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা উক্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ঐ উদাহরণ সমূহদ্বারা মুসলমানকে অন্য ধর্মে পরিবর্তনের প্রচার অতীতের নজীর থেকে কার্যকর করা যাবেনা।
ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলমানদের মধ্যে অমুসলিমদের ধর্ম প্রচার বাস্তবায়নে যুক্তি বলিষ্ঠ করার প্রেক্ষিতে মিঃ মুজিবুর রহমান সরাসরি কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ বা ফতওয়ার উপর আস্থা সহকারে নির্ভর করেনি।
তিনি বলেন, কুরআন শরীফ অনুযায়ী ধর্ম প্রচার অবশ্য কর্তব্য এবং যা দ্বারা বুঝা যায় যে, অমুসলিমদেরও তাদের ধর্ম প্রচার অবশ্য কর্তব্য।
তিনি পবিত্র সূরা মুবারক ২ উনার ১৭০ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
واذا قيل لهم اتبعوا ما انزل الله قالوا بل نتبع ما الفينا عليه اباءنا اولو كان اباؤهم لايعقلون شيئا ولايهتدون.
অর্থ: “আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সেই হুকুমেরই আনুগত্য কর যা মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে, ‘কখনো নয়’ আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করবো যাতে আমাদের বাবা-দাদাদের দেখেছি, যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানতোনা, জানতোনা সরল পথও।” (অসমাপ্ত)