(পঞ্চম ভাগ)
(মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফোক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।
(ধারাবাহিক)
আরও উক্ত কেতাব, ১৪৬ পৃষ্ঠা :
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘আমি কখনও এরূপ দাবি করি নাই যে, আমিই মছিহ বেনে মরয়েম, যে ব্যক্তি এই দোষ আমার উপর আরোপ করে, সে স্পষ্ট অপবাদকারী ও মিথ্যাবাদী, বরং আমার পক্ষ হইতে সাত আট বৎসর হইতে অনবরত ইহা প্রচারিত হইতেছে যে, আমি ইছা আলাইহিস্ সালাম-এর মছিল হইতেছি- অর্থাৎ ইছা আলাইহিস্ সালাম-এর প্রকৃতির কতক রূহানি গুণ, স্বভাব চরিত্রাবলী খোদা আমার প্রকৃতির মধ্যে স্থাপন করিয়াছেন।’’
‘আঞ্জামে- আথাম’ ৫৯ পৃষ্ঠা :
الله الذى جعلك المسيح ابن مريم.
‘আল্লাহ তোমাকে মছিহ বেনে মরয়েম করিয়াছেন।’
‘হকিকাতোল-মছিহ’ ১৭৯ পৃষ্ঠা :
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘দ্বিতীয় কাফেরী যথা– সে ব্যক্তি প্রতিশ্রুত মছিহকে (মির্জ্জা ছাহেবকে) মান্য না করে এবং প্রমাণ পূর্ণ করার পরেও তাহাকে মিথ্যাবাদী জানে– যাহার মান্য করা ও সত্যবাদী জানা সম্বন্ধে খোদা ও রাছুল তাকিদ করিয়াছেন।’
মির্জ্জা ছাহেবের এইরূপ ভিন্ন ভিন্ন মতের মধ্যে কোন্টী সত্য?
(৭) ডাক্তার আবদুল হাকিম ছাহেবের তফছিরোল- কোর-আন বেল-কোর-আন সম্বন্ধে মির্জ্জা ছাহেবের ভিন্ন ভিন্ন মতঃ (অসমাপ্ত)
(ধারাবাহিক)
হাদীস শরীফে মসজিদকে মুসলমানদের এক শেয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যা আযানের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে মসজিদ ছিল সেখানে হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর কারণ মসজিদ ইসলামের একটি স্পষ্ট লক্ষণ (Shiaar- شعار) যে ব্যক্তি এখানে নামায আদায় করে তাকে মুসলমান ধরে নেয়া হয় যদি অন্য কিছু প্রমাণ না হয়।
নিম্নে উল্লেখিত আয়াতসমূহ উপরোক্ত সমস্যার সমাধানঃ সূরা-৯, আয়াত শরীফ-১৭
ما كان للمشركين ان يعمروا مسجد الله شهدين على انفسهم بالكفر اولئك حبطت اعمالهم وفى النار هم خلدون.
অর্থঃ-“ মুশরিকরা যোগ্যতা রাখেনা আল্লাহ্ পাক-এর মসজিদ আবাদ করার। যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ এবং এরা স্থায়ীভাবে আগুনে বসবাস করবে।”
সূরা- ৯, আয়াত শরীফ নং ১৮
انما يعمر مسجد الله من امن بالله واليوم الاخر واقام الصلوة واتى الزكوة ولم يخش الا الله فعسى اولئك ان يكونوا من المهتدين.
অর্থঃ- “নিঃসন্দেহে তাঁরাই আল্লাহ্ পাক-এর মসজিদ আবাদ করবেন যারা ঈমান এনেছেন আল্লাহ্ পাক-এর প্রতি এবং কায়েম করেছেন নামায ও আদায় করেছেন যাকাত। আর আল্লাহ্ পাক ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করেননি। অতএব আশা করা যায় তারা হিদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবেন।”
একটি মত পার্থক্য আছে যে, কাফির বা মূর্তিপূজকরা মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে কিনা এবং তাতে প্রবেশ করতে পারবে কিনা? মসিজদ নির্মাণের প্রশ্নে গ্রহণীয় মত হল যদিও কাফির দ্বারা নির্মিত হয়, এটা মুসলমানদের ইবাদত করার উপযোগী করে তৈরী করতে হবে। তবে মসজিদে প্রবেশাধিকার সম্বন্ধে মত পার্থক্য রয়েছে। মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাব মতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। শাফী মাযহাব মতে প্রবেশাধিকার আইনানুগ ব্যবস্থাপনার অনুমতি সাপেক্ষ্য তবে মসজিদুল হারাম ব্যতীত। হানাফী মাযহাব মতে, মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে।
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুনাফিকদের মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “এক শুক্রবার আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নসীহত করছিলেন তখন কিছু লোককে তাদের নাম ধরে ডেকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে আদেশ দেন। কারণ তারা ছিল মুনাফিক।” (Hypocrites) (রুহুল মায়ানী, আলুসি, ভলিউম-২ পৃষ্ঠা/১০)
খ্যাতিমান কাদিয়ানী স্যার জাফরউল্লাহ্ খানের মতানুযায়ী এই আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। সে বলেছে, “যদি আহমদীরা কাফির হয় তবে মসজিদের সাথে তাদের সম্পর্ক নেই।” (তাহদিস-ই-নিয়ামত/১৬২)
সে সঠিক প্রস্তাবই পেশ করেছিলেন। অর্ডিনেন্সটিও তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ নাম করণ বা বলা থেকে বিরত করেছে। এটা শরীয়ত অনুযায়ী অবৈধ নয়। বরং এটা শরীয়তের উদ্দেশ্যকে অগ্রসর করায়। মুসলমানদের অন্য ধর্মে পরিবর্তিত করার নীতির প্রেক্ষিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অন্য ধর্মের প্রচারের সুযোগ সীমালঙ্ঘন করতে পারেনা। (অসমাপ্ত)