কাদিয়ানী রদ! (১)

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

(পঞ্চম ভাগ)

          (মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরতুল আল্লামা মাওলানা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।

(ধারাবাহিক)

(৬) হজরত ইছা আলাইহিস্ সালাম-এর নাজিল হওয়া সম্বন্ধে মতভেদঃ-

          ‘বারাহিনে-আহমদীয়া’ ৪৯৮/৪৯৯ পৃষ্ঠা:

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

‘‘তিনিই নিজের রাছুলকে হেদাএত ও সত্য দীনের সহিত এই হেতু প্রেরণ করিয়াছেন যে, তিনি উহাকে সতস্ত দীনের উপর পরাক্রান্ত করেন।’’

          এই আয়ত বাহ্যিক ও রাজনৈতিক ভাবে হজরত মছিহ আলাইহিস্ সালাম সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী স্বরূপ। দীন ইছলামের যে পূর্ণ পরাক্রমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে, উক্ত পরাক্রম মছিহ আলাইহিস্ সালাম কর্ত্তৃক প্রকাশিত হইবে, আর যখন হজরত মছিহ আলাইহিস্ সালাম দ্বিতীয় বার এই দুন্ইয়াতে আগমন করিবেন, তখন তাঁহার সমস্ত অঞ্চলে দীন-ইছলাম বিস্তৃত হইয়া পড়িবে।’’

          আরও উক্ত কেতাব, ৫০৫ পৃষ্ঠা:

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

‘‘হজরত মছিহ আলাইহিস্ সালাম অতিশয় পরাক্রমের সহিত দুন্ইয়াতে নাজিল হইবেন, সমস্ত পথকে কন্টক ও আবর্জ্জনা হইতে পরিষ্কার করিবেন, অহিত ও অন্যায় কার্য্যরে চিহ্ন মাত্র থাকিবেনা এবং আল্লাহ্তায়ালার পরাক্রম কোপের তাজাল্লি দ্বারা ভ্রান্তির বীজকে বিলুপ্ত করিয়া দিবেন।’’ (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক

কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)

অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক

(ধারাবাহিক)

          বহু ইশ্বরবাদী বা মূর্তি পূজকদের কাবা ঘরের নিকটে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হত। আল্লাহ্ পাক-এরই পবিত্র আদেশ বাস্তবায়নের জন্য একখানা হাদীস শরীফও রয়েছে যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মক্কা শরীফে পাঠিয়েছিলেন অমুসলিমদের হজ্ব পালনে নিষেধ করার আদেশ নামা জারীর জন্য।”

          এ আদেশ নামা মূর্তি পূজকদের কাবা ঘরের পূজা করার নিষেধাজ্ঞা। যা প্রভেদ করার চিহ্ন এবং পবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ নামা ছিল, হজ্বের সাথে তাদের প্রভেদকারী। (দেখুন, তাফহীমূল কুরআন, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ১৮৬, নোট ২৫)

          সুতরাং এটা থেকে সুস্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত করা যায় যে, ইসলামের কোন প্রভেদকারী চিহ্ন, কোন অমুসলিমের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি নেই। কেননা, শেয়ার অর্থ একটি সমাজের ব্যবহৃত প্রভেদকারী চিহ্ন যা দ্বারা কোন সমাজকে চেনা যায়। যদি কোন মুসলিম রাষ্ট্রে ক্ষমতা পেয়েও অমুসলিমদের ইসলামি শেয়ার ব্যবহারে সম্মতি দেয়া হয়। যা মুসলিম উম্মাহ্র প্রভেদকারী বৈশিষ্ট্য প্রভাবন্বিত করে তবে তা ঐ রাষ্ট্রের জন্য কর্তব্য কাজ সম্পাদন ব্যর্থতা। কোন ইসলামী রাষ্ট্রে কোন অমুসলিমকে ইসলামী শেয়ার ব্যবহার করতে দেয়া ইসলামী শেয়ারের সাথে অবৈধ আচরণের শামীল এবং এর নিষেধাজ্ঞার কারণ আরও জোরালো।

          উপরোল্লিখিত আয়াত শরীফ (৯ঃ২৮) এবং পরবর্তীতে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুশীলন প্রমাণ করে, ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের ইসলামী শেয়ার গ্রহণে বিরত রাখার, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতার। কারণ এই যে, ইসলামী রাষ্ট্রে কোন অমুসলিম যদি মুসলিম শেয়ার ব্যবহারে বিরত না হয় তবে তাকে শাস্তির বিধান আইন প্রণয়নকারী পরিষদের রয়েছে।

          মিঃ মুজিবুর রহমান নিম্নে লিখিত পয়েন্টগুলি উল্লেখ করে।

          (১) যদি আযান ইসলামের একটি শেয়ার (পার্থক্যকারী চিহ্ন) হয় এবং যদি একই শেয়ার অমুসলিমদের মধ্যেও থাকে, তবে কি এর ব্যবহার অমুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ করা যাবে?

          (২) কালিমাতিন সুওয়াইন সম্বন্ধে অধ্যাদেশের আলোকে, এটা কি জরুরী যে মুসলমান ও অমুসলমান উভয়ে এতে যোগদান করবে?

          (৩) যাই হোক না কেন احسن اقول (সব চেয়ে মধুর উচ্চারণ) বলাকে কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ গন্য করা যাবে?

          এই সকল সুওয়ালের জাওয়াব পূর্বেই দেয়া হয়েছে এবং এখন প্রধান প্রধান বিষয়গুলো  সংক্ষেপে বলা যেতে পারে। ৯ নম্বর সূরা ২৮ নম্বর আয়াত শরীফের আলোকে এবং এটা থেকে যে অধ্যাদেশ জারী হয়েছে তা দ্বারা মুসলমানদের সাথে মিল রয়েছে তেমন  শেয়ার আমল করা থেকে অমুসলিমদের বিরত করা যেতে পারে। কালিমাতিন সুওয়াইন ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে, কিন্তু প্রথম সুওয়ালের জাওয়াবের প্রেক্ষিতে  এর কোন প্রয়োজন নেই। যা হোক এখানে জোড়ালোভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে যদিও পূর্বে অবিশ্বাসীরা তাওয়াফ করত, কিন্তু খানায়ে ক্বাবা মুসলমানদের অধিকারে আসার পর তাদের (অবিশ্বাসী) তাওয়াফ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। এটা স্থিরকৃত যে কোন অমুসলিমের আযান احسن اقول (সবচেয়ে মধুর উচ্চারণ) হবে না এবং প্রথম সুওয়ালের জাওয়াবের প্রেক্ষিতে সেই ব্যক্তিকে উক্ত শেয়ার আমল করা থেকে নিবৃত্ত করা  যাবে এবং অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করার জন্য তার শাস্তির আদেশ দেয়া যাবে।

          কাদিয়ানীরা যখন কাদিয়ানে তখন তাদের আচরণ ছিল অন্য রকম এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কিছু প্রভাও ছিল। কাদিয়ানীরা মুসলমানদের নিজেদের মসজিদে আযান দেয়া থেকে বিরত করেছিল।   (আহরার) কিছু স্বেচ্ছাকর্মীকে কাদিয়ানের মুসলিম মসজিদে আযান দেয়ার জন্য পাঠিয়ে ছিলেন, কিন্তু কাদিয়ানীরা লাঠি দিয়ে তাদের আক্রমণ করে এবং প্রত্যেককে বড় রকম জখম করে এবং তাদেরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকতে হয়। (তাহরিক-ই-খাতাম-ই-নবুয়াত ১৮৯১-১৯৭৪, লেখক শরিশ কাশ্মিরী, পৃঃ৭৮)

          এরূপ করতে পারত একমাত্র বৃটিশ শাসনামলে পশু সুলভ আচরণ সম্পন্ন সৈন্যবাহিনী। এটা একটি নমুনা। আযানকে তারা তাদের শেয়ার মনে করে। মুসলমানদের জন্য আমল অবৈধ স্থির করেছিল। তারা মনে করেছে এটা অনুস্মরণীয় এবং ক্ষমতাসীন সংখ্যাগরিষ্ঠর এরূপ প্রতিহত করা আইনানুগ। (অসমাপ্ত)

কাদিয়ানী রদ!

(কাদিয়ানী রদ!)

কাদিয়ানী রদ! (১)

কাদিয়ানী

খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবিক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) (তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড)