(পঞ্চম ভাগ)
(মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফোক্বাহা, রইছুল মোহাদ্দিসীন, তাজুল মোফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন (রঃ) কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।
(ধারাবাহিক)
‘হামামাতোল-বোশরা, ১৮ পৃষ্ঠা ঃ-
بل أخرته الى عشر سنة بل زدت عليها وكنت لحكم واضح وأمر صحيح من المنتظرين-
‘মছিহ (আঃ) এর ফওম, তাঁহার নাজিল না হওয়ার এবং আমার মছিহ (আঃ) এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার এলহাম আমি দশ বৎসর বা তদধিক কাল মোলতুবি রাখিয়াছিলাম এবং স্পষ্ট হুকুমের অপেক্ষায় ছিলাম।’
‘এজালায়-আওহাম, ১৯১ পৃষ্ঠা ঃ-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘আমার পক্ষ হইতে এই দাবি নহে যে, আমার উপর মছিহিএত শেষ হইয়াছে এবং ভবিষ্যতে কোন মছিহ আসিবে না, বরং আমি ইহা মান্য করিয়া থাকি এবং বারম্বার বলিয়া থাকি যে, এক কেন দশ সহস্রের অধিক মছিহ আসিতে পারে। ইহাও সম্ভব যে, বাহ্য পরাক্রম ও সামর্থের সহিত আসিতে পারেন এবং ইহাও হইতে পারে যে, তিনি প্রথমে দেমাস্কে নাজিল হইবেন।’’
উক্ত কেতাব, ১৪৯/১৫০ পৃষ্ঠা ঃ-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘আমি কেবল মছিলে-মছিহ হওয়ার দাবি করিয়াছি। আমার ইহাও দাবি নহে যে, মছিলে-মছিহ হওয়া কেবল আমার উপর শেষ হইয়াছে, বরং আমার নিকট ইহাও সম্ভব যে, ভবিষ্যতে আমার তুল্য দশ সহস্র মছিলে-মছিহ আগমন করেন। ইহাও সম্পূর্ণ সম্ভব যে, কোন সময় এরূপ কোন মছিহ আগমন করেন- — যাহার উপর হাদিছ সমূহের স্পষ্ট শব্দগুলি খাপ খাইতে পারে, কেননা এই অক্ষম এই দুন্ইয়ার হুকুমত ও বাদশাহির সহিত আগমন করে নাই, ফকিরি ও দরিদ্রতার পরিচ্ছদে আগমন করিয়াছে। ইহাও সম্ভব যে, কোন সময় আলেমগণের এই উদ্দেশ্য পূর্ণ হইয়া যায় অর্থাৎ হাদিছগুলির স্পষ্ট শব্দ সমূহের অনুপাতে বাদশাহও শাসনকর্ত্তা মছিহ আগমন করেন।’ (অসমাপ্ত)
ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক
কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)
অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক
(ধারাবাহিক)
কাদিয়ানীদের উপাসনালয়কে মসজিদ বলার নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মিঃ মুজিবুর রহমান যুক্তি দেখায় যে কুরআন শরীফ অনুযায়ী মসজিদ শব্দটি শুধুমাত্র মুসলমানদের উপাসনালয়কে বুঝায়না। এখন বরং যারা অমুসলিম তাদের উপাসনালয়কেও বুঝায়। যখন প্রশ্ন করা হল যে, গত ১৪০০ বছর মুসলমান ছাড়া অন্যান্যদের উপাসনালয়কে কি মসজিদ নামে অভিহিত করা হয়েছে?” জাওয়াবে তিনি ‘না’ বলেছেন। কিন্তু কিছু দিন পর তিনি বলেছেন যে, “করাচিতে ইহুদীদের একটি উপাসনালয় আছে, তাতে নাম লিখা আছে মসজিদ-ই-বণী ইসরাইল।” তিনি আলোকচিত্র প্রদর্শন করেন। আলোক চিত্রতে বুঝা যায় যে, তা একটি সাইনাগগ (ঝুহধমড়মঁব); কিন্তু এটাও লক্ষণীয় যে, কেউ অনুবাদ করে মসজিদ-ই-বাণী ইসরাইল লিখেছে। এরূপ নাম ইহুদীদের মধ্যে প্রচলিত নয়।
প্রশ্ন হতে পারে। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যারা অনুসারী নয় তাদের উপাসনালয়কে কুরআন শরীফে কি মসজিদ বলা হয়েছে? প্রশ্নটি অবান্তর। শুরু থেকেই ইসলামই একমাত্র পবিত্র ধর্ম। হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম থেকে শুরু করে যদি মসজিদ শব্দটি অন্য কোন নবীর উম্মতের জন্য এবং তৎকালীন ইসলাম ধর্মে অনুসারীদের উপাসনালয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাতেও সিদ্ধান্ত হয়না যে অমুসলিমদের উপাসনালয়কে মসজিদ নাম দেয়া হয়েছিল। বাস্তব ও সত্য যে বিগত ১৪০০ বছরে এই নামে শুধু মাত্র মুসলমানদের মসজিদই বুঝিয়েছে। বাস্তবিক পক্ষে রীতিগতভাবে শুধুমাত্র মুসলমানরা নিজেদের উপসনালয়কে মসজিদ নামে অভিহিত করে আসছে।
পবিত্র কুরআন শরীফে মসজিদ শব্দটি আভিধানিক অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেই শব্দটি প্রয়োগগতভাবে মুসলমানদের উপাসনালয়কেই বুঝায় (দেখুনঃ আল-আলাকত-উল-দুওয়ালিয়া ফিল ইসলাম পৃষ্ঠা- ২১২) এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদগাও মসজিদ নয়।
সূরা ২২ এর ৪০ নং আয়াত শরীফ উল্লেখ্য যা নিম্নরূপঃ-
الذين اخرجوا من ديارهم بغير حق الا ان يقولوا ربنا الله ولو لادفع الله الناس بعضهم ببعض لهدمت صوامع وبيع وصلوت ومسجد يذكر فيها اسم الله كثيرا ولينصرن الله من ينصره ان الله لقوى عزيز.
অর্থঃ- “যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ্ পাক। আল্লাহ্ পাক যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন। তবে, নির্জন গির্জা, ইবাদতখানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত। যে গুলোতে আল্লাহ্ পাক-এর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ্ পাক নিশ্চয়ই তাঁদেকের সাহায্য করবেন। যারা আল্লাহ্ পাক-এর সাহায্য করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক পরাক্রমশালী, শক্তিধর।”
সকল উপাসনা স্থান সমূহের জন্য যে পবিত্রতা সংযোজিত, সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে যুক্তি পেশ করেন, যে কোন ব্যক্তিকে তার উপাসনালয়কে মসজিদ বলা থেকে বিরত করা যায়না। এটা অবশ্য কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যাখ্যা করেছেন, উপাসনালয় সমূহের যে নামকরণ করা হয়েছে তন্মধ্যে আশ্রম, মঠ, গির্জা ও বক্তৃতাস্থান উপাসনা স্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং সন্নাসীদের আশ্রম বা মঠ অমুসলিমদের উপাসনালয় এবং মসজিদ শব্দটি শুধু মুসলমানদের ইবাদত স্থানের ইঙ্গিত বহন করে। (আহকামুল কুরআন ভলিউম-১২, পৃষ্ঠা-৭২)
যদি ধরে নেই যে মসজিদ শব্দটি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাবের পর যারা অমুসলিম ছিল তাদের উপাসনালয়কে নাম করণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এটাও স্বীকার করতে হবে যে মসজিদ শব্দটি কেবল ঐ সময়ের মুসলমানদের ইবাদত স্থান সমূহের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। (অসমাপ্ত)