(পঞ্চম ভাগ)
(মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।
(ধারাবাহিক)
মির্জ্জা ছাহেব ইংরাজি ১৯০৬ সালের ২০ শে জুলাই তারিখে পীর মেহের আলী শাহ ছাহেবের নামে যে পত্র লিখিয়াছিলেন, তাহাতে তিনি লিখিয়াছেনঃ- لعنة الله على من تخلف عنا وابى.
‘যে ব্যক্তি আমরা বিরুদ্ধাচারণ ও এনকার করে, তাহার উপর খোদার লা’নত হউক।’
ইংরাজি ১৮৯৯ সালের ২৪ শে অক্টোবর তারিখের আল-হাকাম পত্রিকায় লিখিত আছেঃ-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘মির্জ্জা ছাহেবের এলহাম স্পষ্ট দলীল, স্পষ্ট দলীলের এনকারকারীরা কাফেল। অদ্য চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারম্ভে আল্লাহ তায়ালার রাছুল তাহার পক্ষ হইতে লোকদিগের জন্য রহমত ও বরকত স্বরূপ, হাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার রাছুলকে না মানিবে, যে অধোমস্তকে জাহান্নামে পতিত হইবে।’
মির্জ্জা ছাহেবের প্রথম খলিফা মৌলবি নুরদ্দিন ছাহেব ১৯০৮ সালের ৭ই আগষ্ট তারিখের আল-হাকাম পত্রিকায় লিখিয়াছেনঃ-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘যদি কেহ তাঁহার (মির্জ্জা ছাহেব) সম্বন্ধে সন্দেহ করে, তবে সে কাফের হইবে, কিনা সন্দেহে তার স্থান জাহান্নাম হইবে।’’
তিনি লাহোরের আহমদিয়া বিল্ডিংয়ে যে লেকচার দিয়াছিলেন, তাহাতে বলিয়াছিলেনঃ-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘মির্জ্জা ছাহেব প্রতিশ্রুত মছিহ ছিলেন, তাহার এনকারকারী কাফের। মির্জ্জা ছাহেব রাছুল ছিলেন, তাহার এনকারকারী কাফের।’’
মির্জ্জা ছাহেবের পুত্র ও দ্বিতীয় খলিফা মির্জ্জা মাহমুদ ছাহেব আনওয়ারে-খেলাফতের ৯০ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেনঃ-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
‘‘আমাদের পক্ষে ফরজ হইয়াছে যে, আমরা আহমদী ব্যতীত অন্যান্য লোকদিগকে মুসলমান ধারণা না করি এবং তাহাদের পশ্চাতে নামায না পড়ি।’’ (অসমাপ্ত)
(ধারাবাহিক)
হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হওয়ার জন্য জরুরীভাবে বিবেচনার বিষয় বা শর্ত যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অবশ্যই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমমুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাক্ষাত পেয়েছিলেন ও ঈমানের সাথে ইন্তিকাল করেছেন ঈমানের সাথে কিন্তু ঈমানহীনভাবে নয়।
অন্যন্য লক্ববগুলি হলো, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন। এই তিনটি লক্ববে মু’মিনীন ও মুসলিমীন শব্দ রয়েছে। যার অর্থ মুসলমান (ঈমানদার) স্পষ্টতই শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য প্রজোয্য। এটা সকলেরই জানা যে, সর্বোচ্চ কর্মকর্তার একটি গুণ অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। যদিও তাকে প্রেসিডেন্ট বলা হোক বা প্রধানমন্ত্রী বলা হোক বাদশাহ্, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হোক।
হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খলীফাতু রসূলিল্লাহ্ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। যদিও প্রত্যেক মানুষই খলীফাতুল্লাহ্ (পৃথিবীতে আল্লাহ্ পাক-এর প্রতিনিধি) কিন্তু হযরত আবু কবর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খলীফাতু রসূলিল্লাহ্ উপাধি ধারণ করেছিলেন। যথন দ্বিতীয় খলীফা খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি ভেবেছিলেন, তিনি নিজেকে খলীফাতু রসূলিল্লাহ্ নামে অভিহিত করবেন। যার অর্থ হবে, তিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উত্তরাধিকারীর উত্তরাধিকারী। কিন্তু তিনি এটাও অনুধাবন করেছিলেন যে, খলীফা (প্রতিনিধি) শব্দটি প্রত্যেক স্থলাভিষিক্ত প্রশাসকের উপাধির সাথে যোগ করা হলে উহা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। সেজন্য হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমীরুল মু’মিনীন উপাধি ধারন করেন। (ইসলাম-কা-নিজামে হুকমত/২৪৪-২৪৫)
আমীরুল মু’মিমীন বা খলীফাতুল মুসলিমীন বা খলীফাতুল মু’মিনীন এগুলি উপাধিতে পরিণত হলে এবং একচেটিয়াভাবে মুসলমান শাসকরাই ব্যবহার করেছে। কোন মুসলমানই এটা পছন্দ করেব না যে, এই উপাধি কোন অমুসলিম বা মুসলিম উম্মাহ্ থেকে খারিজ ব্যক্তি এটা ব্যবহার করুক। এই অডিনেন্সটি জারী করা হয়েছে এ কারণে বিশেষভাবে এ সকল উপাধি ও লক্বব কাদিয়ানীদের ব্যবহারের বিরূদ্ধে মুসলমানদের বিরোধীতার জন্য।
মিঃ মুজিবুর রহমান যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন যে, অনেক সূফী, দরবেশের জন্য রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু লক্বব ব্যবহার করা হয়েছে। এবং আরো বলেন, “আমীরুল মু’মিনীন লক্ববটি ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জন্য ব্যবহার করা হয়। তাঁকে বলা হয় আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীস। এবং হায়দারাবাদের নিজামের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। একজন দরবেশের মহিলা শিষ্যদের জন্য উম্মুল মু’মিনীন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই যুক্তিগুলি সঠিক বিষয় থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের বা সূফীদের জন্য আকস্মিকভাবে এই পরিভাষা ব্যবহারের কোন আপত্তি করা হয়নি। কেননা যাঁদের জন্য এটা ব্যবহার করা হয়েছে তাঁরা মুসলিম উম্মাহ্র অন্তর্ভূক্ত এবং তাঁরা অবিশ্বাসীও নয়। দ্বিতীয়তঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লীল আলামীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যঙ্গ করার জন্য এটা করা হয়নি। তৃতীয়তঃ এই উদাহরণগুলি ছিল আকস্মিক।
কাদিয়ানীদের এই সকল অভিব্যক্তি ব্যবহারের ভিত্তি মূরতঃ মির্জার নিজেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুপ্ত বিষয়াদির প্রকাশক দাবী এবং তাঁর সম্বন্ধে অভিযোগে বর্ণিত আবির্ভাব হলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দ্বিতীয় আবির্ভাবের দাবী। ফলস্বরূপ তার অনুসারীরা, তার স্ত্রী, তার পরিবারের সদস্যরা, তার উত্তরাধিকারীরা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসারী, তাঁর স্ত্রী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ, তাঁর পরিবারের সদস্যগণ এবং উত্তরাধিকারীগণের মতই সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়ার দাবীদার। (নাউযুবিল্লাহ্) (অসমাপ্ত)