কাদিয়ানী রদ! (১)
(পঞ্চম ভাগ)
(কুতুবুল ইরশাদ মুবারক, মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফোক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিযে হাদীছ, মুফতীয়ে আজম, পীর কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ সূফী শায়খ মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমীন)। এক্ষেত্রে উনার কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো- তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয়)।
(ধারাবাহিক)
আরও ১৯৫ পৃষ্ঠা-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“বর্তমান যামানায় দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে যে, অনেক কারিগর এরূপ পক্ষীসমূহ বানাইয়া থাকে যে, তৎসমূদয় কথা বলিয়া থাকে, নড়িয়া থাকে, লেজ নাড়াইয়া থাকে, আর আমি শুনিয়াছি যে, কতক পক্ষী কলের দ্বারা উড়িয়া থাকে। বোম্বাই এবং কলিকাতায় এইরূপ খেলার জিনিস বিস্তর প্রস্তত হইয়া থাকে।”
আরোও ১৯৭ পৃষ্ঠা-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“যদিও এই অক্ষম (মির্জা) এই কার্য্যটা মকরূহ ও ঘৃর্ণাহ না বুঝিত তবে খোদার মেহেরবানি ও শক্তিতে দৃঢ় আশা রাখিত যে, এইরূপ অলৌকিক কার্য্য প্রকাশ করিতে হজরত এবনো-মরয়েম অপেক্ষা কম হইতাম না।”
হাকিকাতোল-অহির ৩৯০ পৃষ্ঠার হাশিয়া-
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“এই ঘটনা (পক্ষী বানান) যাহা কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত হইয়াছে, প্রকাশ্য অর্থে কথিত হয় নাই, বরং এইরূফ সামান্য বিষয়ের জন্য কথিত হইয়াছে- যাহার বড় একটা গুরুত্ব নাই।” (অসমাপ্ত)
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক
কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)
অনুবাদক- আলহাজ্জ মুহম্মদ হাবিবুল হক
(ধারাবাহিক)
হিউম্যান রাইটস” নামে একটি প্যামফ্লেটের অনুচ্ছেদ ১২ এবং ১৩ তে ধর্ম বিশ্বাস, চেতনা এবং মতামতের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছে। নি¤েœ তা উল্লেখ করা গেল-
অনুচ্ছেদ ১২ (ক) আইনের আওতার মধ্যে থেকে প্রত্যেক মানুষে নিজস্ব চিন্তা-চেতনা প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু কাউকেই মিথ্যা বা জন সাধারণ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রচারের বা মিথ্যা অপবাদ লেপন, কটাক্ষ বা অন্যের প্রতি মানহানিকর পরিকল্পনার ব্যাকুল বাসনার অধিকার দেয়া হয়নি।
(খ) জ্ঞান অন্বেষণ এবং সত্য সন্ধান মুসলমানদের জন্য শুধু অধিকারই নয় অবশ্য কর্তব্য।
(গ) নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিরোধীতা (আইনানুগ) করা প্রত্যেক মুসলমানের অধিকার এবং কর্তব্য। যদি তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ধরকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়।
(ঘ) তথ্য প্রচারে কোনরূপ বাধা থাকবে না, যদি এতে সমাজ বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোন বিপদের আশঙ্কা না থাকে এবং তা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই থাকে।
(ঙ) অন্যের ধর্ম বিশ্বাসকে ঘৃণিত হওয়ার অবস্থা বা বিদ্রুপ করা যাবে না বা তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে খেপানো যাবে না। অন্যের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
অনুচ্ছেদ ১৩ঃ প্রত্যেক ব্যক্তির চেতনা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী উপসনার স্বাধীনতা রয়েছে।
একইভাবে “ইসলামী সংবিধানের একটি রূপ রেখা” প্যামফ্লেটের অনুচ্ছেদ ৮ এবং ১৬ তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে তা নি¤œরূপ-
অনুচ্ছেদ ৮ঃ প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা, মতামত প্রকাশ এবং বিশ্বাসের অধিকার রয়েছে। তিনি আইনের সীমা লঙ্ঘন না করা পর্যন্ত তা প্রকাশ করতে পারবেন।
অনুচ্ছেদ ১৬ঃ (ক) ধর্মে কোন জবর দস্তি নেই। (খ) অমুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার থাকবে। (গ) সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজস্ব বিষয়ে নিজেদের প্রথা দ্বারা পরিচালিত হবে, যদি না তারা শরীয়ত অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। যদি দলের প্রযোজ্য হবে।
এটা লক্ষ্যণীয় যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার সনদে তাদের ধর্ম প্রচারের কোন উল্লেখ নেই। উপরে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা এরূপ।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০-এ পাকিস্তানের সকল নাগরিকদের নিজস্ব ধর্ম প্রকাশ্যে ঘোষণা করার, অনুশীলন এবং জনে জনে প্রচার করার অধিকার প্রদান করেছে, কিন্তু এই অধিকার আইনানুগ এবং নৈতিকতা সম্পন্ন হতে হবে। এটা এরূপ আইন, গণ আচরণ বিধি এবং নৈতিকতা সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকদের তার ধর্ম প্রকাশ্যে ঘোষণা করার, অনুশীলন করার এবং জনে জনে প্রচার করার অধিকার থাকবে।
(খ) সুতরাং প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের এবং প্রত্যেক উপদলের ধর্মীয় ইন্সটিটিউশন প্রতিষ্ঠা করার, রক্ষণাবেক্ষণ করার এবং চালিয়ে নেয়ার অধিকার থাকবে।
জাবিনদার কেশোরের মামলায় (চখউ ১৯৫৭, ঝ. ঈ. চধমব ৯) সুপ্রীম কোর্ট ১৯৫৬ সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮এর অনুরূপ ব্যাখ্যাপ্রদান করে ছিল। এতে বলা হয়েছে যে, “আইন সাপেক্ষে” উক্তিটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে সংবিধানে যা বর্ণনা করা হয়েছে, তা পরিবর্তন অনুমোদন করে না। মিঃ জাস্টিস মুহম্মদ মুনির, প্রধান বিচারক (অবঃ) এ প্রসঙ্গে নিম্নে উল্লেখিত মন্তব্য করেন-
“কিন্তু যখন কোন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রনের সুযোগ কাটছাট করা যাবে না।” (অসমাপ্ত)
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)