কাদিয়ানী রদ! (১)
(পঞ্চম ভাগ)
(কুতুবুল ইরশাদ, মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিযে হাদীছ, মুফতীয়্যূল আযম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খ-ে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমীন) এক্ষেত্রে উনার কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয়)।
(ধারাবাহিক)
তিরইয়াকোল-কুলুব ৩৮ পৃষ্ঠা :
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“এস্থলে কাহারও যেন এইরূপ ধারণা না হয় যে, আমি এই বক্তৃতায় নিজের আত্মাকে হযরত মছিহ আলাইহিস সালাম উনার উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করিয়াছি, কেননা ইহা একটি আংশিক ফযীলত- যাহা গরনবি ব্যক্তির নবীর উপর হইতে পারে।”
এস্থলে মিজ্জা ছাহেব নিজেকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অপেক্ষা আংশিক শ্রেষ্ঠ বলিয়া দাবি করিয়াছেন।
‘হকিকাতোল-অহি’ ১৪৮ পৃষ্ঠা :
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
“খোদা এই উম্মতের মধ্যে প্রতিশ্রুত মাহদি প্রেরণ করিয়াছেন, যিনি উক্ত প্রথম মছিহ অপেক্ষা নিজের সমস্ত বিষয়ে সমধিক শ্রেষ্ঠ। যদি মছিহ বেনে- মরইয়াম আমার যামানায় হইতেন, তবে যে কার্য্য আমি করিতেছি, তিনি কখনও উহা করিতে পারিতেন না এবং যে নির্দশন আমা কর্তৃক প্রকাশিত হইতেছে, তিনি কিছুতেই উহা প্রদর্শন করিতে সক্ষম হইতেন না।”
যখন লোকে মিজ্জা ছাহেবকে এইরূপ অনৈক্যের কারণ জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, তখন তিনি বলিয়াছিলেন যে, ইহার কারণ খোদার নিকট জিজ্ঞাসা কর। ‘হকিকাতোল-অহির’ ১৪৮ হইতে ১৫০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
মির্জ্জা ছাহেব নিজের সুবিধা মত ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করিবেন, আর খোদা ইহার উত্তর দিবেন, ইহা কি আশ্চর্য্যজনক কথা! খোদা তায়ালা কুরআন শরীফ উনাকে বলিয়াছেন, এলহামি কথাগুলির মধ্যে অনৈক্য ভাব থাকিতে পারেনা। (অসমাপ্ত)
(ধারাবাহিক)
এবং তিনি বলেন, আয়াত শরীফ উনাকে অন্ধ অনুসরণের নিন্দা করা হয়েছে। তিনি নজির হিসেবে সূরা: ২, ১১২ নং আয়াত শরীফ, ৫তম সূরার ১০৫ নং আয়াত শরীফ, ২৬তম সূরার ৭১ ও ৭৫ নং আয়াত শরীফ এবং ৪৩ নং সূরার ২১ থেকে ২৫ নং আয়াত শরীফ উনার উল্লেখ করেন এবং যুক্তি পেশ করেন যে, ঐ আয়াত শরীফসমূহ এক সাথে পাঠ করলে দেখা যায় যে, রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখনই অবিশ্বাসীদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার কথা বলেছেন, তাদের একটি মাত্র জাওয়াবই ছিল যে, তাদের পূর্বপুরুষদেরই তারা অনুসরণ করবে, যদিও তাদের পূর্বপুরুষদের কোন ইলমই ছিলনা।” এটাই ইসলামের তেজস্বিতা যে একটা আফাকী (افاقى) এবং আনফুসী যুক্তি অবলম্বনের তকলিদের মতবাদ খ-ন করতে পারে। আফাকী যুক্তিসমূহ সরবরাহ করে প্রকৃতির নিয়মসমূহ যেমন, কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে। পৃথিবী এবং আকাশের সৃষ্টি সম্বন্ধে, দিন এবং রাতের পরিবর্তন ইত্যাদি, তাদের বুঝতে হবে যে যদি দু’জন ঈশ্বর হত তবে এই প্রক্রিয়া এরূপ সুষ্ঠ নিয়মে চলত না। আনফুসী যুক্তি অর্থ- সৃষ্টির বিভিন্ন অবস্থার কথা তাদের ফিকির করা উচিত এবং তাদের বুঝা উচিত যে, “এক মহান আল্লাহ পাক তিনিই মানুষ সৃষ্টি করেছেন।”
এটাই পদ্ধতি যা সম্বন্ধে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে- (পবিত্র সূরা ১৬, আয়াত শরীফ ১২৫)
ادع الى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتى هى احسن.
অর্থ: “আপন পালন কর্তার পথের প্রতি আহবান করুন, ইলমের কথা দ্বারা ও উত্তম নছীহতের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বাহাছ করুন পছন্দমত পন্থায়।”
তিনি (মুজিবুর রহমান) জোর দিয়ে বলেন, আসল বিষয় হল গুরুত্বর মতের অমিল। (পবিত্র সূরা-৮, আয়াত শরীফ-৪২)
ولكن ليقضى الله امرا كان مفعولا ليهلك من هلك عن بينة ويحيى من حى عن بينة.
অর্থ: “কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা এমন এক কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিলো যাতে সেসব লোক নিহত হওয়ার ছিল, প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর এবং যাদের বাঁচার ছিল তারা বেঁচে থাকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর।”
সবশেষে তিনি যে সকল আয়াত শরীফ উনার যে অংশ উদ্ধৃতি দিয়েছেন তার উল্লেখ করা হলো, (পবিত্র সূরা-৬; আয়াত শরীফ ১৪৯)
هل عندكم من علم فتخرجوه لنا.
অর্থ: “তোমাদের কি কোন ইরম আছে, যা আমাদের জন্য দাখিল করতে পার?” (পবিত্র সূরা ৩৭; আয়াত শরীফ-১৫৬)
ام لكم سلطن مبين.
অর্থ: “তোমাদের নিকট কি পরিস্কার কর্তৃত্ব রয়েছে?” (পবিত্র সূরা-৩৭; আয়াত শরীফ-১৫৭)
فاتوا بكتبكم ان كنتم صدقين.
অর্থ: “তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন?” (পবিত্র সূরা ২৮; আয়াত শরীফ-৭৫)
فقلنا هاتوا برهانكم.
অর্থ: “আমরা বলবো, তোমাদের দলীল পেশ কর।” (পবিত্র সূরা ২১; আয়াত শরীফ-২৪)
قل هاتوا برهانكم.
অর্থ: “বল, তোমাদের দলীল পেশ কর।” (পবিত্র সূরা ২৭; আয়াত শরীফ-৬৪)
قل هاتوا برهانكم.
অর্থ: “বল, তোমাদের দলীল পেশ কর।”
এই সকল আয়াত শরীফ উনার তাফসীরের উপর অনেকগুলো মন্তব্য তিনি উল্লেখ করেছেন। ওগুলো পুনঃউল্লেখের প্রয়োজন নেই কেননা ওগুলোর অর্থ পরিস্কার। মুসলমানগণ বহু ঈশ্বরবাদীদের এবং কাফিরদের কঠিন বিশ্বাসের যুক্তি প্রদর্শনের প্রশ্ন করতেই পারে।
কিন্তু মিঃ মুজিবুর রহমানের যুক্তি; এই আয়াত শরীফই কাফিরদের ধর্ম প্রচারের অধিকার; তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মান্তরিত করতে পারবে।
আমরা এর সাথে একমত নই, যদিও ঐ সম্ভাবনা খুবই সুদূর পরাহত।” (অসমাপ্ত)
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)