ছহিবুল মদীনা, আল মুহাজির, আত্ ত্বইয়্যিবু, সিরাজুম্ মুনির, আঁকায়ে নামদার, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় বাসস্থান “মদীনা শরীফ” সম্পর্কে

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

হাফিয মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মাসউদ

ان الله امرنى ان اسمى المدينة طابة.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক আমাকে আদেশ করেছেন, আমি যেন মদীনা শরীফের নাম রাখি “ত্ববাহ” তথা পবিত্র।” (মুসলিম)

জাহিলীযুগে মদীনা শরীফের নাম ছিল “ইয়াসরিব”। ইয়াসরিব শব্দটি সারব শব্দ হতে উদ্ভূত, যার অর্থ ফ্যাসাদ ও অনর্থ। ইয়াসরিব শব্দটি “তাসরীব” শব্দ হতেও নির্গত, যার অর্থ ধর পাকড় ও শাস্তি। সর্বোপরি জনৈক কাফিরের নামও ছিল ইয়াসরিব। যেহেতু শিরক ও কুফরের মলিনতা হতে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত একটি ভূমি এ ধরণের নামে রাখা সমীচীন নয়, সেহেতু মদীনা শরীফকে ইয়াসরিব বলে সম্বোধন করা নিষিদ্ধ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ইতিহাস গ্রন্থের একটি হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে, “যে ব্যক্তি একবার ইয়াসরিব বলবে, সে যেন তার ক্ষতিপূরণ স্বরূপ দশবার মদীনা শরীফ বলে।”

          ‘আরদুল্লাহ’ ও ‘আরদুল হিজরত’ মদীনা শরীফের অন্যতম নাম। যার অর্থ আল্লাহ্ পাক-এর ভূমি এবং হিজরতের ভূমি।

          মুহিব্বাহ, হাবীবাহ্ এবং মাহবুবাহ মদীনা শরীফের পছন্দনীয় নামের মধ্যে অন্যতম নাম।

          সাইয়্যিদুল কাওনাইন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক-এর নির্দেশে প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা শরীফ ত্যাগ করে মদীনা শরীফে হিজরত করেন।

          বর্ণিত রয়েছে, রহমতে আলম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হিজরত করেন, তখন তিনি মক্কা শরীফ হতে বের হয়ে অদূরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বলেন, “হে মহান শহর! তুমি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় শহর। আল্লাহ্ পাক-এর নির্দেশ যদি আমার প্রতি না হত। তাহলে তোমাকে ছেড়ে যেতামনা।” (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ)

          তিনি যখন হিজরত করে মদীনা শরীফে পৌঁছলেন, তখন মদীনাবাসীগণ আনন্দিত হয়ে নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাদরে গ্রহণ করে নিলেন। তাই আফজালুল ক্বায়েনাত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনাবাসীদের মুহব্বতপূর্ণ আচরণে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং বুঝতে পারলেন যে, এখানে শীঘ্রই ইসলামের পতাকা উড়বে। তাই এই মদীনা শরীফ হাবীবে আযম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠল। খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক-এর নিকট এভাবে প্রার্থনা করেছিলেন,

اللهم حبب علينا المدينة كحبنا مكة او اشد.

অর্থঃ- “হে আল্লাহ্ পাক! আমাদের নিকট মদীনা শরীফকে মাহবুব তথা প্রিয় করে দিন, যেমন মক্কা শরীফ আমাদের নিকট প্রিয়। বরং তার চেয়েও বেশী প্রিয় করে দিন।” (হায়াতুল মুসলিমীন)

          ছাহেবে ছলাত ওয়া সালাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট মদীনা শরীফ এত প্রিয় ছিল যে, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ছাহেবে ক্বলম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করার সময় দূর থেকে মদীনা শরীফের দেয়াল গুলোতে দৃষ্টি পড়লে তিনি অফুরন্ত উৎসাহ ও ভালবাসায় যান বাহনগুলোর গতি বাড়িয়ে দিতেন।” (বুখারী শরীফ)

          খাইরিয়্যাহ বা খাইরাহও মদীনা শরীফের অন্যতম নাম। কারণ ইহকাল ও পরকালের সকল প্রকার খায়ের তথা কল্যাণকে এ শহর নিজের মধ্যে সন্নিবেশিত করে রেখেছে।

          এ প্রসঙ্গে ছাহেবে আলক্বাব হুজুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

المدينة خيرلهم لو كانوا يعلمون.

অর্থঃ- “মদীনা শরীফ তাদের জন্য কল্যাণময় যদি তারা জানত।”

انها طيبة تنفى الذنوب كما ينفى الكير خبث الفضة.

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “মদীনা পবিত্র শহর। এটি গুণাহ্সমূহকে বিদূরিত করে। যেমন আগুন রূপার খাদ দূর করে।” (বুখারী শরীফ)

          খাইরুল বাশার হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

من صبر على اذاها كنت له شهيدا وشفيعا يوم القيمة.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি মদীনায় বসবাসের কষ্টে সবর করবে আমি তার জন্য ক্বিয়ামত দিবসে সাক্ষ্যদানকারী ও শাফায়াতকারী হব।” (জজবুল কুলুব ইলা দিয়ারিল মাহবুব)

          এছাড়াও মদীনা শরীফের অসংখ্য ফযীলত বর্ণিত রয়েছে। বর্ণিত রয়েছে, মদীনা শরীফের মাটি মক্কা শরীফ অপেক্ষা পবিত্র। কোন কোন মুফাস্সিরিন-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম বর্ণনা করেছেন, “মদীনা শরীফের মাটি আল্লাহ্ পাক-এর আরশ হতেও পবিত্র তথা মর্যাদাবান। আর এই মাটিতে ফযীলত ও শিফা রয়েছে।”

হযরত শায়খ মাজদুদ্দীন ফিরোযাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমার এক গোলাম লাগাতার এক বছর জ্বরে আক্রান্ত ছিল। আমি তাকে মদীনা শরীফের পবিত্র মাটি মুবারক পানির সাথে মিশিয়ে খাইয়ে দিলে সে এক দিনেই আরোগ্য লাভ করে।” বুখারী ও মুসলিম শরীফে এই শহরের ফল-মূল খাওয়ার দ্বারা রোগ নিরাময়ের কথা বর্ণিত রয়েছে।

হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাইয়্যিদুল খালায়েক্ব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, “ইবলিস মদীনা শরীফে তার ইবাদত হতে নিরাশ হয়ে গেছে।” প্রশ্ন করা হলঃ ইবলিসের ইবাদত কি? তিনি বললেন, “মানুষকে মন্দ কাজে উৎসাহিত করা।” (জজবুল কুলুব ইলা দিয়ারিল মাহবুব)

          শাফিউল উমাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফকে অত্যন্ত মহব্বত করার কারণেই তিনি বলেন, “মদীনা শরীফ ব্যতীত দুনিয়ার অন্য কোথাও আমার রওজা শরীফ হওয়া আমি পছন্দ করি না।” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)

          সকলের উচিত ছাহেবে আসমা ওয়াল হুসনা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় আবাসভূমি মদীনা শরীফকে গভীরভাবে মুহব্বত এবং যথাযথ তা’যীম তাকরীম করতঃ তাঁর ফযীলত, বরকত হাছিল করা।” (আমীন)

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ