ছহিবুল মাহশার, ছহ্বিু শাফায়াতিল কুবরা, যুল হাউযিল কাউছার, ছহিবুল মাকামিল মাহমুদ, নাবিয়্যুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কয়েকটি বিশেষ ফযীলত যা হাশরের ময়দানে ও জান্নাতে প্রকাশিত হবে

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ মামূনুর রহমান (মামূন)

تلك الرسل فضلنا بعضهم على بعض منهم من كلم الله ورفع بعضم درجت.

অর্থঃ আমি রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের মধ্যে একজনকে অন্যজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যার সাথে আল্লাহ পাক কথা বলেছেন, আবার কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। (সূরা বাক্বারা/২৩)

          তাঁরা কেউ ছিলেন কালীমুল্লাহ, কেউ ছিলেন খলীলুল্লাহ, কেউ যবীহুল্লাহ, কেউ রুহুল্লাহ ইত্যাদি। তবে উপরোক্ত আয়াতে কারীমায় যাকে অনেক উচ্চ মর্যাদা দেয়ার কথা বলা হয়েছে সমস্ত মুফাসসিরগণের মতে ইনি হলেন, হাবীবে আযম, হাবীবুল্লাহ, ছহেবে ক্বলম, ছরকারে কায়েনাত, সাইয়্যিদুল আলম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নিম্নে তাঁর অসংখ্য ফযীলত সমূহের মধ্যে বিশেষ কিছু ফযীলত বর্ণিত হল। যা হাশরের ময়দানে ও জান্নাতে প্রকাশিত হবে।

          সর্ব প্রথম পূনরুত্থানঃ হযরত কা’ব আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক বর্ণিত। হাদীস শরীফে এসেছে, কিয়ামতের দিন যখন মাটি ফেঁটে যাবে তখন দলীলে কা’বায়ে মাকসুদ হাবীবুর রহমান হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সর্ব প্রথম রওজা মুবারক থেকে বের হয়ে আসবেন। এ সময় তাঁর রওজা মুবারক তওয়াফকারী ৭০ হাজার ফিরিশতা তাঁকে ঘিরে চরম পরম তাযীম তাকরীম এর সহিত মহান রব্বুল ইজ্জতের দরবারে নিয়ে যাবেন। (মিশকাত শরীফ)

          সর্ব প্রথম সুপারিশকারীঃ হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, তাফসীরে কালামে ইলাহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি সর্ব প্রথম সুপারিশকারী হব। আর সর্ব প্রথম আমার  সুপারিশই গ্রহণ করা হবে।”  (মুসলিম শরীফ)

          প্রশংসার পতাকা লাভঃ হযরত আবু সাঈদ  খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা থেকে বর্ণিত সাহেবে আসমা ওয়াল হুসনা, সিরাজুমমুনিরা, রিসালতে পানাহ্ হামিলুল লেওয়ায়িল হামদ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,” কিয়ামতের দিন আমার নিকট আল্লাহ পাকের (প্রদত্ত) বিশেষ হামদ (প্রশংসা) এর পতাকা থাকবে। আর এজন্য আমি গর্ব করিনা যে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম থেকে শুরু করে সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণ আমার পতাকা তলে থাকবেন।” (তিরমিয়ী শরীফ)

          শাফায়াতে কুবরা লাভঃ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। ছহেবু শাফায়াতিল কুবরা, রহমতে আলম, সাইয়্যিদুল জিন্নে ওয়াল ইন্স হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন যে, “আমাকে শাফায়াতে কুবরা দান করা হবে যা সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য হিসাব গ্রহণের কারণ হবে।” (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

          মাকামে মাহমুদা লাভঃ আল্লাহ পাক সূরা বনী ইসরাইলে ইরশাদ করেন, “আপনি রাত্রের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবেন। এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত। অতিশিঘ্রই আপনার প্রতিপালক আপনাকে অধিষ্টিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।”

          মূলত এই প্রশংসিত স্থানটিই হল মাকামে মাহমুদ যার ব্যাখ্যায় ছহেবে মাকামে মাহমুদ, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “মাকামে মাহমুদ হচ্ছে ঐ স্থান যেখানে আমি আমার উম্মতের জন্য শাফায়াত (শাফায়াতে কুবরা) করব।” তিনি আরো বলেছেন, “আমাকে তখন এই অধিকার দেয়া হবে যে, আমি আমার অর্ধেক উম্মতকে বিনা হিসেবে এবং শাফায়াতের মাধ্যমে বেহেশতে প্রবেশ করাব। তখন আমি শাফায়াত করতেই পছন্দ করব।” এই শাফায়াতই হবে মুত্তাক্বিদের অধিক মর্যাদা লাভের কারণ এবং পাপী উম্মতকে আযাব মুক্ত করার জন্য। (মাওয়াহেবুল্লাদুন্নীয়া, মাদারেজুন নুবুওওয়াত)

          হাউজে কাওসার লাভঃ সূরা কাওসারে আল্লাহ পাক বলেন, انا اعطينك الكوثر. হে হাবীব! আমি আপনাকে কাউছার বা সমস্ত ভালাই দান করেছি।” (সূরা কাউসার/১)

          আর হাদীস শরীফে ছহেবুল কাওসার, ছহেবুল লেওয়া হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সমস্ত নবী আলাইহিমুস্ সালাম-এর জন্য একটা করে হাউজ (পানির নহর) হবে। এবং প্রত্যেক নবী আলাইহিমুস্ সালাম এই কথার উপর গর্ব করবেন যে, কার হাউজের নিকট অধিক লোক (পানি পান করার জন্য) আসবে। আমার ধারণা যে, আমার হাউজের নিকটেই সর্বাধিক লোক উপস্থিত হবে। (যেহেতু আমার উম্মত অধিক হবে।) (তিরমিযী শরীফ)

          বিশেষ বুরাক লাভঃ সনদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রউফুর রহীম, ছহেবে সালাত ও সালাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “ আমি কিয়ামতের দিন একটা (বিশেষ) বুরাকের উপরে উপবিষ্ট থাকব এবং আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের মধ্যে আমিই হব এই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।” (মাওয়াহিব)

          সর্ব প্রথম পুলসিরাত অতিক্রমঃ হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। সরওয়ারে ক্বাওনাইন, সুলতানুন নাসির, হুববুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “জাহান্নামের মধ্যভাগে পুলসিরাত থাকবে। অতএব রসূলগণের মধ্যে আমিই সর্ব প্রথম আমার উম্মতগণকে নিয়ে তা অতিক্রম করে যাব।”

 অন্য হাদীস শরীফে এসেছে, “পুলসিরাত হবে ৩০ হাজার বছরের দূরত্বের সমান যা তরবারীর চেয়েও অধিক ধারালো, তীরের চেয়েও অধিক চিকন। আর কারও জন্য হবে প্রশস্ত সমভুমির মত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

          সর্ব প্রথম জান্নাতের দ্বারে করাঘাতকারীঃ হযরত আব্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমামুন্নাবীয়্যীন দাওয়াতু ইব্রাহিম, ক্বয়েদুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, “সর্ব প্রথম আমি জান্নাতের দ্বারে করাঘাত করব। তখন আমার প্রবেশের জন্য দ্বার উম্মুক্ত করা হবে। আমি তাতে প্রবেশ করব।” (তিরমিযী শরীফ)

          আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদুল জিন্নে ওয়াল ইন্স,সাইয়্যিদুল আলামীন, মাআ’জামা শানুহু রহমতে ইলাহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাক্বীক্বী মর্যাদা মর্তবা উপলব্দি করে তাঁর অনুসরণ অনুকরণ-এর মাধ্যমে খাস সন্তুষ্টি নসীব করুন। (আমীন)

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ