মুছাম্মত ফাহিমা আখতার (রিমা)
حب الدنيا رأس كل خطيئة ترك الدنيا رأس كل اطاعة.
অর্থঃ- “দুনিয়ার মহব্বত সমস্ত গুণাহর মূল, দুনিয়ার মহব্বত পরিত্যাগ করা সমস্ত ইবাদতের মূল।” (মিশকাত শরীফ)
একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর হুজরা শরীফে গেলেন সাক্ষাত লাভের জন্য। সেখানে গিয়ে তিনি বসলেন। তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুরের চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন, তাঁর পিঠ মুবারকে সেই চাটাইয়ের দাগ পড়ে গিয়েছিল এবং সে ঘরের মধ্যে মশকের ভিতরে সামান্য কিছু পানি ছিল। একটা পাত্রে কিছু যবের আটা ছিল। সেটা দেখে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কাঁদতে লাগলেন।
তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “হে উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তুমি কাঁদছ কেন?” তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার অবস্থা দেখে আমার কান্না আসতেছে। যে আল্লাহ্ পাক আপনাকে সৃষ্টি না করলে আসমান-যমীন, আরশ-কুরসী, লৌহ-কলম, বেহেস্ত-দোজখ কোন কিছুই সৃষ্টি করতেন না। আল্লাহ্ পাক তাঁর আপন রুবুবিয়্যত প্রকাশ করতেন না। সব কিছুর কেন্দ্রস্থল হচ্ছেন আপনি। আর আপনার কিনা এই অবস্থা, সেটা দেখে আমার কান্না পাচ্ছে।” তখন আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে ওমর! তুমি কি জান আমার মধ্যে আর দুনিয়ার মধ্যে কি সম্পর্ক রয়েছে? “হে উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তুমি জেনে রেখ, আমার মধ্যে আর দুনিয়ার মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে একজন ঘোড়সাওয়ারীর ন্যায়।”
একজন ঘোড়সাওয়ারী ঘোড়ার উপর সাওয়ার হয়েছে। সে ভ্রমণ করছে, ভ্রমণ করার কারণে সে ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত হয়ে গিয়েছে। তার কিছু বিশ্রামের দরকার রয়েছে। সে বিশ্রামের জন্য একটা গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিল, অতঃপর সেখান থেকে চলে গেল। ঠিক একটা গাছের ছায়ার সাথে একজন ঘোড়সাওয়ারীর বা মুসাফিরের সাথে যতটুকু সম্পর্ক, আমার সাথে আর দুনিয়ার সাথে ঠিক ততটুকুই সম্পর্ক।” (সুবহানাল্লাহ)