ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মাওলানা মুহম্মদ আব্দুর রহমান

ورفعنا لك ذكرك.

অর্থঃ- “আর আমি আপনার জিকিরকে (সম্মানকে) বুলন্দ করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ্/ ৪)

          মহান আল্লাহ্ পাক আপন হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান মর্যাদা প্রকাশার্থে তাঁর পক্ষে কাফির মুশরিকদের অহেতুক কথা-বার্তার সমুচিত জবাব নিজেই দিয়েছেন।

(১) কাফির-মুশরিকরা সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন পাগল বলে সম্বোধন করল সাথে সাথে আল্লাহ্ পাক হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্ সালাম-এর মাধ্যমে ওহী নাযিল করে প্রিয় হাবীবকে জানিয়ে দিলেন,

ما انت بنعمة ربك بمجنون.

অর্থঃ- “আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহে আপনি উন্মাদ বা পাগল নন।” (সূরা ক্বলম/২)

          যখন কাফিররা সরদারে দু’আলম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবি এবং পবিত্র কুরআন শরীফকে কবিতা বলল, প্রতিবাদে আল্লাহ্ পাক পবিত্র আয়াতে কারীমায় জানিয়ে দিলেন,

وما علمنه الشعر وما بنبغى له ان هو الا ذكر وقران مبين.

অর্থঃ- “আমি তাঁকে (রসূলকে) কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তাঁর জন্যে শোভনীয়ও নয়, এটা তো এক উপদেশ ও প্রকাশ্য কুরআন।” (সূরা ইয়াসীন/৬৯)

          কাফিররা যখন বলল, তিনি একজন গণক। সাথে সাথে আল্লাহ্ পাক তাদের কথা রদ করে বলেন,

ولا بقول كاهن.

অর্থঃ- “আর এটা কোন গণকের কথা নয়।” (সূরা হাক্কা/৪২) কাফিররা যখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে غوى ضال বলে আখ্যায়িত করল সাথে সাথে আল্লাহ্ পাক স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন,

ما ضل صاحبكم وما غوى. وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحى.

অর্থঃ- “তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। তিনি নিজ প্রবৃত্তি হতে কোন কথাই বলেন না। নিশ্চয়ই কুরআন হচ্ছে ওহী, যা প্রত্যাদেশ করা হয়।” (সূরা নজম/২-৪) কাফিররা যখন বলল, انما انت مفتر “নিশ্চয়ই আপনি এ কুরআন রচনাকারী।” জবাবে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান,

انما يفترى الكذب الذين لايؤمنون بايت الله واولئك هم الكذبون.

অর্থঃ- “যারা মহান আল্লাহ্ পাক-এর আয়াত সমূহ বিশ্বাস করেনা, তারাই মিথ্যা রচনা করে। মুলতঃ এরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা নহল/১০৫))

          কিন্তু পূর্ববর্তী অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণকে যখন কাফিরা এধরণের কথা বলত, তখন আল্লাহ্ পাক রব্বূল আলামীন-এর সংশ্লিষ্ট নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ নিজেরাই কাফিরদের সে সমস্ত কথার সমুচিত জবাব দিতেন, যেমন আল্লাহ্ পাক-এর নবী হযরত নূহ আলাইহিস্ সালামকে যখন তাঁর ক্বওমের লোকেরা বলল,

انا لنرك فى ضلل مبين.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে প্রকাশ্য গোমরাহীতে দেখছি। (সূরা আ’রাফ/৬০) জবাবে হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম বললেন, ليس بى ضللة.

“গোমরাহী আমার সাথে নয়। অর্থাৎ আমি গোমরাহ নই।” (সূরা আ’রাফ/৬১) হযরত হুদ আলাইহিস্ সালামকে সমকালীন কাফিররা বলল,

انا لنرك فى سفاهة.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে নির্বোধ দেখছি।”(সূরা আ’রাফ/৬৬) জবাবে হযরত হুদ আলাইহিস্ সালাম নিজেই বললেন, ليس بى سفاهة.

 “আমি নির্বোধ নই।” (সূরা আ’রাফ/৬৭) জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত মুসা কালিমুল্লাহ্ আলাইহিস্ সালামকে যখন খোদা দাবীদার পাপীষ্ঠ ফেরাউন বলল,

انى لاظنك يموسى مسحورا.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই হে মুসা আলাইহিস্ সালাম! আমি আপনাকে যাদুগ্রস্ত মনে করছি।” (সূরা বণী ইসরাইল/১০১) প্রতিবাদে হযরত মুসা কালিমুল্লাহ্ আলাইহিস্ সালাম বললেন,

انى لاظنك يفرعون مثبورا.

অর্থঃ- “হে ফেরাউন! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ধ্বংস প্রাপ্ত মনে করি।”(সূরা বণী ইসরাইল/১০২)

          বর্ণিত আলোচেনা দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্যান্য মর্যাদার মধ্যে এটাও একটি যে, তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদের জবাব স্বয়ং আল্লাহ্ পাকই দিয়েছেন। আর তিনি ওহী ছাড়া কোন কথাই বলেন না। (আমীন)

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে