জুমাদাল উখরা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ৯৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

          জুমাদা নামের দু’টি মাসের দ্বিতীয় মাস তথা আরবী মাস সমূহের ষষ্ঠ মাস হচ্ছে “জুমাদাল উখ্রা”। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুমাদা শব্দটি মুয়ান্নাছ (স্ত্রী লিঙ্গ) তার অর্থ জমাট পানি বা বরফ। সে হিসেবে তার পরে “উখরা” শব্দটিও আখির শব্দ থেকে মুয়ান্নাছ এবং এর অর্থ শেষ।

          উল্লেখ্য, আরবী মাস সমূহের মধ্যে জুমাদা নামের মাস দু’টিই শব্দগতভাবে মুয়ান্নাছ।

          যা হোক, এ মাসটি মর্যাদা ও ফযীলত লাভের অনেক কারণ তার মধ্যে একটি বিশেষ কারণ হলো ১৩ হিজরীর ২২শে জুমাদাল উখরা সোমবার দিবাগত রাত্রিতে ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওফাত লাভ করেন।

          হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অসংখ্য মর্যাদার মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ্ পাক তাঁকে ছিদ্দীক্ব (চরম সত্যবাদী) লক্বব দান করেছেন। আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মি’রাজ শরীফের ঘটনাকে কাফিরদের মুখে শুনে বিশ্বাস করার কারণে তিনি এ মহান লক্বব লাভ করেন।

          এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, একদা একটি ছেলে তার পিতার ইন্তিকাল হলে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে এসে জানাযার নামায পড়িয়ে দেয়ার জন্য আবেদন পেশ করলো। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিতার জানাযা পড়তে সম্মত হলেননা। তখন ছেলেটি কান্না শুরু করলো। সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলো। পথে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে ছেলেটির সাক্ষাত হয়। তিনি তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। ছেলেটি কারণ জানালে তিনি বললেন, “কেন তোমার আব্বা তো ভাল মানুষ ছিলেন, তোমার আব্বার জানাযা অবশ্যই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়াবেন। তুমি আমার সাথে চলো।” তিনি ছেলেটিকে পুনরায় নিয়ে এসে জানাযা পড়ার আবেদন পেশ করা মাত্রই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে সম্মত হলেন। জানাযা পড়ানোর পর জিজ্ঞাসা করা হলো, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি প্রথমে বললেন যে, জানাযা পড়বেন না। কিন্তু শেষে আবার পড়লেন এর কি কারণ?” তিনি বললেন, “তার আব্বার আমল আখলাক ভাল ছিলনা বলে আল্লাহ্ পাক হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালামকে পাঠিয়ে আমাকে ওহী করেছিলেন, সেজন্য আমি প্রথমে জানাযা পড়তে রাজী হইনি। কিন্তু যখন উক্ত মৃত ব্যক্তির ছেলেটি আমার এখান থেকে বাড়ীতে ফিরে যাচ্ছিল তখন পথিমধ্যে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি তার আব্বাকে ভাল বলে সুপারিশ করেন আর সাথে সাথে আল্লাহ্ পাকও তাকে ভাল হিসেবে ঘোষণা করে হযরত জীব্রাঈল আলাইহিস্ সালামকে নির্দেশ করেন, হে জিব্রাঈল! তুমি এখনই আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে যাও। গিয়ে তাঁকে বলো, তিনি যেন উক্ত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়েন। কারণ আমি যাকে ছিদ্দীক উপাধী দিয়েছি তিনি বলেছেন, সে ব্যক্তি ভাল। সুতরাং তাঁর কথা ভুল হতে পারে না।” (সুবহানাল্লাহ্)

          উল্লেখ্য নুবুওওয়াতের ধারাবাহিকতা বন্ধের পর বেলায়েতের ধারা শুরু হয় এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত বেলায়েতের ধারাই জারী থাকবে। বেলায়েতের সবচে উঁচু মাক্বাম হচ্ছে ছিদ্দীক্বীনদের মাক্বাম। যাঁরা এ মাক্বাম হাছিল করেন তাঁর ছোহবত গ্রহণ করা ফরয। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাক ইরশাদ করেন,

يايها الذين امنوا اتقول الله وكونوا مع الصدقين.

অর্থঃ- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তায়ালাকে ভয় কর এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণের সঙ্গী হও।”

ছাদিক্বীনের ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

قيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اى جلسائنا خير؟ قال من ذكركم الله رؤيته وزاد فى عملكم منطقه وذكركم فى الاخرة عمله.

অর্থঃ- বলা হলো, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন সঙ্গী উত্তম? অর্থাৎ আমরা কার ছোহ্বত গ্রহণ করবো?” তিনি বললেন, “যাঁকে দেখলে আল্লাহ্ তায়ালার কথা স্মরণ হয়, যাঁর কথা শুনলে আমল বৃদ্ধি হয় এবং যাঁর আমল দেখলে আখিরাতের কথা স্মরণ হয়।” (মুসনদে আহমদ)

          আল্লাহ্ পাক! আমাদের সকলকে তাঁদের ছোহ্বত গ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি হাছিল করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

জুমাদাল উলা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

রজব মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাসের ফযীলত

রমাদ্বান মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

শাওয়াল মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা