তাফসীরুল কুরআন : ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

সংখ্যা: ৯০তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা

(ধারাবাহিক)

وعن ابى محمد عبد الرحمان بن ابى بكرن الصديق رضى الله عنه ان اصحاب الضفة كانوا اناسا فقراء وان النبى صلى الله عليه وسلم قال مرة من كان عنده طعام اثنين، فليذهب بثالث، ومن كان عنده طعام اربعة، فليذهب بخامس بسادس اوكما قال، الخ.

অর্থঃ- “হযরত আবু মুহম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন, আসহাবে ছুফ্ফা ছিলেন একান্তই দরিদ্র অভাবী অবস্থা ধারণকারী দল। তাই একবার নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যার কাছে দু’জনের খাদ্য আছে সে যেন তার সাথে তৃতীয় জনকে নিয়ে খায়। আর যার কাছে চারজনের খাবার আছে সে যেন তার সাথে পঞ্চম ও ষষ্ঠজনকে নিয়ে খায়। অথবা তিনি যেমন বলেছেন। কাজেই (এই নীতি অনুযায়ী) আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিন ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে এলেন। আর নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সঙ্গে আনলেন দশ ব্যক্তিকে। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম-এর সাথে রাতের খাবার খেলেন, তারপর তার সাথে অবস্থান করলেন ও এশার নামায পড়লেন, তারপর সেখান থেকে তিনি ফিরলেন। তখন রাতের একটা অংশ যতটুকু আল্লাহ্ পাক চান অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। তাঁর স্ত্রী বললেন, মেহমানদের ছেড়ে আপনি আবার কোথায় রয়ে গিয়েছিলেন? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মেহমানদেরকে আহার করাওনি? স্ত্রী জবাব দিলেন, তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যে, আপনি না আসা পর্যন্ত তারা খাবেন না। অথচ তাদেরকে বারবার আরয করা হয়েছিল। হযরত আব্দুর রহমান (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেন, (এ দৃশ্য দেখে) আমি ভয়ে আত্মগোপন করেছিলাম। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ওহে নির্বোধ! (অর্থাৎ সেই নির্বোধ আব্দুর রহমানটা কোথায়?) তারপর তিনি যারপর নাই তিরস্কার করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি (মেহমানদেরকে) বললেন, “তোমরা খেয়ে নাও, তোমাদের জন্য বরকত হবে, আল্লাহ্র কসম আমি খাবনা।” হযরত আব্দুর রহমান (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেন, আল্লাহ্র কসম, আমরা যখনই কোন লোকমা গ্রহণ করতাম তার নীচ থেকে তা আরো বেশী বেড়ে উপরে এসে যেত, এমনকি সবাই পেট ভরে আহার করলো। এদিকে খাবার আগের চাইতে আরো বেশী বেড়ে গেল। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তা দেখে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, “হে বনী ফিরাসের বোন, এ কি ব্যাপার!” তিনি জবাব দিলেন, “না, না আমার চোখের শীতলতা (অর্থাৎ হে আমার প্রিয় স্বামী) এতো এখন দেখছি আগের চাইতে তিনগুণ বেশী হয়ে গেছে!” কাজেই হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তা থেকে খেলেন এবং বাকি সবটুকু উঠিয়ে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এলেন, সকাল পর্যন্ত ঐ খাবারগুলো তাঁর কাছে রইল। সে সময় একটি গোত্রের সাথে আমাদের সন্ধিচুক্তি ছিল। চুক্তির সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজেই রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বারজনকে গোয়েন্দা নিযুক্ত করেছিলেন এবং (এই বারজনের) প্রত্যেকের সাথে লোকদের একটি দল ছিল যার সঠিক সংখ্যা একমাত্র আল্লাহ্ পাকই জানেন। মোটকথা তারা সবাই ঐ খাবার পেট ভরে খেল।

          অন্য একটি রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, তখন হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) কসম খেলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। তাঁর স্ত্রীও কসম খেলেন তিনি খাবার খাবেন না। (এ দৃশ্য দেখে) মেহমান বা মেহমানরাও কসম খেলেন, তারা খাবেন না যে পর্যন্ত না হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খাবার খান। এ অবস্থা দেখে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিজে খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। তারা সবাই এক লোকমা খাবার উঠাতে না উঠাতেই তার নীচে তার চেয়ে বেশী হয়ে যেত। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তাঁর স্ত্রীকে বললেন, “হে বনী ফিরাসের বোন, এ কি ব্যাপার!” তিনি বললেন, হে আমার চোখের শীতলতা (অর্থাৎ হে আমার প্রিয় স্বামী) এতো দেখছি এখন আমাদের খাবার আগের চাইতে অনেক বেশী হয়ে গেছে, কাজেই সবাই খেলেন এবং (অবশিষ্ট) খাবার নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেদমতে পাঠিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তা থেকে খেয়েছেন। (অসমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন:  খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন:       খুলুক্বিন আযীম

তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত