তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

সংখ্যা: ৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা

ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক কুরআনে কারীমায় অনেক আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন। যেমন, মহান আল্লাহ্ পাক বলেন,

قال الله تعالى؛ الا ان اولياء الله لا خوف عليهم ولاهم يحزنون – الذين امنوا وكانوا يتقون- لهم اليشرى فى الحيوة الدنيا وفى الاخرة لاتبديل لكلمت الله، ذلك هو الفوز العظيم-

তরজমাঃ “জেনে রাখ, আল্লাহ্ পাক-এর ওলী (বন্ধুদের) জন্য কোন ভয়ের কারণ নেই এবং তাদেরকে চিন্তাগ্রস্তও হতে হবেনা। যারা ঈমান এনেছে ও তাক্বওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে রয়েছে সু-সংবাদ। আল্লাহ্ পাক-এর কথায় কোন পরিবর্তন হয়না। এই ঘোষিত সু-সংবাদ অবশ্যই বিরাট সাফল্যের প্রতীক।” (সূরা ইউনুছ/৬২-৬৪)

          পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ্ পাক ইত্যকার মর্যাদা সম্পন্ন অনেক ওলীআল্লাহ্গণের কথা বর্ণনা করেছেন। হযরত মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম, আসহাবে কাহাফ, হযরত আসফ বিন বরখিয়া প্রমুখ ওলীআল্লাহ্গণের কথা, তাঁদের কারামত ও ফযীলতের কথা কুরআন শরীফেই বর্ণিত আছে।

          মহান আল্লাহ্ পাক বলেন,

وهزى اليك بجذع النخلة تسقط عليك رطبا جنيا – فكلى واشربى.

তরজমাঃ “আর খেজুরের ঐ কান্ডটি (হে মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম) নিজের দিকে ধরে নাড়া দিন, তা থেকে আপনার জন্য পড়বে তরতাজা খুরমা। কাজেই আপনি তা খান ও পানি পান করুন আর চোখ শীতল করুন।” (সূরা মারইয়াম/২৫) মহান আল্লাহ্ পাক আরো বলেন,

 كلما دخل عليها زكريا المحراب وجد عندها رزقا قال يمريم انى لك هذا، قالت هو من عند الله ان الله يرزق من يشاء بغير حساب.

তরজমাঃ “যখনই হযরত যাকারিয়া আলাইহিস্ সালাম তাঁর কাছে ইবাদত খানায় আসতেন, তাঁর কাছে দেখতেন কিছু খাদ্য। জিজ্ঞেস করতেন, হে মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম! এসব তোমার কাছে কোথা থেকে এলো? হযরত মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম জবাব দিতেন, এতো আল্লাহ্ পাক-এর কাছ থেকে এসেছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ পাক যাকে চান তাঁকে রিযিক দান করেন বিনা হিসেবে।” (আলে ইমরান/৩৮) আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পাক আরো বলেন,

واذا اعتزلتموهم ومايعبدون الا الله فاوا الى الكهف ينشرلكم ربكم من رحمته ويهيئ لكم من امركم مرفقا. وثرى الشمس اذا طلعت تزور عن كهفهم ذات اليمين واذا غربت تقرضهم ذات الشمال.

তরজমাঃ “আর যখন তোমরা (আসহাবে কাহ্ফ) তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছ এবং আল্লাহ্ পাক ছাড়া তাদের অন্যান্য মা’বুদদের থেকেও। কাজেই এখন তোমরা (অমুক) গুহার মধ্যে গিয়ে আশ্রয় নাও। তোমাদের উপর তোমাদের রব তাঁর রহমত ছড়িয়ে দিবেন। আর তোমাদের জন্য তোমাদের কাজে সাফল্য দান করবেন। আর তুমি তাদেরকে গুহার ভিতর দেখতে পারলে দেখতে, সূর্য যখন উদয় হয় তখন তাদের গুহা ছেড়ে ডান দিক থেকে উপরে উঠে যায় আর যখন অস্ত যায় তখন তাদের থেকে আড়ালে থেকে বাম দিকে নেমে যায়।” (সূরা কাহ্ফ/১৬)  আসিফ বিন বরখিয়া সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক আরো বলেন,

قال يايها الملؤ ايكم ياتينى بعرشها قبل ان ياتونى مسلمين قال عفريت من الجن انا اتيك به قبل ان تقوم من مقامك وانى عليه لقوى امين- قال الذى عنده علم من الكتب انا اتيك به فبل ان يرتد اليك طرفك فلما راه مستقرا عنده قال هذا من فضل ربى ليبلونىء اشكر ام اكفر ومن شكر فانما يشكر لنفسه ومن كفر فان ربى غنى كريم.

তরজমাঃ “হযরত সুলায়মান আলাইহিস্ সালাম বললেন, হে পরিষদবর্গ তারা আত্মসমর্পণ করে আমার নিকট আসার পূর্বে কে বিলকীসের, সিংহাসন আমাকে এনে দেবে? জনৈক জ্বিন বললেন, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি এ কাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।

          কিতাবের জ্ঞান যার ছিল (হযরত আসিফ বিন বরখিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি বললেন, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর হযরত সুলায়মান আলাইহিস্ সালাম যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন তখন বললেন, এটা আমার রবের অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। (সূরা নমল/৩৮, ৩৯, ৪০) (অসমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন : ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত

তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন

তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন

তাফসীরুল কুরআন: রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম