তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন

সংখ্যা: ৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা

“তিবরানি শরীফে” বর্ণিত হয়েছে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কবর যেন খনন করা না হয়। খনন করলে কবরবাসীদের গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়বে। কেননা তাঁদের সঙ্গে আল্লাহ্ পাক-এর একটি গোপন সম্পর্ক বিদ্যমান।”

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “মৃতকে সমাহিত করার পর কবর থেকে বের করা উচিত নয়। তবে নিম্ন বর্ণিত কারণে মৃতদেহ বের করা যেতে পারে। যেমন, কবরস্থানের জমি যদি কেউ জবর দখল করে, কবরের জমি যদি অংশীদারদের প্রাপ্য হয়, জলাশয় বা নদীর নিকটবর্তী হওয়ায় যদি বিধ্বস্ত হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, শত্রুর দেশে যদি সমাধিস্থ করা হয়। অথবা জনবসতি সংলগ্ন হওয়ার কারণে যদি কবরের প্রতি সমীহবোধ উঠে যাবার আশংকা থাকে কিংবা কেউ যদি কবরের স্থানে উট বা অন্য কোন জন্তুর বসবাস নির্ধারণ করে।” এ সমস্ত ক্ষেত্রে কবর স্থানান্তর করা যাবে বলে আলিমগণ অভিমত প্রকাশ করেছেন। অন্যথায় সমাধিস্থ স্থানেই থাকতে দেয়া মুস্তাহাব। অনেক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমকে শত্রুদেশে সমাধিস্থ করা হয়েছিলো, কিন্তু তাঁদেরকে মুসলমানদের এলাকায় স্থানান্তর করা হয়নি। স্থানান্তর করার কারণ দেখা দিলে অবশ্য এরূপ করাতে দোষ নেই।

          “ফতওয়ায়ে খানিয়াতে” উল্লেখ রয়েছে, “কোন লোক যদি দূরের কোন শহরে মৃত্যুবরণ করে, তবে তাকে সেখানেই কবরস্থ করা মুস্তাহাব। শহরান্তরিত করা হলেও দোষ নেই।” হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্ সালাম মিশরে ইন্তিকাল করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে দাফন করা হয়েছিলো সিরিয়ায়।

          হযরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইন্তিকাল করেছিলেন মদীনা শরীফ থেকে বার মাইল দূরের একস্থানে। সেখানেই সমাহিত হয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর দেহ মুবারক উঠিয়ে এনে মদীনা শরীফ দাফন করা হয়। মৃতদেহ স্থানান্তরের এ রকম আরো অনেক বিবরণ রয়েছে।

          “বায়হাক্বী শরীফে” বর্ণিত হয়েছে, “আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নহরে কুজামা খনন করলেন। সেই নহরের প্রবাহ- পথে পড়লো ওহুদের শহীদগণের কবর। তিনি ঘোষণা দিলেন, শহীদগণের ওয়ারিসরা যেনো তাঁদের পবিত্র লাশ অন্যত্র সরিয়ে নেন। ঘোষণা শুনে নিকটজনেরা ওহুদ প্রান্তরে একত্রিত হলেন। কবর খনন করা হলো। দেখা গেলো, শহীদগণের পবিত্র লাশসমূহ সম্পূর্ণ সতেজ। মনে হচ্ছিলো, তাঁদের কেশগুচ্ছ এখনো বর্ধনশীল। খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎ একজন শহীদের পায়ে কোদালের আঘাত লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো রক্ত প্রবাহ। শহীদগণের মাযার শরীফ গুলো ছিলো মেশ্ক আম্বরের সুবাসে ভরপুর। ঘটনাটির বিবরণ দিয়েছেন ইবনে আবি শাইবাহ, বায়হাক্বী। হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে। তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত একথাটি রয়েছে যে, “কোদালের আঘাতটি লেগেছিল শহীদ সমাজের সর্দার হযরত হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পায়ে।”

          হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে তিবরানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কুরআন শরীফ ধারণকারী কেউ যখন ইন্তিকাল করেন, তখন আল্লাহ্ পাক মাটিকে এই মর্মে নির্দেশ দেন, যেন সে ওই ব্যক্তির লাশ ভক্ষণ না করে। মৃত্তিকা তখন আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে নিবেদন জানায়, “বারে ইলাহী! আমি তার লাশ ভক্ষণ করি কিরূপে? সে যে আপনার কালামে পাক-এর ধারক।”

          হযরত ইবনে মান্দা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, এ বিষয়টির উপরে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বহু সংখ্যক বর্ণনা রয়েছে। কুরআন পাক-এর ধারক বলতে মূলতঃ ছিদ্দীকগণকে বুঝায় এবং কুরআন পাক-এর বরকত বিশেষভাবে তাঁদের সাথে জড়িত। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন, لا يمسه الا المطهرون.

          “পবিত্র লোক ব্যতীত কেউ কালাম পাক স্পর্শ করতে পারে না।” (সূরা ওয়াক্বিয়া/৭৯)

          অর্থাৎ যারা অসৎ স্বভাব থেকে পবিত্র, তাঁদেরই রয়েছে কুরআন শরীফ স্পর্শ করার প্রকৃত অধিকার। আর তাঁরা হচ্ছেন ছিদ্দীক।

          মারুজী বর্ণনা করেছেন, হযরত কাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, এই কথাটি আমার উত্তমরূপে জানা আছে যে, যিনি পাপমুক্ত, মাটি তার লাশের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। আমি বলি, তাঁরাই আল্লাহ্ পাক-এর ওলী। তাঁরা গুণাহ্ থেকে সুসংরক্ষিত। তাঁদের দেহ-মন এমন এক যোগ্যতা লাভ করে যাতে করে তাঁদের দ্বারা গুণাহ্ সংঘটিত হয়না। আল্লাহু আ’লাম।

তাফসীরুল কুরআন: কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কুন

তাফসীরুল কুরআন: রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাফসীরুল কুরআন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আমাদের মত মানুষ নন’

তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর