তাফসীরুল কুরআন: গীবতকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং তাদের দোয়াও কবুল হয়না

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিয, ক্বারী, মুফতী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা

ويل لكل همزة لمزة.

অর্থঃ- “প্রত্যেক, পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ।” (সূরা হুমাযাহ্/১) তাশরীহ্ ঃ আলোচ্য আয়াত শরীফ নাযিল বা অবতীর্ণ হয়েছে, অভিশপ্ত-নাপাক ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ্ সম্পর্কে। সে আখিরী রসূল, উসওয়াতুন্ হাসানা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-এর সম্মুখে নিন্দাবাদ করতো। এ আয়াত শরীফ যদিও এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ হয়েছে তবুও এর অর্ন্তনিহিত নছীহত সকলের জন্য প্রযোজ্য। কারণ ‘নুযূল খাছ কিন্তু হুকুম আম’ হয়ে থাকে।   এক সফরে সাইয়্যিদুনা হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সঙ্গে ছিলেন এবং প্রয়োজনে তিনিই খাবারের আয়োজন করতেন। এক স্থানে খাবারের প্রয়োজন হলেও সফরের ক্লান্তি হেতু সাইয়্যিদুনা হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খাবার তৈরী না করে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট হতে খাওয়ার কিছু নিয়ে আসতে গিয়েও কিছু পেলেন না; কারণ তখন সেখানেও উপস্থিত ছিলোনা। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মৃদু মন্তব্য করেছিলেন এই বলে যে, “তিনি কোন কূয়ের নিকটে গেলেও মনে হচ্ছে তা শুষ্ক পাবেন।” এতটুকু কথার পরই কুরআন শরীফের এ আয়াত শরীফ নাযিল হয়ে যায়-

ولا يغتب بعضكم بعضا.

অর্থঃ- “তোমরা একে অপরের গীবত করোনা।” (সূরা হুজুরাত/১২) অর্থাৎ ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে পূর্বে গীবতের সংজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি। অতঃপর আল্লাহ্ পাক আয়াত শরীফ নাযিল করে তাঁদেরকে তা অবহিত করেন এবং তাঁরা পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করেন।  সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারোও (গীবত করে তার) গোশ্ত খেয়েছে ক্বিয়ামতের দিন তার সামনে সে (গীবতকৃত) ব্যক্তির লাশ পেশ করে বলা হবে, “এই নাও দুনিয়াতে যার জীবিতাবস্থায় গোশ্ত ভক্ষণ করেছিলে এখন তার মৃত দেহের গোশ্ত খাও।”    অতঃপর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্নের আয়াতাংশ তিলাওয়াত করলেন,

ايحب احدكم ان يأكل لحم اخيه ميتا.

  অর্থঃ- “তোমরা কেউ কি স্বীয় মৃত ভ্রাতার গোশ্ত খেতে পছন্দ করবে? (সূরা হুজুরাত/১২)

সাইয়্যিদুনা হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক যামানায় গীবতের দুর্গন্ধ অনুভব করা যেতো। কারণ তখন গীবতের অস্তিত্ব ছিলো খুবই কম। কিন্তু আজকাল গীবতের প্রাদুর্ভাবের কারণে মূর্খ-হিংসুক লোকেরা এতে খুবই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এর বিশ্রী দুর্গন্ধ আর অনুভব হয়না।  যেমন, কোন অনভ্যস্থ ব্যক্তি কোন চামড়ার গুদামে হঠাৎ প্রবেশ করলে একদন্ড সেখানে অবস্থান করতে পারেনা। অথচ চামড়া শুষ্ককারী ব্যবসায়ীরা সেখানে দিনভর কাটাচ্ছে, চামড়ার উপর বসে দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করছে; কিন্তু অভ্যস্ত হওয়ার কারণে কোনরূপ দুর্গন্ধ অনুভব করছেনা। গীবতের অবস্থাও ঠিক অনুরূপ।  (অসমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে

তাফসীরুল কুরআন: মি’রাজুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাফসীরুল কুরআন শরীফ: তাছাউফপন্থীগণই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদের সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন  তাছাউফপন্থী উনারাই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদ উনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়-২

তাফসীরুল কুরআন: গীবতকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং তাদের দোয়াও কবুল হয়না