তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর

সংখ্যা: ৯৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিয, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা।

          (ধারাবাহিক)

উদাহরণঃ কিব্তী (ফিরআউনরা) সিব্তী (ইসরাঈলীদের) সীমাহীন নিকৃষ্ট গোত্র হিসাবে জানতো। কিন্তু যখন তাদের উপর রক্তের আযাব এলো তখন কিব্তীরা, সিব্তীদের সাথে একই পাত্রে আহার করলেও কিব্তী প্রান্তে খুন (রক্ত) পক্ষান্তরে সিব্তী প্রান্তে সালুন (তরকারী) হতো। অবশেষে সিব্তীগণ আপন মুখে খাদ্য-পানীয় নিয়ে তা ফিরআউনী কিব্তীদের মুখে ঢেলে দিতো। কিন্তু তখনো দেখা যেত যে, সিব্তীদের মুখের পানি কিব্তীদের মুখে নাপাক রক্ত হয়ে যেত। অর্থাৎ পরম কুশলী পরওয়ারদিগার আল্লাহু জাল্লা সুল্ত্বানুহু কেমন বিচক্ষণতায় ইসরাঈলীদের থেকে ফিরআউনীদের মুখে থুথু, লালা ও কুলি প্রবেশ করালেন। যে মুখের শব্দ একদিন সবচেয়ে ঘৃণিতবোধ হতো- আজ সেই মুখের চর্বিত খাদ্য গ্রাস জীবন ধারণের অবলম্বন হলো। এ যেন অহংকার ও গর্বের চমৎকার বিনিময়।

ফায়েদাঃ (২) অপরদিকে এর বিপরীত পৃথিবীতে মু’মিনগণ তাঁদের খালিক্ব ও রবের জন্য নিজেদের আযিযী-ইন্কিসারী তথা বিনীত-বিনম্র আচরণ এবং মাখলুকের সাথে সহজ-সরলতা ও বিনয়ের পরিণাম আখিরাতে ইজ্জত-সম্মান ও সফলতা তথা জান্নাত প্রাপ্তি।

ফায়দা ঃ (৩) জান্নাত উপরে আর জাহান্নাম নীচে যা আফীদ্ব শব্দ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে। কারণ, ইফাদ্বাহ্ অর্থ হলো উপর থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হওয়া।

ফায়েদা ঃ (৪) জাহান্নামী কাফিরদের সাথে জান্নাতী মু’মিনদের সর্বোতভাবে কোন মুহব্বত থাকবে না। তাদের নাজেহাল ক্রন্দসী অবস্থায়ও তাদের জন্য কোনরূপ দয়া-মায়া হবেনা। যদিও তারা পুত্র-কন্যা, বোন-ভাই অথবা মাতা-পিতা, স্ত্রী ও প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন যেই হোক না কেন।

ان الله حرمهم الخ.

          এটা থেকে বুঝা গেল, জান্নাতীগণ তাঁদের রবের কাছে দু’য়াও করবেন না যে, আয় বারে খোদা! আমাদের জাহান্নামী প্রিয়জনদেরকে কিছু পানাহার প্রদানের অনুমতি দিন।” অর্থাৎ সেখানে মুহব্বত হবে ঈমানী, রক্ত তথা আত্মীয়তার সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

যেমন, আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন,

الاخلاء يومئذ بعضهم لبعض عدو الا المتقين.

অর্থাৎ- বন্ধুরা সেদিন একে অপরের শত্রু হয়ে পড়বে তবে মুত্তাক্বী বা পরহেযগারগণ নয়।” (সূরা যুখরূফ/৬৭)

ফায়েদা ঃ (৫) মু’মিনের জীবন আখিরাতের ক্ষেতি হিসেবে নেকী অর্জনের জন্য হয়ে থাকে। সে দুনিয়াতে তাক্বওয়ার বীজ বপন করে আখিরাতে তার ফসল কেঁটে নিবে। আর তা দ্বারা উপকৃত হবে, উপকার করবে। মূলতঃ মু’মিনের যিন্দেগীর নাম হায়াতে ত্বইয়্যিবাহ্, হায়াতে দুনিয়া নয়। আল্লাহ্ পাক এমন যিন্দেগী আমাদের নছীব করুন।

হেকায়েত ঃ (১) একবার আবু জাহিল কৌতুক ও পরিহাস করার জন্য এক ব্যক্তিকে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্, নূরে মুজাস্সাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে এই বলে পাঠালো যে, তিনি যেন তাঁর জান্নাত থেকে একগুচ্ছ আঙ্গুর আর কিছু ফল-ফলাদি আমার জন্য পাঠিয়ে দেন। বার্তা বাহক যখন আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে ঐ প্রলাপ বক্ছিল তখন সেখানে উপস্থিত হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তৎক্ষনাত বললেন,

ان الله حرمهما على الكفرين.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তায়ালা কাফিরদের জন্য তা হারাম করেছেন।”

হেকায়েত ঃ (২) একবার ক্বারী আহমদ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি পাক পাটান শরীফ থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে এক ওহাবী (অর্থাৎ মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজ্দীর মানসপুত্র) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, “আপনি কোথা থেকে আস্ছেন?” তিনি বললেন, “পাক পাটান শরীফ থেকে।” তখন সেই আক্বীদা ভ্রষ্ট ওহাবী তাঁর শরীর শুঁকতে শুরু করলো। তিনি বললেন, “কি শুঁকছো হে?” সে বললো, “পাক পাটানে নাকি বেহেশ্তের দরজা আছে আর আপনি তো সেখান থেকেই আসছেন সেজন্য আপনার শরীর থেকে খুশবু গ্রহণ করতে চাচ্ছি।” তখন ক্বারী ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে বললেন, “বেহেশ্তের খুশবু জাহান্নামীদের জন্য হারাম।” এহেন জবাবে ঐ ওহাবী নীরব হয়ে যায়। (সমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর

তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে

তাফসীরুল কুরআন: মি’রাজুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাফসীরুল কুরআন শরীফ: তাছাউফপন্থীগণই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদের সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন  তাছাউফপন্থী উনারাই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদ উনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়-২