তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর

সংখ্যা: ৯৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

-পীরে কামিল, হাফিয, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা।

ونادى اصحب النار اصحب الجنة ان افيضوا علينا من الماء او مما رزقكم الله قالوا ان الله حرمهما على الكفرين.

অর্থঃ- “জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দিন অথবা আল্লাহ্ পাক আপনাদেরকে জীবিকারূপে যা দিয়েছেন তা থেকেই কিছু দিন। জান্নাতবাসীরা বলবেন, আল্লাহ্ পাক এ দু’টোই কাফির বা অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।” (সূরা আ’রাফ/৫০)

তাশরীহ্ঃ বর্ণিত এ আয়াত শরীফ মূলতঃ কুরআন শরীফে উদ্ধৃত জাহান্নামবাসীদের বক্তব্যের মধ্য হতে ১টি। এখানে জাহান্নামীদের করুণ, বীভৎস পরিণতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেসব গর্বিত, অহংকারী সর্দারশ্রেণী দুনিয়াতে নিজেদের বড়ত্ব ও দাম্ভিকতা প্রকাশ করতঃ সহজ, সরল, নিরীহ ঈমানদারকে (ইধপশফধঃবফ) সেকেলে বলে মিসকীনসম হেয়ঃ প্রতিপন্ন করতো তারাই জাহান্নামে চল্লিশ বছর পর্যন্ত কেঁদে কেঁদে চোখ থেকে অশ্রু ও রক্ত ঝরিয়ে ঐসব পরিচিত, তাচ্ছিল্লকৃত ব্যক্তি, যারা তখন জান্নাতের মর্যাদায় সমাসীন তাদের কাছে ভিক্ষা প্রার্থনা করবে। কিন্তু ভাগ্য বিড়ম্বিত ঐসব অহংকারী জাহিলদের তা হতে চির মাহরূম বা বঞ্চিত হতে হবে। কারণ জাহান্নাম, জান্নাতী খাদ্য তথা নিয়ামত পরিবেশনের উপযুক্ত স্থান নয়। সুস্বাদু খাদ্যের স্বাদ গ্রহণের জন্য আরামদায়ক, মনোরম, ছায়াঘেরা, মৃদুমন্দ বায়ূহিল্লোল পরিবেশ মানানসই বটে। তাই আল্লাহ্ পাক জান্নাতীদের প্রদত্ত অফুরন্ত নিয়ামতের প্রশংসায় ইরশাদ করেছেন,

اولئك لهم رزق معلوم فواكه وهم مكرمون فى جنت النعيم على سرر متقبلين يطاف عليهم بكاس من معين بيضاء لذة للشربين لافيها غول ولاهم عنها ينزفون.

অর্থাৎ- তাঁদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত জীবনোপকরণ, ফল-মূল এবং তাঁরা হবে সম্মানিত। আদরনীয় সুখ কাননে, মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন। তাঁদেরকে ঘুরে-ফিরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ পানীয়; শুভ্র-উজ্জ্বল পাত্রে, যা হবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে মাথা ব্যাথার উপাদান নেই এবং তাঁরা তা পান করে মাতালও হবে না।” (সূরা ছফ্ফাত/৪১-৪৭)

পক্ষান্তরে জাহান্নামীদের অখাদ্য, কুখাদ্য প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন,

اذلك خير نزلا ام شجرة الزقوم انا جعلنها فتنة للظلمين انها شجرة تخرج فى اصل الجحيم طلعها كانه رئوس الشيطين فانهم لاكلون منها فمالئون منها البطون ثم ان لهم عليها لشوبا من حميم.

অর্থঃ- (নষ্ট ও ভ্রষ্ট আত্মা) আপ্যায়নের জন্য কি এটিই শ্রেয়ঃ না (যন্ত্রণাদায়ক) যাক্কুম বৃক্ষ? সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য আমি এটা সৃষ্টি করেছি বিপদস্বরূপ। এ বৃক্ষ জাহান্নামের তলদেশ হতে উদগত হয়। এর গুচ্ছ শয়তানের মাথার মতো। সীমালঙ্ঘনকারীরা এটা ভক্ষণ করবে আর উদরপূর্ণ করবে। তদুপরি তার সঙ্গে তাদের ফুটন্ত পানি দেয়া হবে।” (সূরা ছফ্ফাত/৬২-৬৭)

ফায়েদা ঃ (১) বুঝা গেল, আখিরাত, দুনিয়ার উল্টা বা বিপরীতমূখী বাস্তবতা প্রদর্শন করবে। যেহেতু ইহকাল ও পরকাল পরস্পর সতীনতুল্য। এদের একটি সন্তুষ্ট হলে অপরটি রুষ্ট হয়। পার্থিব বস্তুকে সম্মান করলে পরকাল অপমানিত হয় আর পরকাল সম্মানিত হলে পার্থিব বস্তুসমূহ অপমানিত হয়। এদুটো একত্রিত হওয়া- দুই বিপরীত বস্তুর একত্র হওয়াতুল্য। কবি বলেন,

“কত যে সুন্দর হতো মানবের হাল,

 একত্রিত হতো যদি ইহ-পরকাল।”

          যেমন, দুনিয়াতে আত্মগর্ব-অহংকার আখিরাতে লাঞ্ছনা-গঞ্জনায় পর্যবসিত হবে। অর্থাৎ ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীদের দর্প-দাম্ভিকতা যা তাদেরকে দুনিয়াতে দরিদ্র মুসলমানদের সাথে কথা বলতেও অহংবোধে তাড়িত করতো, পরিণতিতে তারাই জাহান্নামে পৌঁছে ঐসব মজলুমদের কাছেই পানাহার ভিক্ষা চাইবে- যা তাদের গর্ব-অহংকারের করুণ পরিণতি। (অসমাপ্ত)

তাফসীরুল কুরআন: জাহান্নামীদের বক্তব্য ও তার প্রত্যুত্তর

তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে

তাফসীরুল কুরআন: মি’রাজুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাফসীরুল কুরআন শরীফ: তাছাউফপন্থীগণই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদের সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়

তাফসীরুল কুরআন  তাছাউফপন্থী উনারাই বিনা হিসাবে জান্নাতী হবেন। কারণ, তাওহীদ উনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর লালিত সৌভাগ্য ও ইখলাছের সাথে ইবাদত করার দুর্লভ স্বাদ তাছাউফ ব্যতীত সম্ভব নয়-২