-হাফিযে হাদীস, হযরত মাওলানা মুহম্মদ ফজলুল হক।
سبحن الذى اسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الاقصا الذى بركنا حوله لنريه من ايتنا انه هو السميع البصير.
অর্থঃ- “তিনিই সেই মহান পুতপবিত্র সত্ত্বা যিনি তাঁর এক বান্দাকে রাত্রির সামান্য সময়ে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত পরিভ্রনণ করিয়েছেন। যার চতুর্পাশ আমি (আল্লাহ্ পাক) বরকতময় করেছি আমার নিদর্শনাবলী তাঁকে দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দর্শণকারী।” (সূরা বণী ইস্রাঈল/১)
তাফসীর : আলোচ্য আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে মি’রাজ শরীফ দান করেছেন তার বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সর্বমোট ৩৪বার মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছে। ৩৩ বার হয়েছে স্বপ্নযোগে বা রূহানী ভাবে যা হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন।
আর একবার হয়েছে স্ব-শরীরে। যা আলোচ্য আয়াত শরীফ ও ৪৫ জন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বর্ণনা করেছেন।
বর্ণিত আয়াতে কারিমায় মহান আল্লাহ্ পাক عبده (তাঁর বান্দাকে) বলে এ কথাই বুঝিয়েছেন যে জিসিম (শরীর) ও রূহ-এর সমন্বয়েই এটা সংঘটিত হয়েছে। আর عبده (আবদিহী) বলে আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। কারণ তিনিই হচ্ছেন হাক্বীক্বীভাবে আবদিয়াতের মাকামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও যোগ্যতম ব্যক্তি। মূলতঃ আবদিয়াতের মাকামই বান্দার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মাকাম। আর এ মাকামেরই সর্বশ্রেষ্ঠ ও পূর্ণ যোগ্যতম মহান ব্যক্তিত্ব হলেন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আলোচ্য আয়াত শরীফে عبده (আবদিহী) বলে মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রমাণ দিয়েছেন। অর্থাৎ আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বী عبد (আবদ) হওয়ার কারণেই আল্লাহ্ পাক মি’রাজ শরীফ দান করেছেন। যা অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামকে দান করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মি’রাজ শরীফ দান করেছেন আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশার্থে এবং আরো লক্ষ কোটি কারণে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন,
وما جعلنا الرعيا التى ارينك الا فتنة للناس.
অর্থঃ- “আমি আপনাকে মি’রাজ শরীফ দান করেছি (এর দ্বারা) মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য।” (সূরা আহ্যাব/৬০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুহূর্তের মধ্যে কাবা শরীফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস সেখান থেকে আরশে আযীম, লওহো-কলম, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি সবকিছু ঘুরিয়ে এনেছেন। এর দ্বারা মানুষকে পরীক্ষা করা ও একটি উদ্দেশ্য যে, কে এ মহান মু’জিযা নির্দ্ধিধায় বিশ্বাস করে, আর কে অস্বীকার করে কাফির হয়ে যায়।
মূলতঃ আল্লাহ্ পাক-এর কোন কাজই হিকমত থেকে খালি নয়। যা হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
ان الله حكيم فعله وامره ونهيه لا يخلو عن الحكمة.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক হাকীম। তাঁর কোন কাজ, কোন আদেশ, কোন নিষেধ হিকমত থেকে খালি নয়।”
অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক-এর সকল কাজই হিকমতে পরিপূর্ণ। তাই স্ব-শরীরে মি’রাজ শরীফ দান করার মধ্যে একটি হিকমত হলো, মুসলমান, কাফির ও মুনাফিকদেরকে চিহ্নিত করে পৃথক করে দেয়া।
আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে মি’রাজুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করতঃ এর হাক্বীক্বত উপলব্ধি করে তা থেকে ফায়দা হাছিল করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে
তাফসীরুল কুরআন: গীবতকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং তাদের দোয়াও কবুল হয়না
তাফসীরুল কুরআন: গীবতকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং তাদের দোয়াও কবুল হয়না