-পীর কামিল, হাফিয, ক্বারী, মুফতী, আলহাজ্জ হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা।
وان تبدوا ما فى النفسكم اوتخفوه يحاسبكم به الله فيغفر لمن يشاء ويعذب من يشاء.
অর্থঃ- “তোমাদের অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করো বা গোপন রাখো। আল্লাহ্ তায়ালা তার হিসাব তোমাদের নিকট হতে গ্রহণ করবেন। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দিয়ে থাকেন” (সূরা বাক্বারা/২৮৪)
তাফসীর ঃ বান্দার সাথে সৃষ্টিকর্তার পরিচয় লাভ করার জন্য যে জ্ঞানের প্রয়োজন তাহলো, শরীয়ত, তরীক্বত, মারিফাত ও হাক্বীক্বত যা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্বওল বা কথা। ফেল বা কর্ম, হাল বা অবস্থা এবং রহস্যেরই অপর নাম (যা তাছাউফের পরিভাষা মাত্র)। মূলতঃ এ সমস্ত জ্ঞানের অভাবেই আল্লাহ্ পাক-এর সাথে বান্দার মহামিলন পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়ে থাকে।
এ কথা তো জানাই আছে যে, প্রকৃত জীবন লাভ করতে হয় জীবনের বিনিময়েই। মানুষের মস্তিস্ক জাত জ্ঞান, বুদ্ধি, চিরন্তন অভ্যাসের পথ নির্ণয় করতে অক্ষম। এজন্যই মস্তিস্কের প্রসারতার সাথে সাথে বরং অগ্রে অগ্রে ক্বালব অর্থাৎ (শরহে ছুদূর তথা) হৃদয় প্রসারিত হওয়া অপরিহার্য। কারণ, মধুর মিষ্টতা যেমন আস্বাদ গ্রহণ ব্যতীত শুধু তর্ক শক্তি দ্বারা বুঝা যায়না। তদ্রুপ দ্বীন-ইসলামের নিগূঢ় তত্ত্ব আভ্যন্তরীণ উপলব্ধি ব্যতীত শুধু বুদ্ধি দ্বারা বুঝা অসম্ভব।
যেমনটি ইরশাদ হয়েছে, لايمسه الا المطهرون.
অর্থঃ- “(ক্বালবের) পবিত্রতা ব্যতীত কেউ কুরআন শরীফ (এর হাক্বীক্বী অর্থ) স্পর্শ করতে পারবেনা।” (সূরা ওয়াকিয়াহ্/৭৯)
বুঝা গেল, ঈমান ও ইসলামের নিগূঢ় আবেদন ক্বালবের কাছে, হৃদয়ের কাছে (তথা রিজালুল্লাহ্ অর্থাৎ নবী ও ওলীআল্লাহ্দের সান্নিধ্য) দেহের কাছে নয়। কারণ যে আক্বল বা ধীশক্তি দ্বীনকে পরিবেষ্টন করেনা তা আক্বল নয় এবং যে ধর্ম আক্বলের উপর বিজয়ী হয়না তা ধর্ম নয়।
আলোচ্য আয়াতাংশে বস্তুতঃ তাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক মানুষের অন্তর, বাহির সবই দেখেন ও জানেন। মানুষের বাইরের দোষ দেখা যায়, অন্তরের দোষ দেখা যায়না। কিন্তু আল্লাহ্ পাক সবকিছুই দেখেন।
পৃথিবী মায়া, অন্যায় চিন্তা, পরশ্রীকাতরতা, কামনা-বাসনা, লাভ, নৈরাশ্য, ধৈর্যচ্যুতি, অহংবোধ এসবই হলো অন্তরের ব্যাধি।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “ঐ ব্যক্তি আমার উম্মত নয় যে অন্তরে মূর্খতার প্রতি আকর্ষণ বোধ করে।” (আবূ দাউদ)
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি কি তোমাদের বলবো না, দোযখবাসী কে? দোযখবাসী ঐ ব্যক্তি যে দাম্ভিক।” (বুখারী, মুসলিম)
উদ্বৃতি আয়াতাংশে বর্ণিত “মা ফী আনফুসিকুম”-এর উদ্দেশ্য, পাপ কাজের নিশ্চিত সংকল্প। ছহীহ্ হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “পাপ ধারণা অন্তরে লালন করলেও তা কার্যে রূপ না দেয়া পর্যন্ত লিখা হবে না। লিখা হবে ততটুকুই যুতটুকু সে আমল করে।”
ক্বিয়ামতের হিসাব অবশ্যই সত্য। তবে আল্লাহ্ পাক যাকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করবেন তার হিসাব গ্রহণ করবেন সহজভাবে। আর যাকে শাস্তি দিবেন তার হিসাব কঠিন করে দিবেন।
আহমদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্ শরীফে বর্ণিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার প্রতিপালক আমাকে কথা দিয়েছেন, তিনি আমার উম্মতের সত্তর হাজার মানুষকে হিসাব-কিতাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাদের প্রত্যেকের সাথে আরো সত্তর হাজার করে মানুষ থাকবে তারাও জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।”
জগতবিখ্যাত ওলী আল্লাহ্ আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের বর্ণনায় বুঝা যায়, বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীগণ হবেন তাছাউফপন্থী। কারণ তাঁরা আল্লাহ্ প্রেমিক।” (অসমাপ্ত)
তাফসীরুল কুরআন: চক্রান্তকারীরা মূলতঃ নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে
তাফসীরুল কুরআন: মি’রাজুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তাফসীরুল কুরআন: গীবতকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং তাদের দোয়াও কবুল হয়না
তাফসীরুল কুরআন: গীবতকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং তাদের দোয়াও কবুল হয়না