মুহম্মদ আব্দুর রউফ
والله لايدخل قلب امرئ مسلم ايمان حتى يحبكم لله ولقرابتى.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক-এর কছম! ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মুসলমান ব্যক্তির অন্তরে ঈমান দাখিল হবেনা (হাক্বীক্বীভাবে ঈমানদার হবেনা) যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টির জন্য আমার বংশধর হওয়ার কারণে কুরাঈশদেরকে মুহব্বত না করবে।” আওলাদুর রসূলগণ কুরাঈশগণের অন্তর্ভূক্ত অর্থাৎ আওলাদুর রসূলগণের মুহব্বতই ঈমানের অঙ্গ।” (আহমদ, ইবনে কাছীর)
আহ্লে বাইত তথা আওলাদুর রসূলগণের খুছূসিয়ত, মর্যাদা, মর্তবা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত সম্পর্কে অন্য হাদীস শরীফে রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ان اولادى كسفينة نوح من دخلها نجا.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমার আওলাদগণ-এর উদাহরণ হলো হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর কিস্তির ন্যায়। যে তাতে প্রবেশ করেছে (অর্থাৎ যে আমার আওলাদগণকে মুহব্বত করে) সেই নাযাত পেয়েছে।” (সিররুশ শাহাদাতাইন)
কোন চু-চেরা, কিল-কাল ব্যতীত দ্বিধাহীন চিত্তে আওলাদুর রসূলগণকে মুহব্বত করলে, তাযীম-তাকরীম করলে, খিদমত করলে অমূল্য সম্পদ ঈমান পর্যন্ত আল্লাহ্ পাক দান করতে পারেন। কেননা তাঁদের মুহব্বত জুয্-ই ঈমান। এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
সমরকন্দে এক বিধবা সাইয়্যিদজাদী বাস করতেন। তাঁর কয়েকজন সন্তান ছিল। একদিন তিনি তাঁর ক্ষুধার্ত সন্তানদেরকে নিয়ে এক কাজী ছাহেবের কাছে গেলেন এবং তাকে বললেন, “আমি সাইয়্যিদজাদী। আমার সন্তানগুলো কয়েকদিন যাবত উপবাস। তাঁদেরকে কিছু খেতে দিন।” ধন-দৌলতের মোহে বিভোর সেই কাজী ছাহেব বললো, “আপনি যদি সত্যিকার সাইয়্যিদজাদী হন তাহলে কোন প্রমাণ দেখান।” সাইয়্যিদজাদী বললেন, “আমি একজন গরীব বিধবা মহিলা, আমার কথা বিশ্বাস করুন, আমি কি দলীল পেশ করবো?” কাজী ছাহেব বললো, “মুখের কথা বিশ্বাস করিনা। দলীল দিতে না পারলে চলে যান।” সাইয়্যিদজাদী সন্তানদেরকে নিয়ে ফিরে গেলেন। পথে এক অগ্নি উপাসক নেতার সাথে তাঁর সাক্ষাত হলো। অগ্নিপূজক নেতা তাঁর দুঃখণ্ডদুর্দশার কথা শুনলেন। অগ্নিপূজক বললেন, “মোহতারেমা! যদিও আমি মুসলমান নই; কিন্তু আপনার সাইয়্যিদ বংশকে সম্মান করে থাকি। আসুন, আমার এখানে অবস্থান করুন, আমি আপনার রুটি-কাপড়ের জিম্মাদার হলাম।” এ বলে সে তাঁদেরকে স্বীয় ঘরে স্থান দিলেন। আর সন্তানদের খাওয়ালেন এবং খুবই আদর-যত্ন করলেন। দিবাগত রাতে সেই (নাম সর্বস্ব) মুসলমান কাজী ছাহেব স্বপ্নে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলো যে, তিনি এক বিরাট নূরানী মহলের পাশে তাশরীফ এনেছেন। কাজী ছাহেব জিজ্ঞেস করলো, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ নূরানী মহল কার জন্য?” হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসলমানের জন্য। সে বললো, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো মুসলমান, এটা আমাকে প্রদান করুন।” হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “মুসলমান হলে প্রমাণ কি? প্রমাণ পেশ কর তোমার ইসলামের।” কাজী ছাহেব এটা শুনে ভীষণ ঘাবড়িয়ে গেল। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমার সাইয়্যিদজাদী তোমার কাছে গেলে তুমি তাঁর কাছে সাইয়্যিদের দলীল চেয়েছ অথচ বিনা দলীলে এ মহলে প্রবেশ করতে চাও? তা কিছুতেই সম্ভব নয়।” এরপর কাজী ছাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং খুবই কান্নাকাটি করলো। সে খবর পেল সাইয়্যিদজাদী অমুক অগ্নিউপাসকের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। কাজী ছাহেব সেই অগ্নি উপাসকের কাছে গিয়ে বললো, “আমার কাছ থেকে এক হাজার দিরহাম গ্রহণ করুন এবং সাইয়্যিদজাদীকে আমার কাছে হস্তান্তর করুন।” অগ্নি উপাসক বললো, “আমি কি সেই নূরানী মহলটি এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিব? কখনো নয়। শুনুন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে যেই নূরানী মহল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি আমাকেও স্বপ্নে দেখা দিয়ে কলেমা পড়িয়ে সেই নূরানী মহলে প্রবেশ করিয়ে গেছেন। এখন আমি স্ত্রী, পুত্র, সন্তানসহ মুসলমান এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সু-সংবাদ দিয়ে গেছেন যে, তুমি স্ত্রী-সন্তানসহ জান্নাতী।” (নুজহাতুল মাজালিস)