নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে শব্দ ব্যবহারে কতটুকু আদব রক্ষা করা আবশ্যক

সংখ্যা: ৩০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থেই সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন। উনাকে সৃষ্টি মুবারক করা না হলে কোনো কিছুই অস্তিত্বে আসতো না। সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটুকু সম্মান করতে হবে, কতটুকু তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে, উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে কিভাবে কতটুকু সর্বোচ্চ আদবের সাথে শব্দ চয়ন করতে হবে সেটা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَا تَـجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَـيْـنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا

অর্থ: তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, সেভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করো না। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে ত্ববারানী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-

اَىْ اُدْعُوْهُ بِالْخُضُوْعِ وَالتَّعْظِيْمِ وَقُوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَا نَبىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ لِيْنٍ وَتَوَاضُعٍ وخَفْضِ صَوْتٍ وَلَا تَقُوْلُوْا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يَا اَبَا القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا يَدْعُوْ بَـعْضُهُمْ بَـعْضاً بِاِسْمِه

অর্থ: অর্থাৎ তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত বিনয় ও তা’যীমের সাথে সম্বোধন মুবারক করো। তোমরা অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে কন্ঠস্বর নিচু করে বলবে, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!  আর উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে এভাবে ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অথবা ইয়া আবাল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলে সম্বোধন করবে না। যেমনিভাবে তোমরা একে অপরকে নাম ধরে সম্বোধন করে থাকো। (তাফসীরুল কুরআনীল আযীম লিত ত্ববারানী)

হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

اَمَرَهُمْ اَنْ يَّـقُوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ لِيْنٍ وَتَـوَاضُعٍ وَلَا يَـقُوْلُوْا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ تَجَهُّمٍ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদেরকে আদেশ মুবারক করেছেন, অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন মুবারক করার জন্য। আর বিষন্নতা বা বিরক্তির সাথে উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত মুবারক ধরে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন। (তাফসীরে মুজাহিদ ২৭১ পৃষ্ঠা, তাফসীরে দুররে মানছূর ১১/১২৮)

এ কারণেই দেখা যায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে স্ব স্ব নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোনো স্থানেই সরাসরি উনার ইসমে জাত মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُـوْا لَا تَـقُوْلُوْا رَاعِنَا وَ قُـوْلُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوْا  وَ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابٌ اَلِیْمٌ

অর্থ: হে ঈমানদানগণ! তোমরা ‘রা‘ইনা’ বলো না, বরং ‘উনযুরনা’ বল এবং শোন। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)

এখানে (رَاعِنَا) শব্দের অর্থ হচ্ছে, আমাদের দিকে খেয়াল করুন! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মজলিস মুবারকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কোন কথা মুবারক বুঝতে না পারলে এই শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টা জানতে চাইতেন। কিন্তু ইহুদীরা বিদ্বেষ ও অবাধ্যতাবশত এই শব্দের কিছুটা বিকৃতি ঘটিয়ে ব্যবহার করত যাতে তার অর্থের পরিবর্তন ঘটতো এবং তারা নিজেরা এটা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন তারা এই শব্দে (ع) আঈন হরফের পর (ى) ইয়া বৃদ্ধি করে বলত, رَاعِيْنَا ‘রায়ীনা’ যার অর্থ হয় আমাদের রাখাল। নাঊযুবিল্লাহ! অথবা رَاعِنَا  ‘রায়িনা’ শব্দের আরো খারাপ অর্থ হচ্ছে নির্বোধ, মুর্খ, মেষশাবক। নাঊযুবিল্লাহ! তারা উক্ত শব্দটি দ্বারা সম্বোধন করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করতো, মানহানী করার চেষ্টা করতো। নাঊযুবিল্লাহ! আর এ দিকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ভালো উদ্দেশ্যেই উক্ত শব্দ ব্যবহার করতেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি বিষয়টা মেনে নিলেন না যে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামান্য থেকে সামান্যতর শানের খিলাফ হোক। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে বলে দিলেন, তোমরা اُنْظُرْنَا বলো,  رَاعِنَا  ‘রায়িনা’ বলোনা। (اُنْظُرْنَا) শব্দের অর্থ হচ্ছে, আপনি আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন। কিন্তু এখানে ইহুদীদের সেই খারাপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার কোনো সুযোগ রইলো না। সুবহানাল্লাহ!

এ থেকে বুঝা যাচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না যাতে ভালো-খারাপ দু’টোই বুঝায়, যাতে করে কাফির-নাস্তিকরা উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করার সুযোগ পায়। যদিও বক্তার উদ্দেশ্য ভালো হোক না কেন।

উল্লেখ্য, আমাদের দেশে এক মুরতাদ আজহারীর উত্থান হয়েছে। যেই মুরতাদটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঈড়নিড়ু (রাখাল) ঝযবঢ়যবৎফ (মেষপালক) ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্বোধন করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! আর সেটাকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য তার কিছু অন্ধভক্ত উঠে পরে লেগেছ। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে চরম পর্যায়ের বেয়াদবী, মানহানী ও কুফরী হয়েছে। যার ফলে সে মুরতাদ ও কাফির হয়ে গেছে। যারা তাকে এ বিষয়ে সমর্থন করছে বা করবে তারাও মুরতাদ ও কাফির হবে। নাঊযুবিল্লাহ! এখন ইসলামী খিলাফত জারী থাকলে তাদেরকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো।

সাধারণ অর্থে গরুর রাখালকে ঈড়ি নড়ু বলা হলেও এই শব্দের মারাত্বক খারাপ কিছু অর্থ রয়েছে। ১৮৮০ এর দশকে টম্বস্টোন, (যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি পশ্চিমা শহর।) এলাকায়, ‘কাউবয়’ শব্দটি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত পুরুষদের বর্ণনা করার জন্য নিন্দনীয়ভাবে ব্যবহার করা হতো। একটি সম্পাদকীয়তে লিখা হয়, ‘কাউবয়রা’ সেই বন্য দেশে সবচেয়ে বেপরোয়া শ্রেণীভুক্ত অপরাধী। সাধারণ ডাকাতদের চেয়ে এরা আরো বেশি খারাপ। এই এলাকায় কাউকে ‘কাউবয়’ বলাটা অপমানজনক হয়ে ওঠে, কারণ এটি ইঙ্গিত করে যে সে একজন ঘোড়া চোর, ডাকাত বা আইন বহির্ভূত লোক। অর্থাৎ এটি একটি গালিতে পরিণত হয়। আর এই মুরতাদ আযহারী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে এই শব্দ ব্যবহার করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! সেতো দেখা যাচ্ছে ইবলীসের চেয়েও বড় বেয়াদব। ইবলীসও এতো বড় বেয়াদবী করার সাহস করেনি, যেটা সে করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!

অনুরূপ ঝযবঢ়যবৎফ (মেষপালক বা রাখাল) এই শব্দটাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ব্যবহার করে কুফরী করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! ইহুদীরা তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রাখাল বলেই হাসি-ঠাট্টা করতো। নাঊযুবিল্লাহ! এখন যারা উনাকে রাখাল বলবে তারা আসলে ইহুদীই হবে। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে- مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَـهُوَ مِنْـهُمْ ‘যে ব্যক্তি যেই সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (আবূ দাঊদ শরীফ)

পূর্ববর্তী সমস্ত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকলেই দুম্বা, মেষ, খাসী, ছাগল চড়িয়েছেন। সেই তা’লীমের উদ্দেশ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও চড়িয়েছেন। কারণ কেউ যদি এই নিয়ত করে মেষ, দুম্বা, বকরী ইত্যাদি চড়ায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মেষ চড়িয়েছেন তাহলে সে একটি সুন্নত পালন করার কারণে ১০০ শহীদ উনাদের ছাওয়াব লাভ করবে। সর্ব অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ অর্থাৎ সবার জন্য উত্তম আদর্শ মুবারক। তাহলে যারা মেষ বা বকরী চড়ায় তাদের আদর্শ কে হবেন? এই জন্যই মূলত তিনি মেষ চড়িয়েছেন। কিন্তু এ কারণে উনাকে রাখাল বা এ জাতীয় কোনো শব্দে সম্বোধন করা যাবে না। করলে সেটা কুফরী হবে, যে করবে সে ঈমানহারা হয়ে জাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কতটুকু আদব বজায় রেখে শব্দ ব্যবহার করতে হবে সেটা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারকের নমুনা দেখলে বিষয়টা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ قَـيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدِّهٖ قَالَ وُلِدْتُ اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ‏.‏ وَسَاَلَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ قُـبَاثَ بْنَ اَشْيَمَ اَخَا بَنِىْ يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالى عَنْهُ اَاَنْتَ اَكْبَـرُ اَمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَكْبَـرُ مِنِّىْ وَاَنَا اَقْدَمُ مِنْهُ فِى الْمِيْلَادِ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ

অর্থ: হযরত ক্বাইস ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে, তিনি উনার সম্মানিত দাদা থেকে বর্ণনা করেন। উনার দাদা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং আমি হস্তী বছরে (আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের বছর) বিলাদত শরীফ গ্রহণ করি। (তিনি বলেন) ইয়া’মার ইবনে লাইছ গোত্রীয় হযরত কুবাছ ইবনে আশইয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, (বয়সের দিক থেকে) আপনি বড় নাকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড়? তিনি জবাব দিলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার চেয়ে অনেক বড়, তবে আমি বিলাদত শরীফ গ্রহণের দিক থেকে যমীনে আগে এসেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাতীর বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৬১৯)

আরো বর্ণিত রয়েছেন-

عَنْ حَضْرَتْ مُغِيْـرَةَ بْنِ اَبِىْ رَزِيْنٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قِيْلَ لِحَضْرَتْ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَيُّمَا اَكْبَـرُ اَنْتَ اَمْ اَلنَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ هُوَ اَكْبَـرُ مِنِّىْ وَ اَنَا وُلِدْتُ قَـبْـلَهٗ

অর্থ: “হযরত মুগীরা ইবনে আবী রযিন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম) উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় নাকি আপনি? তিনি জবাবে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার চেয়ে অনেক বড় তবে আমি উনার পূর্বে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি।” (মুস্তাদরাকে হাকিম ৩/৩৬২)

বিষয়টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম উনারা কিন্তু বলতে পারতেন যে আমি বড়। আর দুনিয়াবী বয়সের দিক থেকে উনারাই বড় ছিলেন এটাই সত্য। কিন্তু উনারা সেটা বলেননি। এখানেও উনারা সর্বোচ্চ আদবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যারা বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো মেষ চড়িয়েছেন তাহলে উনাকে ‘রাখাল’ বললে সমস্যা কি? তাদের জন্য উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে শিক্ষণীয় ও নছীহত হাছিল করার বিষয় রয়েছে।

এখানে আরেকটা বিষয় রয়ে গেছে সেটা হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তখনই কেউ সর্বোচ্চ সম্মান করতে পারবে, তা’যীম-তাকরীম করতে পারবে,  উনার প্রতি আদব বজায় রাখতে পারবে, যখন সে উনাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, তিনি নূরে মুজাসসাম, তিনি হাযির-নাযির, তিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব, তিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে মেনে নিবে। আর যদি কেউ মনে করে তিনি তাদের মতোই তাহলে কস্মিনকালেও তারা উনাকে সম্মান করতে পারবে না, উনার শানে আদব বজায় রাখতে পারবে না, এটা প্রমাণিত। বর্তমান বাজারের যে সমস্ত বক্তারা উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করে এরা এটাই মনে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের মতো। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত সৃষ্টিকে খাছ করে সমস্ত মুসলমানদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক বুঝে উনার মহাপবিত্র শান মুবারকে সর্বোচ্চ আদব বজায় রাখার এবং উনাকে সর্বক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-হাফিয মুহম্মদ ইবনে আব্দুস সালাম ফরাযী।

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা