নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক

সংখ্যা: ৩০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

كَانَ رَجُلٌ مِّنْ مُلُوْكِ اَهْلِ الْـجَبَلِ يَـاْتِــىْ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامَ السَّادِسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامَ جَعْفَرَ اَلصَّادِقَ عَلَيْهِ السَّلَامُ) فِـىْ حَجِّهٖ كُلَّ سَنَةٍ فَـيُـنْزِلُهٗ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ السَّادِسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِـىْ دَارٍ مِّنْ دُوَرِهٖ فِـى الْمَدِيْـنَةِ وَطَالَ حَجُّهٗ وَنُـزُوْلُهٗ فِـىْ بَـيْتِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ السَّادِسِ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِـحُبِّهِ الشَّدِيْدِ لَهٗ فَاَعْطٰى لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ السَّادِسِ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَشَرَةَ اٰلَافِ دِرْهَمٍ لِـيَشْتَـرِىَ لَهٗ دَارًا فِـى الْمَدِيْـنَةِ حَـتّٰـى لَا يُـزَاحِمَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ السَّادِسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِكَـثْـرَةِ مَـجِـيْـئِهٖ وَالْـبَـقَاءِ وَخَرَجَ اِلَـى الْـحَجِّ فَـلَمَّا اِنْصَرَفَ مِنَ الْـحَجِّ اَتٰى اِلـٰى سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ السَّادِسِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـقَالَ الرَّجُلُ جَعَلْتُ فِدَاكَ اِشْتَرَيْتَ لِــىَ الدَّارَ قَالَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ السَّادِسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ نَـعَـمْ وَاَتٰى بِصَكٍّ فِـيْهِ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْـمٰنِ الرَّحِـيْمِ

هٰذَا مَا اِشْتَـرٰى سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِفُلَانِ بْنِ فُلَانٍ اَلْـجَبَلِـىِّ لَهٗ دَارٌ فِـى الْفِرْدَوْسِ حَدُّهَا الْاَوَّلُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْـحَدُّ الثَّانِـىْ اَمِيْـرُ الْمُؤْمِنِيْـنَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْـحَدُّ الثَّالِثُ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ الْـحَسَنُ بْنُ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْـحَدُّ الرَّابِعُ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ الْـحُسَيْـنُ بْنُ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ

فَـلَمَّا قَـرَاَ الرَّجُلُ ذٰلِكَ قَالَ قَدْ رَضِيْتُ جَعَلَنِـىَ اللهُ فِدَاكَ فَـقَالَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ السَّادِسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اِنِّـىْ اَخَذْتُ ذٰلِكَ الْمَالَ فَـفَرَّقْـتُهٗ فِـىْ وَلَدِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ الْـحَسَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ الْـحُسَيْـنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاَرْجُوْ اَنْ يَّــتَـقَبَّلَ اللهُ ذٰلِكَ وَيُــثِـيْـبَكَ بِهِ الْـجَنَّةَ قَالَ فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ اِلـٰى مَنْزِلِهٖ وَكَانَ الصَّكُّ مَعَهٗ ثُـمَّ اِعْتَلَّ عِلَّةَ الْمَوْتِ فَـلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ جَـمَعَ اَهْلَهٗ وَحَلَّفَهُمْ اَنْ يَّـجْعَلُوا الصَّكَّ مَعَهٗ فَـفَعَلُوْا ذٰلِكَ فَـلَمَّا اَصْبَحَ الْقَوْمُ غَدَوْا اِلـٰى قَـبْـرِهٖ فَـوَجَدُوا الصَّكَّ عَلـٰى ظَهْرِ الْقَبْـرِ مَكْـتُـوْبًا عَلَيْهِ وَفٰـى لِـىْ وَاللهِ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـمَا قَالَ

অর্থ: “একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি পাহাড়ি অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তিনি প্রতি বছর পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে বের হতেন এবং সেই সফরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ আসতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতি বছরের মতো ঐ ব্যক্তিকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার একটি বাড়িতে অবস্থানের ব্যবস্থা করে দিতেন। এভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি গভীর মুহব্বত মুবারক উনার নিদর্শন মুবারক স্বরূপ অনেক বছর যাবৎ ঐ ব্যক্তির পবিত্র হজ্জ সফর এবং অবস্থান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়িতেই হতো। অতঃপর ঐ ব্যক্তির বারবার আসা ও দীর্ঘদিন অবস্থান করার দ্বারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেন কষ্ট না পান, এই আদব রক্ষার্থে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ঐ ব্যক্তি দশ হাজার দিরহাম পেশ করলো, যেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে একটি বাড়ি ক্রয় করা হয়। (দশ হাজার দিরহাম পেশ করে) ঐ ব্যক্তি পবিত্র হজ্জ উনার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পবিত্র হজ্জ শেষে ফিরে এসে পুনরায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ হাজির হয়ে বললো, ‘হে আহলে বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার জন্য কুরবান, আপনি কি (দয়া করে) আমার জন্য বাড়ি ক্রয় করেছেন?’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘জী; হ্যাঁ।’ আর তিনি একটি (চুক্তিপত্র) দলীল পেশ করলেন, যাতে লেখা ছিলো-

بِسْمِ اللهِ الرَّحْـمٰنِ الرَّحِـيْمِ

هٰذَا مَا اِشْتَـرٰى سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِفُلَانِ بْنِ فُلَانٍ اَلْـجَبَلِـىِّ لَهٗ دَارٌ فِـى الْفِرْدَوْسِ حَدُّهَا الْاَوَّلُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْـحَدُّ الثَّانِـىْ اَمِيْـرُ الْمُؤْمِنِيْـنَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْـحَدُّ الثَّالِثُ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ الْـحَسَنُ بْنُ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْـحَدُّ الرَّابِعُ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ الْـحُسَيْـنُ بْنُ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

এটা হলেন সেই বাড়ির দলীল, যা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অমুক জাবালী ব্যক্তির জন্য ক্রয় করেছেন। ঐ ব্যক্তির জন্য সম্মানিত জান্নাতুল ফিরদাউস উনার মধ্যে একটি বাড়ি মুবারক রয়েছেন। সেই বাড়ি মুবারক উনার প্রথম সীমানা- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক উনার নিচে), দ্বিতীয় সীমানা- আমীরুল মু’মিনীন, ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম (উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক উনার নিচে), তৃতীয় সীমানা- সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম (উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক উনার নিচে) এবং চতুর্থ সীমানা- সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ্বামিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম (উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক উনার নিচে)।

লোকটি দলীলখানা পড়ে বললো, ‘অবশ্যই আমি অত্যন্ত মুহব্বতের সাথে তা গ্রহণ করলাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার জন্য আমাকে কুরবান করুন।’

তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘আমি উক্ত অর্থ সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার এবং সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ্বামিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ হাদিয়া করেছি। আর আমি আশা করি- মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই তা ক্ববূল করবেন এবং সর্বোত্তম বিনিময় তোমাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক দান করবেন।’

পরে ঐ ব্যক্তি নিজ গৃহে চলে গেলো। কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তি মৃত্যুরোগে অর্থাৎ কঠিন অসুস্থতায় আক্রান্ত হলো। যখন ঐ ব্যক্তির ইন্তিকালের সময় উপস্থিত হলো, তখন (ইন্তিকালের পূর্বে) ঐ ব্যক্তি তার পরিবারের লোকজনকে একত্র করে ক্বসম করালো যে, (ঐ ব্যক্তি ইন্তিকাল করলে, গোসল করানোর পর) দলীলখানা যেন ঐ ব্যক্তির কাফনের সাথে রাখা হয়। পরিবারের লোকজন তাই করলো।

পরদিন সকালে লোকজন ঐ ব্যক্তির ক্ববর যিয়ারতের জন্য এসে দেখলো দলীলখানা ক্ববরের উপর পড়ে রয়েছেন এবং তাতে লেখা রয়েছেন-

وَفٰـى لِـىْ وَاللهِ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـمَا قَالَ

‘মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে তা পুরোপুরি দান করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (এই ঘটনা মুবারকখানা লফযান কিছু পার্থক্যে শাওয়াহিদুন্ নুবুওওয়াতে উল্লেখ রয়েছেন)

এই ঘটনা মুবারক থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেলে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মালিক। আর সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে প্রথম স্তর মুবারকেই রয়েছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। কাজেই, প্রকৃতপক্ষে উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন মালিক আর সমস্ত কায়িনাত হচ্ছে গোলাম। উনারা হচ্ছেন মাখদূম আর সমস্ত কায়িনাত হচ্ছে খাদিম। সম্মানিত জান্নাত উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন- কখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ দয়া করে প্রবেশ করবেন, তাহলে সম্মানিত জান্নাত উনার ওজূদ মুবারক ও নাম মুবারক সার্থক হবেন। সুবহানাল্লাহ!

মূলত, উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে, ছানা-ছিফত মুবারক করবে, উনাদের গোলামী মুবারক করবে, তাদের জন্যই সম্মানিত জান্নাত মুবারক, তারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

اَلَا وَمَنْ مَّاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَشَّرَهٗ مَلَكُ الْمَوْتِ بِالْـجَنَّةِ ثُـمَّ مُنْكَـرٌ وَّنَكِـيْـرٌ اَلَا وَمَنْ مَّاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُـزَفُّ اِلَـى الْـجَنَّةِ كَمَا تُـزَفُّ الْعَرُوْسُ اِلـٰى بَـيْتِ زَوْجِهَا اَلَا وَمَنْ مَّاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـتَحَ اللهُ لَهٗ فِـىْ قَـبْـرِهٖ بَـابَـيْـنِ اِلَـى الْـجَنَّةِ اَلَا وَمَنْ مَّاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ اللهُ قَـبْـرَهٗ مَزَارَ مَلَائِكَةِ الرَّحْـمَةِ

অর্থ: “সাবধান! যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করবেন, উনাকে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম তিনি অতঃপর হযরত মুনকার ও নাকীর আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত বেহেশত মুবারক উনার সুসংবাদ মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করবেন, উনাকে এমনভাবে সুসজ্জিত করে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ নেয়া হবে, যেমনভাবে কনেকে সাজিয়ে তার স্বামীর ঘরে নেয়া হয়। সুবহানাল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করবেন, উনার ক্ববরে উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার দিকে দুটি দরজা মুবারক খুলে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত ব্যক্তি উনার ক্ববরকে সম্মানিত রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারতের স্থান বানাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী ১৬/২৩, তাফসীরে কবীর ২৭/৫৯৫, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৮/২৩৯, তাখরীজে আহাদীছুল কাশ্শাফ ৩/২৩৮, নুযহাতুল মাজালিস ১/৩৬৫ ইত্যাদি)

আর যারা উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, উনাদের বিরোধিতা করবে, তাদের জন্য জাহান্নাম, তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اَنَّ رَجُلًا صَفَّ بَـيْـنَ الرُّكْنِ وَالْـمَقَامِ فَصَلّٰى وَصَامَ ثُـمَّ لَقِىَ اللهَ وَهُوَ مُبْغِضٌ لِّاَهْلِ بَـيْتِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ النَّارَ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোনো ব্যক্তি যদি সম্মানিত রুকনে ইয়ামেন এবং সম্মানিত মাক্বামে ইবরাহীম শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। অতঃপর নামায পড়ে এবং রোযা রাখে। কিন্তু এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় যে, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (যাখাইরুল ‘উক্ববা ১/১৮, খ¦ছায়িছুল কুবরা ২/৪৬৫)

উল্লেখ্য যে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক হচ্ছেন আরশে আযীম মুবারক উনার নিচে। আরশে আযীম মুবারক উনার উপরে যে আলমে আমর রয়েছে, তারও উপরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অবস্থান মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মাক্বাম মুবারক সম্মানিত জান্নাত মুবারক, আরশে আযীম মুবারক, আলমে আমরসহ সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে। উনারা যেখানে অবস্থান মুবারক করেন, সেটাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক নামকরণ করা যেতে পারে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উনাদের মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক। উনারা যাকে ইচ্ছা তাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত প্রকার নিয়ামতের মালিক করে দিতে পারেন। উনাদের মাক্বাম সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক এবং হুসনে যন মুবারক পোষণ করা এবং উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করা সকাল-সন্ধ্যা, দায়িমীভাবেই ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ ফরয। সুবহানাল্লাহ!

খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা