পবিত্র শাওয়াল মাসের ফযীলত

সংখ্যা: ৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

আরবী বছরের দশম মাসের নাম “শাওয়াল।” মাহে রমাদ্বানুল মুবারক কিংবা অন্যান্য মাসের মত এমাসও বিশেষ ফযীলতপূর্ণ। বর্ণিত আছে যে, শাহরুছ ছিয়াম বা রোযার মাস হচ্ছে রমাদ্বান শরীফ আর শাহ্রুল ইফতার বা ইফতারীর মাস হচ্ছে পবিত্র শাওয়াল। এজন্য পহেলা শাওয়াল রোযা রাখা হারাম। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صوم يوم الفطر والنحر.

অর্থঃ- “হযরত রসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিত্র (পহেলা শাওয়াল) ও ইদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।” (মুয়াত্তা শরীফ)

          উল্লেখ্য, শাওয়াল মাসের ফযীলতের মধ্যে বিশেষ ফযীলত হচ্ছে, পহেলা শাওয়াল পবিত্র ঈদুল ফিত্র উদ্যাপন। এ পবিত্র দিনে মুসলিম জাহানে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ও আনন্দঘন মহা মিলন সাধিত হয়। এই দিনে দ্বি প্রহরের পূর্বে ছয় তাকবীরে জামায়াতের সাথে দু’রাকায়াত নামায আদায় করা মুসলমান পুরুষের জন্য ওয়াজিব।

          এ নামাযের ফযীলত প্রসঙ্গে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “ঈদুল ফিত্রের দিন যখন মুছল্লীগণ ঈদের নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে জমায়েত হয় তখন করুণাময় আল্লাহ্ পাক-এর তরফ হতে ঘোষণা করা হয়, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমারই রেজামন্দী লাভের আশায় একমাস রোযা পালন করেছ এবং আজ আমারই খোশনুদীর জন্য ময়দানে সমবেত হয়েছ, তাই আমি আজ তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। যাও তোমরা আজ চিরমুক্ত ও পবিত্র।”

          ঈদের রাত্রিটিও ফযীলতের খাছ রাত্রি। বছরে যে পাঁচটি রাত্রিতে বিশেষভাবে দোয়া কবুল করার কথা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “ঈদুল ফিত্রের রাত্রিটি তন্মধ্যে একটি। তাই এ রাত্রিতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো অত্যাধিক ফযীলতের কারণ। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “শাওয়াল মাসের পহেলা তারিখে যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর ইবাদত-বন্দেগী করে আল্লাহ্ পাক তাকে রোজ হাশরের সংকটপূর্ণ দুঃখ-কষ্ট হতে নাযাত দান করবেন।”

          প্রকাশ থাকে যে,  মহান আল্লাহ্ পাক সুন্নত আমলের দ্বারা প্রতিটি ফরয আমলকে পূর্ণতা দান ও সৌন্দর্য মন্ডিত করেছেন। পবিত্র মাহে রমাদ্বানুল মুবারকের ফরয রোযার ক্ষেত্রেও এই নিয়মই বলবৎ রয়েছে। যেমন, পহেলা শাওয়াল বাদ দিয়ে শাওয়ালের বাকী দিনগুলোতে ছয়টি রোযা সুন্নত সাব্যস্ত করা হয়েছে উক্ত ফরয রোযাকে পূর্ণতা ও সৌন্দর্য দানের উদ্দেশ্যে।

          এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “শাওয়ালের ছয়টি রোযা ফরয নামাযের পরবর্তী সুন্নত নামাযের ন্যায় ফযীলতপূর্ণ। এর দ্বারা আল্লাহ্ পাক ফরযে সংঘটিত ত্রুটি-বিচ্যুতি, ক্ষয়-ক্ষতি দূরীভূত করে পূর্ণতা দান করেন। আর নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত দিবসে ফরযসমূহ নফলসমূহের দ্বারা পূর্ণতা লাভ করবে।”

          এ রোযার ফযীলত প্রসঙ্গে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

من صام رمضان ثم اتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি রমাদ্বান মাসের রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখলো সে যেন পূর্ণ বছর রোযা রাখলো।” (মুসলিম শরীফ)

          অপর রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে, শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা পালনকারীকে আল্লাহ্ তা’য়ালা সম্বোধন করে বলেন, “হে আমার বান্দা! তোমরা আমার সন্তষ্টির আশায় রমাদ্বান মাসের রোযা পালন করেছ এবং শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযাও পালন করেছ, সুতরাং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া আমার উপর আবশ্যক হয়ে পড়েছে।”

          উল্লেখ্য, এ ছয়টি রোযা রাখার উত্তম বা মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে- ছয়টি রোযা একাধারা না রেখে বরং দু’একদিন বাদ দিয়ে রাখা।

          শাওয়াল মাসের আর একটি ফযীলত হলো, এ মাসটি হচ্ছে- পবিত্র হজ্বের মাস। এ মাস হতে হজ্ব পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু হয়। কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, الحج اشهر معلومات.

অর্থঃ- “হজ্বের মাসসমূহ নির্দিষ্ট।”এ আয়াতে কারীমার  তাফসীরে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, شوال وذوالقعدة وذوالحجة.

অর্থঃ- “শাওয়াল, জিলক্বদ, জিলহজ্ব অর্থাৎ এ তিনটি মাসই হজ্ব পালনের মাস।”

আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে এ মহান ও ফযীলতপূর্ণ মাসটির যথাযথ হক্ব আদায় করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

পবিত্র যিলক্বদ মাসের ফযীলত

পবিত্র যিলহজ্ব মাসের ফযীলত

মুহররম মাস ও তার আলোচনা

ছফর মাস ও তার আলোচনা

রবিউল আউয়াল মাস ও তার  আলোচনা