ফরয কুরবানী নিয়ে গোমরাহীমূলক বক্তব্যের দলীলভিত্তিক দাঁতভাঙ্গা জবাব

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

‘সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন।’ এ বিষয়ে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র থেকে বিস্তারিত দলীল-আদিল্লাহ ভিত্তিক একখানা কিতাব মুবারক প্রকাশিত হয়েছেন। এছাড়া রেসালা শরীফও প্রকাশিত হয়েছেন। বিস্তারিত জানার জন্য সেগুলো পাঠ করুন।

এ প্রসঙ্গে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে পশু কুরবানী করা ফরযে আইন তো অবশ্যই। এটা তো কম বলা হয়েছে; বরং নিজেদেরকেই কুরবান করে দেয়া ফরযে আইন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা তো উনাদের নিজেদেরকে এবং আল-আওলাদ ১৪ গোষ্ঠি সবাইকে কুরবান করে দিয়েছেন।”

কিন্তু কিছু বদ মাযহাবী, লা মাযহাবী, ওহাবী-সালাফী, গোস্তাখে রসূল ও মুনাফিক্ব গং এ বিষয়ে নানা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে থাকে। তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল বুলন্দী শান মুবারক বুঝতে অক্ষম, উনার ছানা-ছিফত মুবারক শুনলে এবং উনার সম্মানার্থে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন, ফরয কুরবানী এবং আক্বীক্বাহ্ মুবারক করা দেখলে ইবলীসের ন্যায় তাদের গায়ে আগুন জ্বলে ও তাদের ভিতরে জ্বালজ্বালা শুরু হয়ে যায়। তারা এগুলো বরদাশত করতে পারে না। ফলে, তারা এ সমস্ত বরকতময় ও বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ নেক আমলসমূহ থেকে মানুষদেরকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ইবলীসী কায়দায় নানা যুক্তি দাঁড় করিয়ে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যেমন- ফরয কুরবানী মুবারক নিয়ে তাদের ইবলীসী যুক্তি ও গোমরাহীমূলক একটি বক্তব্য হচ্ছে- ‘উছূলের কিতাবে ফরয কুরবানীর বিষয়টি নেই। তাই, তারা ফরয কুরবানী মানবে না।’ প্রকৃতপক্ষে এরা হচ্ছে মাযহাবের শত্রু, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শত্রু, মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুশমন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দুশমন, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এবং হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের দুশমন। তাদের এই ইবলীসী যুক্তি ও গোমরাহীমূলক বক্তব্য কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, উছূলের কিতাবসমূহে বর্ণিত উছূল বা নীতিমালাগুলো কখনোই ওহীর ন্যায় অকাট্য ও অপরিবর্তনীয় নয়। বরং কিছু কিছু উছূল রয়েছে, যেগুলো পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনযোগ্য তো অবশ্যই; শুধু এতটুকুই  নয়, রবং পরিপূর্ণভাবে পরিত্যাজ্যও বটে। এ প্রসঙ্গে বলতে হয় যে, উছূলে ফিক্বহের অন্যতম কিতাব ‘নূরুল আনওয়ারের’ মুছান্নিফ হযরত মোল্লা জীয়ুন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

بِـخِلَافِ سَائِـرِ الْمُجْتَهِدِيْنَ فَاِنَّـهُمْ اِنْ اَخْطَـاُوْا يَـبْـقٰى خَطَـاؤُهُمْ اِلـٰى يَـوْمِ الْقِيَامَةِ

অর্থ: “হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের অবস্থা এর বিপরীত। কেননা, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যদি ভুল করে বসেন, তাহলে উনাদের ভুল ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থেকে যেতে পারে।” (নূরুল আনওয়ার)

হযরত মোল্লা জীয়ুন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো স্পষ্টভাবে বলেন,

مِنْ  مُّـجْتَهِدِى الْاُمَّةِ فَاِنَّـهُمْ يُـقَرِّرُوْنَ عَلَى الْـخَطَـاءِ وَلَا يَـعْصِمُوْنَ عَنِ الْقَرَارِ عَلَيْهِ

অর্থ: “উম্মতের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের ইজতিহাদের মধ্যে যদি কোনো ভুল সংঘটিত হয়ে যায়, তাহলে উনারা এটার উপর স্থির থাকতে পারেন, ভুলের উপর স্থির থাকা হতে উনারা (মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে) নিরাপদ নন।” (নূরুল আনওয়ার)

 কাজেই, উছূলের কিতাবে বর্ণিত কিছু উছূল বা নীতিমালার দোহাই দিয়ে ফরয কুরবানীর বিরোধিতা করা নিঃসন্দেহে জিহালতী, অজ্ঞতা, মূর্খতা, গোড়ামী ও নিফাক্বী ছাড়া অন্য কিছু নয়। এই বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য নিম্নে কিছু বিষয় আলোকপাত করা হলো-

 যেমন- ‘উছূলুস্ সারাখসীর’ ২য় খণ্ডের ৮৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে,

بَابُ الْكَلَامِ فِـىْ اَفْـعَالِ النَّبِـىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ- اِعْلَمْ بِـاَنَّ اَفْـعَالَهُ الَّتِـىْ تَكُوْنُ عَنْ قَصْدٍ تَـنْـقَسِمُ اَرْبَـعَةُ اَقْسَامٍ مُبَاحٌ وَمُسْتَحَبٌّ وَوَاجِبٌ وَفَـرْضٌ وَهُنَا نَـوْعٌ خَامِسٌ وَهُوَ الزَّلَّةُ وَلٰكِـنَّهٗ غَـيْـرُ دَاخِلٍ فِـىْ هٰذَا الْـبَابِ لِاَنَّهٗ لَا يَصْلِحُ لِلْاِقْتِدَاءِ بِـهٖ فِـىْ ذٰلِكَ

অর্থ: “অধ্যায়: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্মসমূহ সম্পর্কে। জেনে রাখুন- উনার যে সকল কর্মসমূহ ইচ্ছায় হয়েছেন, সেগুলো ৪ প্রকার। যথা: (১) মুবাহ্, (২) মুস্তাহাব, (৩) ওয়াজিব এবং (৪) ফরয। আর এখানে ৫ম একটি প্রকার রয়েছে, তা হচ্ছে যাল্লাত বা পদস্খলন। কিন্তু এই অধ্যায়ে তা প্রবিষ্ট হয়নি অর্থাৎ আলোচিত হয়নি। কারণ, সেক্ষেত্রে তিনি অনুসরণীয় নন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

‘উছূলে বাযদাভী’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

(بَابُ اَفْـعَالِ النَّبِـىِّ) صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- وَهِىَ اَرْبَـعَةُ اَقْسَامٍ مُبَاحٌ وَمُسْتَحَبٌّ وَوَاجِبٌ وَفَـرْضٌ وَفِـيْـهَا قِسْمٌ اٰخَرُ وَهُوَ الزَّلَّةُ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্মসমূহ সম্পর্কে অধ্যায়: আর সেগুলো ৪ প্রকার। যথা: (১) মুবাহ্, (২) মুস্তাহাব, (৩) ওয়াজিব এবং (৪) ফরয। আর এখানে আরো ১টি প্রকার রয়েছে, তা হচ্ছে- যাল্লাত বা পদস্খলন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!  (কাশফুল আসরার ৩/ ১৯৯)

‘আল মানার’ গ্রন্থকার বলেন,

اَفْـعَالُ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِوَى الزَّلَّةِ اَرْبَـعَةُ اَقْسَامٍ مُبَاحٌ وَمُسْتَحَبٌّ وَوَاجِبٌ وَفَـرْضٌ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্মসমূহ যাল্লাত বা পদস্খলন ব্যতীত ৪ প্রকার। যথা- (১) মুবাহ্, (২) মুস্তাহাব, (৩) ওয়াজিব এবং (৪) ফরয।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (আল মানার)

মুনাফিক্বদের দাবীকৃত উছূলে ফিক্বহের অকাট্য কিতাব ‘নূরুল আনওয়ারে’ উল্লেখ রয়েছে,

اَفْـعَالُ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- سِوَى الزَّلَّةِ اَرْبَـعَةُ اَقْسَامٍ مُبَاحٌ وَمُسْتَحَبٌّ وَوَاجِبٌ وَفَـرْضٌ وَاِنَّـمَا اسْتُـثْـنِـىَ الزَّلَّةُ لِاَنَّ الْـبَابَ لِـبَـيَانِ اِقْـتِدَاءِ الْاُمَّةِ بِـهٖ وَالزَّلَّةُ لَـيْسَتْ مِـمَّا يُـقْتَدٰى بِـهٖ وَهِىَ اِسْمٌ لِـفِعْلٍ حَرَامٍ وَقَعَ فِـيْهِ بِسَـبَبِ الْقَصْدِ لِـفِعْلٍ مُـبَاحٍ فَـلَمْ يَكُنْ قَصْدُهٗ لِلْحَرَامِ اِبْـتِدَاءً وَلَا يَسْتَـقِرُّ عَلَيْهِ بَـعْدَ الْوُقُـوْعِ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্মসমূহ যাল্লাত বা পদস্খলন ব্যতীত ৪ প্রকার। যথা- (১) মুবাহ্, (২) মুস্তাহাব, (৩) ওয়াজিব এবং (৪) ফরয। পদস্খলনকে বাদ দেওয়া হয়েছে এজন্য যে, এই অধ্যায়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমন সব কর্ম বর্ণনা করাই উদ্দেশ্য, যা উম্মত কর্তৃক অনুসরণ করার লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছে। আর পদস্খলন অনুসরণীয় কাজ নয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! পদস্খলন দ্বারা শরীয়তের এমন সব হারাম কাজকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যা মুবাহ্ কাজের ইচ্ছায় সংঘটিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ লিপ্ত হওয়ার পূর্বে উনার এ নিষিদ্ধ কর্ম সম্পাদনের কোনোরূপ ইচ্ছা ছিল না এবং সংঘটিত হওয়ার পর তিনি এর উপর অটল থাকেননি।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (নূরুল আনওয়াল ফী শারহিল মানার ২/২০০)

‘উছূলুদ্দীন’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

قَالَ اَهْلُ السُّنَّةِ وَالْـجَمَاعَةِ اَنَّ الْاَنْۢبِيَاءَ وَالرُّسُلَ مَعْصُوْمُوْنَ مِنَ الْكَـبَائِـرِ مِنَ الذُّنُـوْبِ وَالصَّغَائِـرِ بِطَرِيْـقِ الْقَصْدِ اَمَّا الزَّلَّاتُ فَـغَـيْـرُ مَعْصُوْمِـيْـنَ عَـنْـهَا وَهَىَ مَا يَـقِعُ مِنَ الذُّنُـوْبِ عَـنْـهُمْ خَطَـاءً اَوْ نِسْيَانًا

অর্থ: “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীগণ বলেন, নিশ্চয়ই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যাবতীয় কবীরা গুনাহ্ থেকে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ছগীরা গুনাহ্ থেকে মা’ছূম বা পবিত্র। আর যাল্লাত বা পদস্খলন থেকে মা’ছূম বা পবিত্র নন। এটা হচ্ছে উনাদের থেকে অনীচ্ছাকৃত ও ভুলবশত সংঘটিত গুনাহ্।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (উছূলুদ্দীন লিল বাযদাভী হানাফী)

মুনাফিক্বদের দাবীকৃত উছূলে ফিক্বহের অকাট্য কিতাব ‘নূরুল আনওয়ারে’ উল্লেখ রয়েছে,

(ثُـمَّ الْعَمَلُ بِالرَّاْىِ بَـعْدَ اِنْقِضَاءِ مُدَّةِ الْاِنْتِظَارِ فَاِنْ كَانَ اَصَابَ فِـى الرَّاْىِ لَـمْ يَـنْزِلِ الْوَحْىُ عَلَيْهِ فِـىْ تِلْكَ الْـحَادِثَةِ وَاِنْ كَانَ اَخْطَـاَ فِـى الرَّاْىِ يَـنْزِلُ الْوَحْىُ لِلتَّـنْۢبِيْهِ عَلَى الْـخَطَـاءِ وَمَا تَـقَرَّرَ) عَلَى الْـخَطَـاءِ قَطُّ بِـخِلَافِ سَائِـرِ الْمُجْـتَهِدِيْنَ فَاِنَّـهُمْ اِنْ اَخْطَاُوْا يَـبْـقٰى خَطَاؤُهُمْ اِلـٰى يَـوْمِ الْقِيَامَةِ وَهٰذَا مَعْنٰـى قَـوْلِهٖ (اِلَّا اَنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعْصُوْمٌ عَنِ الْقَرَارِ عَلَى الْـخَطَاءِ بِـخِلَافِ مَا يَكُوْنُ مِنْ غَـيْـرِهٖ مِنَ الْـبَـيَانِ بِالرَّاْىِ) مِنْ  مُّـجْـتَهِدِى الْاُمَّةِ فَاِنَّـهُمْ يُـقَرِّرُوْنَ عَلَى الْـخَطَاءِ وَلَا يَـعْصِمُوْنَ عَنِ الْقَرَارِ عَلَيْهِ وَنَظَائِـرُهٗ كَـثِـيْـرَةٌ فِـىْ كُـتُبِ الْاُصُوْلِ مِنْـهَا اَنَّهٗ لَمَّا اَسَرَّ اُسَارٰى بَدْرٍ وَهُمْ سَبْـعُوْنَ نَـفَرًا مِّنَ الْكُـفَّارِ فَشَاوَرَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَصْحَابَـهٗ فِـىْ حَقِّهِمْ فَـتَكَلَّمَ كُلٌّ مِّنْـهُمْ بِرَاْيِهٖ فَـقَالَ (حَضْرَتْ) اَبُـوْ بَكْرٍ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) هُمْ قَـوْمُكَ وَاَهْلُكَ خُذْ مِنْـهُمْ فِدَاءً يَـنْـفَعُنَا وَخَلِّـهِمْ اَحْرَارًا لَعَلَّهُمْ يُـوْفِقُوْنَ بِالْاِسْلَامِ بَـعْدَ ذٰلِكَ وَقَالَ (حَضْرَتْ) عُمَرُ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) مَكِّنْ نَـفْسَكَ مِنْ قَـتْلِ (حَضْرَتْ) عَـبَّاسٍ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَمَكِّنْ (حَضْرَتْ) عَلِـيًّا (عَلَيْهِ السَّلَامُ) مِنْ قَـتْلِ (حَضْرَتْ) عَقِيْلٍ (رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ) وَمَكِّـنِّـىْ مِنْ قَـتْلِ فُلَانٍ لِـيَـقْتُلَ كُلُّ وَاحِدٍ مِّنَّا قَرِيْـبَهٗ

অর্থ: “অতঃপর প্রতীক্ষার সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর ইজতিহাদের উপর আমল (করার বিষয়ে আলোচনা)। যদি তিনি ইজতিহাদের বিষয়ে সঠিক হতেন, তাহলে এই ঘটনার উপর ওহী নাযিল হতো না। আর যদি তিনি ইজতিহাদের বিষয়ে ভুল করতেন, তাহলে ভুলের প্রতি সতর্ক করার উদ্দেশ্যে ওহী নাযিল হতো। স্মর্তব্য যে, তিনি কোনো ব্যাপারেই ভুলের উপর স্থির থাকেননি। কিন্তু অন্যান্য মুজতাহিদগণের অবস্থা এর বিপরীত। কেননা, উনারা যদি ভুল করে বসেন, তাহলে উনাদের ভুল ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থেকে যেতে পারে। এটাই মুছান্নিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিম্নোক্ত বক্তব্যের সারমর্ম। তবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভুলের উপর স্থির থাকা হতে নিরাপদ। কিন্তু অন্যদের ইজতিহাদকৃত ভুলসমূহ এর বিপরীত। অর্থাৎ উম্মতের মুজতাহিদগণের ইজতিহাদের মধ্যে যদি কোনো ভুল সংঘটিত হয়ে যায়, তাহলে উনারা এটার উপর স্থির থাকতে পারেন, ভুলের উপর স্থির থাকা হতে উনারা (মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে) নিরাপদ নন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইজতিহাদের মধ্যে ভুল সংঘটিত হওয়ার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত উসূলের কিতাবসমূহে বিদ্যমান। তন্মধ্য হতে একটি ঘটনা এই যে, বদর যুদ্ধে যখন ৭০ জন কাফির বন্দী হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের ব্যাপারে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সাথে পরামর্শ করলে প্রত্যেকেই সে সম্পর্কে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। যেমন- সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এরা আপনার গোত্র ও পরিবারের লোক। তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ গ্রহণ করুন। এতে আমাদের আর্থিক উপকার সাধিত হবে। আর তাদেরকে মুক্ত করে দিন। হয়তো পরবর্তীতে তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের তাওফীক্ব লাভ করবে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুনা হযরত খাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম উনাকে হত্যা করার দায়িত্ব আপনি গ্রহণ করুন, হযরত আক্বীল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে হত্যা করার দায়িত্ব ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার হাতে অর্পণ করুন আর অমুককে হত্যা করার অনুমতি আমাকে দান করুন। এভাবে যেন আমাদের প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ নিকটাত্মীয়কে হত্যা করে।”

‘নূরুল আনওয়ারে’ আরো বলা হয়েছে,

ثُـمَّ اِسْتَـقَرَّ رَاْيُهٗ عَلـٰى رَاْىِ (حَضْرَتْ) اَبِـىْ بَكْرٍ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) فَاَمَرَ بِاَخْذِ الْفِدَاءِ

“অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় অভিমত সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম উনার মতের অনুকূলে স্থির করলেন। সুতরাং, তিনি মুক্তিপণ গ্রহণের আদেশ মুবারক প্রদান করলেন।”

তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ উনার ৬৭-৬৯ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন। (নূরুল আনওয়ার)

অতঃপর ‘নূরুল আনওয়ারের’ মুছান্নিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

فَـبَكٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَكَى الصَّحَابَةُ رَضِىَ اللهُ عَـنْـهُمْ كُلُّهُمْ وَقَالَ لَوْ نَــزَلَ الْعَذَابُ مَا نَـجَا اَحَدٌ مِّنَّا اِلَّا (حَضْرَتْ) عُمَرُ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَ(حَضْرَتْ) مُعَاذُ بْنُ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ فَظَهَرَ اَنَّ الْـحَقَّ هُوَ رَاْىُ (حَضْرَتْ) عُمَرَ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَاَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخْطَـاَ حِـيْـنَ عَمِلَ بِـرَاْىِ (حَضْرَتْ) اَبِـىْ بَكْرٍ (عَلَيْهِ السَّلَامُ)

অর্থ: “তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুগণ উনারা সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘যদি আযাব নাযিল হতো, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত মুয়ায ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন ব্যতীত আমাদের মধ্য থেকে একজনও রক্ষা পেতাম না।’ এটা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অভিমতই সঠিক ছিলো আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম উনার অভিমতের উপর আমল করার কারণে ভুল করেছেন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

অনুরূপ বর্ণনা হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের লিখিত অন্যান্য উছূলের কিতাবসহ আরো অনেক কিতাবে রয়েছে।

এই বর্ণনাটি হচ্ছে ‘কিছ্ছাতুল গারানিকের’ মত একটা কাট্টা মিথ্যা ও কুফরী বর্ণনা; যা বিশ্বাস করলে কেউ ঈমানদার থাকতে পারবে না। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই সমস্ত উছূলের কিতাবের সমস্ত বর্ণনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধুমাত্র যে সমস্ত বর্ণনাগুলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ সম্মত সেই সমস্ত বর্ণনাসমূহই গ্রহণযোগ্য। এছাড়া বাকী সমস্ত বর্ণনাসমূহ পরিপূর্ণভাবে পরিত্যাজ্য।

বদ মাযহাবী, লা মাযহাবী, ওহাবী-সালাফী, গোস্তাখে রসূল ও মুনাফিক্ব গংদের কাছে প্রশ্ন- তোমাদের দাবি অনুযায়ী উছূলে ফিক্বহের অকাট্য কিতাব ‘নূরুল আনওয়ার ও অন্যান্য কিতাবে’ বর্ণিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ উপরোক্ত বক্তব্যগুলো কি সঠিক ও নিভুর্ল? যদি সঠিক ও নিভুর্ল হয়, তাহলে কি এটা বিশ্বাস করা আবশ্যক হয়ে পড়ে না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের ভুল ছিলো? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

যদি তা না হয়, তাহলে এই কথা স্পষ্ট যে, উছূলের কিতাবে উপরোক্ত যেই বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ অশুদ্ধ, একবার নয় শত বার। তাই, এগুলোসহ আরো যত ব্যতিক্রম বক্তব্য রয়েছে, সেগুলো পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনযোগ্য তো অবশ্যই; শুধু এতটুকুই  নয়, বরং পরিপূর্ণভাবে পরিত্যাজ্যও বটে।

 উল্লেখ যে, মুনাফিক্বদের দাবিকৃত উছূলে ফিক্বহের অকাট্য কিতাব ‘নূরুল আনওয়ার’ থেকে উদ্ধৃত ইজতিহাদ সংক্রান্ত উল্লেখিত বর্ণনাটি সনদ ও মতন উভয় দিক থেকে বানোয়াট, মওযূ ও ভিত্তিহীন। এই মওযূ বর্ণনাটির রাবী আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর একজন কায্যাব এবং ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার একজন মওযূ হাদীছ বর্ণনাকারী। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের প্রকাশিত কিতাব ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ বর্ণিত মওযূ হাদীছ ও তার খণ্ডনমূলক জবাব ২য় ও ৩য় খণ্ড’ পাঠ করুন।

আরো বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেননি, কোনো কাজ মুবারক করেননি এবং কোনো কিছু সমর্থন মুবারকও করেননি। উনার হাটা-চলা মুবারক, নড়া-চড়া মুবারক, খাওয়া-দাওয়া মুবারক, শ্বাস-প্রশ্বাস মুবারক, চোখ মুবারক উনার পলক মুবারক, দৃষ্টি মুবারক, ঘুম মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্বপ্ন মুবারকও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا يَــنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى. اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْىٌ يُّـوْحٰى

‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোনো কথা মুবারক বলেন না, কোনো আমল মুবারক করেন না, কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন না।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৪)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَوْ تَـقَوَّلَ عَلَيْـنَا بَـعْضَ الْاَقَاوِيْلِ. لَاَخَذْنَا مِنْهُ بِالْـيَمِيْـنِ. ثُـمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِـيْـنَ. فَمَا مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ عَنْهُ حٰجِزِيْنَ

‘যদি তিনি আমার নাম মুবারক-এ বানিয়ে বানিয়ে কোনো কথা বলতেন, তাহলে আমি আমার কুদরতী ডান হাত মুবারক দ্বারা অর্থাৎ কুদরতীভাবে উনাকে পাকড়াও করে উনার প্রাণ রগ কেটে দিতাম অর্থাৎ উনাকে কঠিন শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিতাম। তোমাদের কেউ উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে রক্ষা করতে পারতে না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাক্কাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৪-৪৭)

কাজেই, তিনি নিজ থেকে কিছু বলেছেন, করেছেন বা সমর্থন করেছেন এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারন। একইভাবে ‘তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং উনার ইজতিহাদে ভুল হয়েছে।’ এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করাও কাট্টা কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ!

অবশ্যই স্মরণীয় যে, সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ইজতিহাদ করে কোন ফয়সালা করেননি; বরং উনারা সর্ব অবস্থায়ই পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন, আছেন ও অনন্তকাল থাকবেন। যদি তাই হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়ে ইজতিহাদের প্রশ্ন আসে কি করে? এই প্রকার প্রশ্ন করাটা কাট্টা কুফরী তো অবশ্যই, শুধু তাই নয়; বরং এটা চিন্তা করাটাও কাট্টা কুফরী ও জাহান্নামী ওয়ার কারণ।

অতএব, এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, অনেক উছূলবিদগণ উনাদের নিসবত-কুরবতের অভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের শান-মান মুবারক হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি। যার কারণে উনাদের উছূলের কিতাবে এরূপ এলোমেলো, অশুদ্ধ ও ব্যতিক্রম বক্তব্য স্থান পেয়েছে। আর ঠিক একই কারণে উনারা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ফরয কুরবানী, ইস্তাওয়া, কুদরত, আইয়্যামুল্লাহ শরীফ ও অন্যান্য বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারেননি। কাজেই, উছূলের কিতাবে বর্ণিত কিছু উছূল বা নীতিমালার দোহাই দিয়ে ফরয কুরবানীর বিরোধীতা করা নিঃসন্দেহে জিহালতী, অজ্ঞতা, মূর্খতা, গোড়ামী ও নিফাক্বী ছাড়া অন্য কিছু নয়।

-আল্লামা মুফতী মুহম্মদ আকরাম ইবনে হাসান।

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা