-হযরত মাওলানা মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম
প্রসঙ্গ ঃ পীর ছাহেবের জাহিরী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি লক্ষ্য করবেনা। বরং তাঁর বাতিনী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি সর্বদা মুতাওয়াজ্জেহ্ বা রুজু থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ছহিবু কাবা কাওছাইনে আও আদ্না, হাবীবে আ’লা, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহিমান্বিত জীবন মুবারকে অসাধারণ ঘটনার পাশাপাশি এমন কতিপয় মুবারক ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে যা নিতান্ত স্বাভাবিক মনে হয়। যা ঈমান ও কুফরীর পার্থক্যকারী। যদ্বারা একদিকে ঈমানদারগণের ঈমান বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে কাফিরদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করে জাহান্নামের কঠিন স্বাদ আস্বাদনের পথকে প্রশস্ত করে। তার সাথে সাথে মুনাফিকদের নিফাকীর খোলসকে উন্মোচিত করে দেয়।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, একদা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযরের নামায আদায় করার নিমিত্তে মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ রাখলেন। যথারীতি ইক্বামত শেষ হলো, তাকবীর বলে নামাযে প্রবেশ করতঃ গোছলের কথা মনে পড়লো। সাথে সাথে তিনি হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমকে ইশারা করে বললেন, “তোমরা বস।” অতঃপর ঘরে ফিরে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি আসলেন এবং নামায আদায় করলেন। হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বলেন যে, “আমরা রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চুল মুবারক থেকে পানি মুবারক ঝরতে দেখেছি।” (আবূ দাউদ শরীফ)
উল্লেখ্য, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ঠিকই এ ব্যাপারে কোন চু-চেরা করেননি কিন্তু মুনাফিকরা এতেও চু-চেরা করে তাদের নিফাকী প্রকাশ করেছে। এ কারণেই মাহবুবে খোদা, মাশুকে মাওলা, ফখরে আলম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দীর্ঘ দিনের ছোহবতে থেকেও আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল, আবূ জাহিল, আবূ লাহাব প্রমূখ চির জাহান্নামী হয়েছে।
সাইয়্যিদুল কাওনাইন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহিমাময় জীবনে এরূপ অসংখ্য বরকতময় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যার জাহিরী বা বাহ্যিক রূপ উম্মতের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী, ঈমান ও কুফুরীর হাক্বীক্বী পরিচয় বহনকারী।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা শরীফে অবস্থান করা কালীন ছালাত বা নামাযের আদেশ প্রাপ্ত হন। তখন তিনি বাইতুল্লাহ্ শরীফের দিকে মুখ করে নামায আদায় করেন।
মদীনা শরীফে হিজরত করার পর ষোল/সতের মাস “বাইতুল মুক্বাদ্দাস” এর দিকে মুখ করে নামায আদায় করেন। কিন্তু ফখরে মওজুদাত, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মনে কা’বা শরীফের মুহব্বত অধিক থেকে অধিকতর হতে থাকে। তিনি ওহী আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন- যথাসময়ে তার অবসান ঘটে।
আল্লাহ্ পাক বলেন,
قد نرى تقلب وجهك فى السماء فلنولينك قبلة ترضها فول وجهك شطر المسجد الحرام وحيث ماكنتم فولوا وجوهكم شطره وان الذين اوتوا الكتب ليعلمون انه الحق من ربهم.
অর্থঃ- “(হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখেছি। অবশ্যই আমি আপনাকে সে ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে দিব যাতে আপনি খুশী হবেন। সুতরাং এখন আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করুন। আর তোমরা যেখানেই থাক সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে কিতাব তারা অবশ্যই জানে যে, এটা তাদের রবের পক্ষ হতে নির্ধারিত।” (সূরা বাক্বারা/১৪৪)
ক্বিবলা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অনেক লোক, যারা ইসলাম কবুল করেছিল এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করেছিল, তারা ধর্মান্তরিত হলো। অনেক সুবিধাবাদী কপট বিশ্বাসীলোকের কপটতা প্রকাশ পেল। তারা বলা বলি করতে লাগলো যে, “মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কি হলো যে, একবার এদিকে আর একবার সেদিকে ক্বিবলা পরিবর্তন করেন?” ইত্যাদি কথাবার্তা সাধারণ মানুষের জন্য ছিল বিভ্রান্তিকর এবং মু’মিন বিশ্বাসীগণের জন্য ছিল এক মহা পরীক্ষা। এ জন্যই মহান আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন যে,
وما جعلنا القبلة التى كنت عليها الالنعلم عن يتبع الرسول ممن ينقلب على عقبيه وان كانت لكبيرة الا على الذين هدى الله.
অর্থঃ- “(হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) ইতোপূর্বে আপনি যে ক্বিবলার অনুসারী ছিলেন, আমি তাকে শুধু এ জন্যই ক্বিবলা স্থির করেছিলাম যেন একথা পরীক্ষা করে (প্রকাশ্যে) জেনে নেই কে আমার রসূলের অনুসরণ করে আর কে পশ্চাদপসরণ করে। আল্লাহ্ পাক যাদের সৎপথে পরিচালিত করেন তারা ব্যতীত অন্যদের কাছে এটা নিশ্চয়ই কঠিন।” (সূরা বাক্বারা/১৪৩)
অনুরূপভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মি’রাজ রজনীতে আল্লাহ্ পাক-এর দীদার লাভ করতঃ প্রত্যাবর্তন করেন। সকালে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-এর নিকট তার বর্ণনা দিতে লাগলেন। বাইতুল মুকাদ্দাস গমন করে সেখান থেকে আকাশে, জান্নাত-জাহান্নাম দেখে ফিরে এসেছেন। তখন কোন কোন নামধারী মুসলিম এ কথা মিথ্যা মনে করে মুরতাদ হয়ে গেল। (তাফসীরে কুরতুবী)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন,
وما جعلنا الرعيا التى ارينك الا فتنة للناس والشجرة الملعونة فى القران.
অর্থঃ- “আমি আপনাকে (মি’রাজ রজনীতে) যে দৃশ্য দেখিয়ে দিয়েছি তা মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা স্বরূপ। আর সে বৃক্ষটি ও যা সম্পর্কে কুরআন শরীফে নিন্দা করা হয়েছে তাও মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।” (সূরা বণী ইসরাঈল/৬০)
আল্লাহ্ পাক-এর ওয়াদা, “হক্ব এবং নাহক্ব পার্থক্য করেই ছাড়বেন।” অমীয় বাণীর মূল বিষয় হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যাচাই-বাচাই। যারা হাক্বীক্বী মুসলমান তাদেরকে মুনাফিক থেকে আলাদা করার জন্যই এ ব্যবস্থা। আর যারা কপট প্রকৃতির এ সমস্ত ঘটনাবলীতে তাদের হাক্বীক্বী চিত্র ফুটে উঠে। আর তারাই গোমরাহ, পথভ্রষ্ট ও মুরতাদ হয়ে থাকে।
وما يضل به الا الفسقين.
অর্থাৎ- “ফাসিক ব্যতীত আর কেউ পথ ভ্রষ্ট হয় না।” (সূরা বাক্বারা/২৬)
পক্ষান্তরে যারা হাক্বীক্বী মুসলমান, হাক্বীক্বী ঈমানদার তারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরফ হতে যখন যেভাবে যে কোন আদেশ-নিষেধ অর্পিত হোক না কেন তা সর্বান্তকরণে মেনে নেন ও সঠিক বলে বিশ্বাস করেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন,
فاما الذين امنوا فيعلمون انه الحق من ربهم واما الذين كفروا فيقولون ماذا اراد الله بهذا مثلا.
অর্থঃ- “যারা ঈমানদার তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে এটা সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক। আর যারা কাফির তারা বলে, এরূপ উদাহরণ পেশ করা আল্লাহ্ পাক-এর অভিপ্রায় কি?” (সূরা বাক্বারা/২৬)
অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ-নিষেধ সহজভাবে মেনে নেয়া মুনাফিকদের পক্ষে অসম্ভব বা স্বভাব বিরুদ্ধ।
স্মর্তব্য যে, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের মহিমাময় জীবন মুবারকের ন্যায় আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মুবারক জীবনেও অনুরূপ অসংখ্য ঘটনাপ্রবাহ বিরাজমান। যার বাহ্যিক অবস্থা দ্বারা আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্য প্রাপ্তির অভিলাষী মুরীদের অন্তরের বিশুদ্ধতা, দ্বিধাহীনতা, আমলের নির্মলতা, সত্য ও সঠিক পথে অবিচল থাকার দৃঢ়তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধ্যায় রচিত হয়।
প্রত্যেক পীর ছাহেবের জীবনে তত্ত্ব ও তথ্যবহুল অনেক মহিমাময় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পাশাপাশি কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটে থাকে। সুলূকের পথে যারা খালিছ অন্তরের অধিকারী তারা শুধু সেগুলোর প্রতি চু-চেরা কিল-কাল বা ভিন্ন মন্তব্য করা হতে নিস্কৃতি পায়। আর আল্লাহ্ পাক-এর পক্ষ হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বলে ছবর এখতিয়ার করে। যার ফলশ্রুতিতে তাঁদের জন্যে হাক্বীক্বতে পৌঁছা সহজ হয়ে যায়। অপরাপর মুরীদ তার উপর বিরূপ মন্তব্য করে নিজের অজান্তে মুরীদের গন্ডি হতে মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূলের জিম্মাদারী হতে মুক্ত হয়ে শয়তানের দলে শামিল হয়।
আল্লাহ্ পাক বলেন,
اولئك حزب الشيطن الا ان حزب الشيطن هم الخسرون.
অর্থঃ- “তারা হচ্ছে শয়তানের দলভূক্ত। নিশ্চয়ই শয়তানের দলই হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ।” (সূরা মুজাদালা/১৯)
উল্লেখ্য যে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি কারো অন্তরে স্বীয় পীর ছাহেব বা তাঁর কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য উদিত হয় সাথে সাথে খালিছ তওবা ও ইস্তিগ্ফার করা উচিত। কেননা, বিশুদ্ধ অন্তরে এগুলোর স্থান নেই। আর বিশুদ্ধ অন্তর ব্যতীত আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মারিফাত-মুহব্বতের কল্পনাও করা যায়না।
কাজেই হক্ব পীর ছাহেবের যদি কোন বিষয় বোধগম্য না হয় তার জন্য ধৈর্য্যধারণ করতঃ আক্বীদা বা বিশ্বাসকে সঠিক রাখার কোশেশ করা মুরীদের একান্ত কর্তব্য। সঙ্গতকারণে সালিক বা মুরীদের পীর ছাহেবের বাতিনী হাল বা অবস্থার প্রতিই লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়। কেননা, তার মাধ্যমে শয়তানের ধোকা বা ষড়যন্ত্র হতে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া যায়। অন্যথায় জাহিরী বা বাহ্যিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখলে ধৈর্য্যধারণ করা বা সুধারণা পোষণ করা কঠিন।
ইমামে রব্বানী, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী, রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হক সুবহানাহু তায়ালা হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের হাল (অবস্থা) এমনভাবে পুশিদা বা গোপন করে রাখেন যে, স্বয়ং তাঁদের জাহিরী হাল (অবস্থা) বাতিনী কামালত সম্পর্কে ওয়াকিফহাল বা অবহিত থাকেনা। কারণ তাঁদের বাতিনী বেচুনী ও বে-চুগুনেগীর (সর্ব প্রকার প্রশ্নের উর্ধ্বে আল্লাহ্ তায়ালা) সহিত সম্পর্ক কায়িম করার ফলেই এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই অবস্থায় বাতিনী হাল আলমে আমরের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়; কিন্তু যেহেতু জাহিরী হাল নফসের নিকটবর্তী, সেজন্য মিছাল (সাদৃশ্যমান) পৃথিবীর মধ্যেই থাকে। সুতরাং মিছাল (সাদৃশ্যমান) কিরূপে বেমিসালের (তুলনাহীনের) খবর রাখবে? ফলে জাহির, বাতিনকে অস্বীকার করে বসে।” (হালাতে মাশায়েখে নক্শবন্দীয়া মুজাদ্দিদীয়া ২/১১৭)
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, “একদিন এক নাস্তিকের সাথে সাইয়্যিদুল মুজাহিদীন, কামরুস্ সুফীয়া, আমীরুল কুলুব হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি, ধর্মীয় কোন এক বিষয়ে এক বাহাসে লিপ্ত হলেন। উভয়ই আপনাপন পথকে উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করলেন। অবশেষে এ কথার উপর ফায়সালা হলো যে, দু’জনই একই সাথে নিজ নিজ হাত আগুনে স্থাপন করবেন, যার হাত অক্ষত থাকবে তার পথ সঠিক। আর যার হাত আগুনে পুড়ে যাবে তার পথ ভ্রান্ত বলে মেনে নেয়া হবে।
সিদ্ধান্ত মুতাবিক দু’জনেরই হাত একই সঙ্গে আগুনে ধরলেন; কিন্তু কারো হাতই এতটুকু দগ্ধিভূত হলো না বরং সম্পূর্ণ রূপে অক্ষত রয়ে গেল। তখন উপস্থিত লোকজন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, “দু’জনই খাঁটি পথে আছেন, কারো পথই ভ্রান্ত নয়।”
এই ঘটনার ফলে আমীরুল কুলুব হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি একেবারে ম্রিয়মান হয়ে পড়লেন। তিনি সিজদায় গিয়ে কেঁদে কেঁদে আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে বলতে লাগলেন, “ওহে মাবুদ! দীর্ঘ সত্তর বছর তোমার ইবাদত করে অবশেষে আজ এক নাস্তিক কাফিরের সমপর্যায় ভুক্ত হলাম!” তখন গায়েবী নেদা (আওয়াজ) হলো, “ওহে মালেক! তুমি ব্যাকুল হয়ো না। যেহেতু তার হাত তোমার হাতের সাথে আগুনে রেখেছে তাই তোমার মুবারক হাতের বরকতে তার হাতও আগুন হতে রক্ষা পেয়েছে। যদি সে পৃথক ভাবে তার হাত আগুনে রাখতো তাহলে নিশ্চয় তা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যেত।” (তাজকিরাতুল আউলিয়া)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৬)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
পীর ছাহিব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৯)
ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৫১)