ফিক্বহুস্ সুনান পুরুষ ও মহিলার নামাযের পার্থক্যের বয়ান

সংখ্যা: ১১৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

আজকাল বাজারে বদ আক্বীদা ও বাতিল ফিরক্বার কিছু বইপত্র বের হয়েছে যাতে লিখা হয়েছে, ‘পুরুষ ও মহিলার নামায আদায়ের পদ্ধতি একই রকম। কোনরূপ প্রভেদ বা পার্থক্য নেই।’ তাদের এ লিখা কুরআন ও সুন্নাহ তথা আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ইমাম ও ফক্বীহ্গণের মত ও পথের সম্পূর্ণ খিলাফ ও কুফরী।           আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ইমাম ও ফক্বীহগণের মতে নামাযের মধ্যে অনেক স্থানে মহিলার নামায আদায়ের পদ্ধতি আর পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি এক রকম নয়; বরং পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্য শরয়ী কারণে এবং এ পার্থক্য কেবল নামাযেই নয় অন্যান্য ইবাদতের মধ্যেও রয়েছে। কেননা পুরুষ ও মহিলার অবস্থা সমান নয়।     উদাহরণস্বরূপ মেয়েদের মাসিক অসুস্থতার সময় নামাযই পড়তে হয়না। বরং উক্ত অবস্থায় নামায পড়লে ছওয়াবের পরিবর্তে গুণাহ্ হবে। আর উক্ত অবস্থায় যে নামায তরক করা হয় তা ক্বাযাও করতে হয়না। মেয়েদের উক্ত অবস্থায় রোযার মাসে রোযা রাখাও নিষিদ্ধ। বরং অন্য সময় তারা রোযা ক্বাযা করে নিবে। হজ্বের সামর্থ থাকার পরও তাদের জন্য একাকী হজ্ব আদায় করা নিষিদ্ধ; যতক্ষণ না তাদের সাথে একজন মাহ্রাম পুরুষ থাকবে। মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেক পেয়ে থাকে ইত্যাদি।

অতএব, কুরআন ও সুন্নাহ্ মতে নামাযে যে সকল স্থানে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাব থেকে নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-

১. তাকবীরে তাহ্রীমা বাধাঁর সময় পুরুষেরা কান পর্যন্ত হাত উঠাবে। আর মেয়েরা হাত উঠাবে কাঁধ পর্যন্ত।

২. ঠান্ডা বা অন্য কোন ওজর না থাকলে তাকবীরে তাহ্রীমা বাঁধার সময় পুরুষেরা চাদর ইত্যাদি হতে হাত বের করে কান পর্যন্ত হাত উঠাবে। আর মেয়েরা সর্বদাই কাপড়ের ভিতর হাত রেখে কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে।

৩. পুরুষেরা নাভীর নীচে হাত বাঁধবে। আর মেয়েরা বুকের (স্তনের) উপর হাত বাঁধবে।

৪. পুরুষেরা হাত বাঁধার সময় ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা হালকাভাবে বাম হাতের কব্জি ধরবে এবং ডান হাতের অনামিকা, মধ্যমা ও শাহাদত আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের উপর বিছিয়ে রাখবে। আর মেয়েরা ডান হাতের পাতা বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে। কিন্তু কব্জি বা কলাই ধরবেনা।

৫. রুকু করার সময় পুরুষেরা এমনভাবে ঝুকবে যেন মাথা, পিঠ ও নিতম্ব বরাবর হয়। আর মেয়েরা এ পরিমাণ ঝুঁকবে যাতে আঙ্গুল হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে।

৬. রুকুর সময় পুরুষেরা হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁক ফাঁক করে হাটু ধরবে। আর মেয়েরা আঙ্গুল বিস্তার করবেনা এবং হাঁটুও ধরবেনা। বরং আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে হাঁটু  স্পর্শ করে রাখবে।

৭. রুকুতে পুরুষেরা হাঁটু সোজা করে রাখবে। আর মেয়েরা হাঁটু কিছুটা বাঁকাবে।

৮. রুকুর অবস্থায় পুরুষেরা কনুই পাঁজর হতে ফাঁক রাখবে। আর মেয়েরা কনুই পাঁজরের সাথে মিলিয়ে রাখবে।

৯. সিজদাকালে পুরুষেরা পেট উরু হতে এবং বাজু বগল হতে পৃথক রাখবে। আর মেয়েরা পেট রানের সাথে এবং বাজু বগলের সাথে মিলিয়ে রাখবে।

১০. সিজদা অবস্থায় পুরুষেরা কনুই মাটি হতে উপরে রাখবে। আর মেয়েরা মাটির সাথে মিলিয়ে বা বিছিয়ে রাখবে।

১১. সিজদার মধ্যে পুরুষেরা পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলার দিকে মুড়িয়ে তার উপর ভর দিয়ে পায়ের পাতা দু’খানা খাঁড়া রাখবে। আর মেয়েরা উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে।

১২. বসার সময় পুরুষেরা পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলার দিকে মুড়িয়ে রেখে তার উপর ভর দিয়ে ডান পায়ের পাতাটি খাঁড়া রাখবে এবং বাম পায়ের পাতা বিছিয়ে তার উপর বসবে। আর মেয়েরা পায়ের উপর বসবেনা। বরং পায়ের পাতা দু’টি ডান দিকে বের করে চোতড়ে ভর করে বসবে।

১৩. পুরুষদের জন্য নামাযে জেহ্রী বা স্বশব্দে ক্বিরয়াত রয়েছে। আর মেয়েদের জন্য জেহ্রী বা স্বশব্দে ক্বিরয়াত নেই।

১৪. পুরুষদের জন্য জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আর মেয়েদের জন্য জামায়াতে গিয়ে নামায পড়া আমভাবে মাকরূহ তাহ্রীমী এবং খাছভাবে কুফরী।

১৫. পুরুষদের জন্য জুমুয়া ফরয। আর মেয়েদের জন্য জুমুয়া নেই।

১৬. পুরুষদের জন্য ঈদের নামায ওয়াজিব। আর মেয়েদের জন্য ঈদের নামায নেই।

১৭. পুরুষদের জন্য ফজরের ওয়াক্তে বিশেষ পরিস্কার হলে ফরয পড়া মুস্তাহাব। আর মেয়েদের জন্য আঁধার থাকতেই পড়া মুস্তাহাব।

ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান

ফিক্বহুস সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান

ফিক্বহুস সুনান ক্বাযা নামাযের বয়ান

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৫৩)

ফিক্বহুস সুনান নামায ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের বয়ান