-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
যদি চার রাক্য়াত নামাযের দু’রাক্য়াত নামায আদায় হয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় রাক্য়াতে শামিল হয় তাহলে মাসবুককে ইমামের সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে যথারীতি দু’রাক্য়াত নামায একাকী আদায় করলে যে নিয়মে আদায় করতো ঠিক সেই নিয়মে আদায় করতে হবে। অর্থাৎ ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে ছানা, তায়াওউয, তাসমিয়া পাঠ করার পর সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়ে যথাক্রমে রুকু সিজদা করতে হবে এবং সিজদা হতে সোজাসুজি দাঁড়িয়ে তাসমিয়াসহ সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করে যথাক্রমে রুকু ও সিজদা করে আরেক রাক্য়াত পড়তে হবে এবং যথারীতি শেষ বৈঠক করতঃ সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতে হবে।
যদি ইমাম প্রথম দু’রাক্য়াতে ক্বিরয়াত (সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা) ছেড়ে দিয়ে থাকে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ রাক্য়াতে তা পূর্ণ করে, এমতাবস্থায়ও মসবুককে বাকী নামায আদায় করার সময় প্রত্যেক রাক্য়াতে সূরা ফাতিহা ও অপর একটি সূরা পাঠ করতে হবে। অন্যথায় ফরয তরক্ব করার কারণে মাসবুকের নামায বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি মাসবুক শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করে তাতে তার নামায হয়ে যাবে তবে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ তাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আর যদি সিজদায়ে সাহু না দেয় তাহলে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে।
ইমাম চার রাক্য়াত নামায আদায় করার পর শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পরিমাণ বসে যদি পঞ্চম রাক্য়াতের জন্য দাঁড়িয়ে যায় এবং মাসবুক ঐ ইমামের তাবেদারী করে তাহলে মাসবুকের নামায বাতিল হয়ে যাবে। কারণ মাসবুকের জন্য বাকী নামায আদায় করা হচ্ছে ফরয। আর ইমামের চার রাক্য়াতের পরবর্তী অতিরিক্ত নামায হচ্ছে নফল। আমাদের হানাফী মাযহাবে ফরয নামায আদায়কারীর জন্য নফল নামায আদায়কারীর পিছনে ইক্তিদা করা জায়েয নেই। যদি ইক্তিদা করে তাহলে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। আর ইমাম তাশাহ্হুদ পরিমাণ না বসে পঞ্চম রাক্য়াতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে সিজদাহ্ না করা পর্যন্ত কারো নামায ফাছেদ বা বাতিল হবে না। আর যদি সিজদা করে তবে ইমাম, মুক্তাদী ও মাসবুক সকলের নামায বাতিল হবে।
মাসবুকের সাথে কারো ইক্তিদা করা জায়েয নেই। মাসবুকও কারো ইক্তিদা করতে পারবে না। এমনকি এক মাসবুক অপর মাসবুকের ইক্তিদা করতে পারবেনা। যে ইক্তিদা করবে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। যদি দু’জন মুছল্লী একই সময় মাসবুক হয় ও একজনের স্মরণ না থাকে যে, কত রাক্য়াত পড়তে হবে তাহলে পাশের মুছল্লীকে দেখে দেখে বাকী নামায বিনা ইক্তিদায় আদায় করতে হবে।
মাসবুক নামাযের মধ্যে থেকে পুনরায় যদি নামায আরম্ভের নিয়তে তাকবীর বলে তাহলে পিছনের নামায বাতিল হয়ে যাবে।
৩. লাহেকঃ ইমামের সাথে প্রথম হতে নামাযে ইক্তিদা করার পর মুক্তাদীর ওযু ভঙ্গের কারণে অথবা ঘুমের কারণে অথবা অন্য কোন কারণে নামাযের কতকাংশ ইমামের সাথে আদায় করতে না পেরে পরে আদায় করলে এরূপ নামায আদায়কারী মুক্তাদীকে লাহেক বলে।
যেমন- (১) কোন এক ব্যক্তি ইমামের পিছনে জামায়াতে নামাযে শামিল হলো কিন্তু কোন এক মুহূর্তে তার ওযু ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ওযু করতে গেলে ইতোমধ্যে জামায়াতের দু’এক রাক্য়াত নামায পড়া হয়ে গেল। তারপর সে জামায়াতে শামিল হলো।
(২) কোন ব্যক্তি জামায়াতে মুক্তাদীরূপে শামিল হলো, কিন্তু ইমামের পূর্বে রুকু অথবা সিজদা করে ফেললো এতে তার একার নামায বাতিল হয়ে গেল। অতঃপর সে পুনরায় নিয়ত বেঁধে জামায়াতে শামিল হলো, অথচ মাঝখানে তার দু’এক রাকয়াত নামায ছুটে গেছে।
(৩) জামায়াতে মুছল্লীর সংখ্যা অত্যাধিক হওয়ায় কোন মুছল্লী স্থানাভাবে রুকু বা সিজদা করতে পারলনা, এ অবস্থায় তার নামায ভঙ্গ হয়ে গেল, অতঃপর সে স্থান বদল করে অথবা পূর্বের স্থানেই পুনরায় নিয়ত বেঁধে জামায়াতে শামিল হলো, অথচ মাঝখানে দু’এক রাকয়াত নামায ছুটে গেছে।
(৪) কোন ব্যক্তি সিজদায় গিয়ে ঘুমিয়ে রইল, ইতোমধ্যে ইমাম দু’ এক রাক্য়াত নামায আদায় করে ফেললেন অতঃপর সে ব্যক্তি পুনরায় জামায়াতে শামিল হলো।
এ সমস্ত ক্ষেত্রে লাহেক ব্যক্তির নামায আদায়ের মাসয়ালা হচ্ছে, তাকে প্রথমে ইমামের সাথে জামায়াতের শেষ পর্যন্ত শামিল থেকে তারপর ছুটে যাওয়া নামায বিনা ক্বিরয়াতে আদায় করতে হবে। যদি সে পুনরায় জামায়াতে শামিল না হতেই ইমামের নামায শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তাকে অবশিষ্ট নামায একাকী বিনা ক্বিরয়াতে আদায় করতে হবে। অর্থাৎ ক্বিরয়াত পড়তে যে পরিমাণ সময় লাগে আনুমাণিক সেই পরিমাণ অথবা তিন তাসবীহ্ পরিমাণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তারপর রুকু, সিজদা করতে হবে। (অসমাপ্ত)
ফিক্বহুস সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান
ফিক্বহুস সুনান ক্বাযা নামাযের বয়ান
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৫৩)