ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান

সংখ্যা: ৯৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

          মুদরেক, মাসবুক ও লাহেক এ শব্দ তিনটি জামায়াতে নামায আদায়কারী ব্যক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত। মূলতঃ প্রতিটি জামায়াতে নামায আদায়কারী ব্যক্তিই এ তিন শ্রেণীর এক শ্রেণীর অর্ন্তভূক্ত হয়ে থাকে।

১. মুদরেকঃ যে ব্যক্তি পুরা নামায ইমামের সাথে আদায় করে তাকে মুদরেক বলে।

          যদি কোন ব্যক্তি জামায়াতে প্রথম রাক্য়াতে ইমামকে রুকুর অবস্থায় পেয়ে তৎক্ষনা শামীল হয় তাহলে সে পুরা নামাযই পেয়েছে বলে বিবেচিত হবে। কেননা যে রুকু পেল সে পুরা রাক্য়াতই পেল। সুতরাং সে যথারীতি ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে।

২. মাসবুকঃ ইমামের এক রাক্য়াত পড়ার পর যে কোন রাক্য়াতে বা শেষ বৈঠকে নামাযে শামীল হলে তাকে মাসবুক বলে।

          মাসবুক মুক্তাদী যদি ইমামের সজোরে ক্বিরায়াত পড়া অবস্থায় তার সাথে নামাযে শামীল হয় তবে তাকে ছানা পড়তে হবেনা। আর ইমাম চুপে চুপে ক্বিরয়াত পড়ছে এই অবস্থায় শামীল হলে ছানা পড়তে হবে। যদি ইমামকে রুকু কিংবা সিজ্দা অবস্থায় পায় এবং এক্ষেত্রে যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে, ছানা পড়ে ইমামকে রুকু কিংবা সিজদাতে পাবে তাহলে ছানা পড়ে ইমামের সাথে রুকু কিংবা সিজ্দায় শামীল হতে হবে। অন্যথায় ছানা না পড়ে ইমামের সাথে শামীল হতে হবে। আর যদি ইমামকে তাশাহ্হুদ পড়া অবস্থায় পায় তাহলে ছানা না পড়ে প্রথম তাকবীর অর্থাৎ তাকবীরে তাহ্রীমা বলে নামায শুরু করবে অতঃপর দ্বিতীয় তাকবীর বলে বসে যাবে। ইমামের সাথে যা কিছু পায় তাই প্রথমে আদায় করবে, পরে ইমাম সালাম ফিরালে দাঁড়িয়ে যে কয় রাক্য়াত পায়নি তা আদায় করতে হবে। তাকে ইমামের শেষ বৈঠকে বসে শুধু তাশাহ্হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়তে হবে কিন্তু এরূপ ধীরে ধীরে পড়তে হবে যেন ইমামের সালামের সময় উপস্থিত হয়। দরূদ ও দোয়া মা’ছুরা পড়তে হবেনা। যদি কোন মাসবুক ইমামের সাথে কিংবা ইমামের পূর্বে ভুলে সালাম ফিরায় তবে তার উপর সিজ্দা-ই-সাহু ওয়াজিব হবেনা। আর ইমামের সালামের বাদে ভুলে সালাম ফিরালে সিজ্দা-ই-সাহু ওয়াজিব হবে।

          মাসবুক মুক্তাদী ইমামের সাথে শেষ রাক্য়াত পেলে অতঃপর যে রাক্য়াত হতে শুরু করবে সেই রাক্য়াতই প্রথম রাক্য়াত নামায মনে করতে হবে। আর যে রাক্য়াত ইমামের সাথে পেয়েছে তা নামাযের শেষ রাক্য়াত মনে করতে হবে। অর্থাৎ ক্বিরয়াত প্রথম রাক্য়াত হিসেবে পড়তে হবে কিন্তু তাশাহ্হুদের ক্ষেত্রে প্রথম রাক্য়াত গণনা করে দ্বিতীয় রাক্য়াতে বসতে হবে।

          যদি কেউ মাগরিবের এক রাক্য়াত পেয়ে থাকে, তবে তাকে বাকী দু’রাক্য়াত নামায এ নিয়মে আদায় করতে হবে- দ্বিতীয় রাক্য়াত পড়ার পর বসে তাশাহ্হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়তে হবে, তৃতীয় রাক্য়াতের শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দরূদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছূরা পড়তে হবে। এই শেষ দু’রাক্য়াতের প্রথম রাক্য়াতে ছানা, তাআওউয ও তাসমিয়াসহ সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়তে হবে এবং দ্বিতীয় রাক্য়াতে তাসমিয়া ও সূরা ফাতিহাসহ অন্য সূরা পড়তে হবে। এই ব্যক্তির ইমামের সাথে একবার এবং নিজের দু’বার মোট তিনবার বৈঠক করতে হবে।

          যদি সে চার রাক্য়াত বিশিষ্ট নাামাযের এক রাক্য়াত পায়, তবে ইমামের সাথে না পাওয়া তিন রাক্য়াতের প্রথম রাক্য়াতে ছানা, তাআওউয, তাসমিয়া, সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়ে, রুকু-সিজদা করে বসে তাশাহ্হুদ পড়তে হবে, দ্বিতীয় রাক্য়াতে তাসমিয়া, সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়ে, রুকু-সিজ্দা করে না বসে দাঁড়াতে হবে এবং তৃতীয় রাক্য়াতে কেবল তাসমিয়া ও সূরা ফাতিহা পড়ে রুকু-সিজ্দা করে শেষ বৈঠক করতে হবে। যদি ইমামের সাহু সিজ্দা করার পূর্বেই মাসবুক দাঁড়িয়ে যায় তবে মাসবুককে পুনরায় বসে ইমামের সাথে সিজদা-ই সাহু আদায় করতে হবে। যদি মাসবুক ইমামের সাথে সিজদা-ই সাহু আদায় করতে না পারে তবে তাকে নামায শেষে সিজদা-ই সাহু আদায় করে নিতে হবে।

          মাসবুক ব্যক্তি নিজের শেষ বৈঠকের পূর্বে ইমামের সাথে যতবার বৈঠক করবে ততবার তাকে তাশাহ্হুদ পড়তে হবে। আর নিজের ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার সময় সূরা-ক্বিরয়াত চুপে চুপে পড়তে হবে; অন্যথায় অন্য কেউ জামায়াতে নামায পড়ার নিয়তে তার ইক্তেদা করতে পারে।

ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান

ফিক্বহুস সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান

ফিক্বহুস সুনান ক্বাযা নামাযের বয়ান

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৫৩)

ফিক্বহুস সুনান নামায ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের বয়ান