-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
নৌকা, ষ্টিমার, বাস ও রেলগাড়ী চলন্ত অবস্থায় তার ভিতর নামায আদায় করা জায়েয আছে। ওজরবশতঃ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা সম্ভব না হলে বসে নামায আদায় করতে পারবে। বিনা ওজরে বসে নামায আদায় করা জায়েয হবেনা। নামাযের মধ্যে যদি উক্ত যানবাহন ক্বিবলার দিক হতে ঘুরে যায় তবে মুছল্লীকেও ঘুরে ক্বিবলার দিকে মুখ করে নাময আদায় করতে হবে।
বাড়ীর ঘাটে কিংবা শুক্না স্থানের নিকট নৌকা বেঁধে রেখে নৌকার ভিতর বসে নামায আদায় করা জায়েয নেই। তবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে পারবে। উক্ত নৌকায় দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা সম্ভব না হলে নৌকা হতে উঠে গিয়ে শুক্না স্থানে নামায আদায় করতে হবে।
ঘোড়ার গাড়ী, গরুর গাড়ী, হাতী, উট ইত্যাদিতে আরোহনরত অবস্থায় নামাযের সময় হলে তা থেকে নেমে নামায আদায় করতে হবে। সওয়ারী থেকে নেমে নামায আদায় করলে যদি প্রাণহানী কিংবা সঙ্গীয় মাল-সামানা লুক্তিত হওয়ার আশংকা থাকে তাহলে না নেমে সওয়ারী বা গাড়ীর ভিতর থেকেই নামায আদায় কর জায়েয রয়েছে।
নিম্নোক্ত মাজুরতার ক্ষেত্রেও সওয়ারীর উপর আরোহন করা অবস্থায় নামায আদায় করা জায়েয রয়েছে-
১. সওয়ারীর প্রাণী এমন উম্মাদ হয় যে, তার পিঠ হতে নামলে পুনরায় অন্যের সাহায্য ব্যতীত উঠতে না পারে।
২. আরোহী এত বৃদ্ধ যে, একবার নামলে পুনরায় অন্যের সাহায্য ব্যতীত সওয়ার হতে অক্ষম হয়।
৩. মাটি এত নরম যে, সিজ্দা দেবে যায়। অথবা সওয়ারী থেকে নেমে বিছানা করলে বিছানায় কাদা জড়ায়ে যায়।
৪. যদি সওয়ারীর উপর থেকে নেমে নামায আদায় করলে কাফেলা চলে যাওয়ার আশংকা থাকে।
৫. অসুস্থ ব্যক্তি সওয়ারী হতে নামলে যদি বিশেষ কষ্ট হয় বা অসুস্থতা বৃদ্ধি হয়।
৬. যদি দু’জন আরোহীর মধ্যে একজন নামতে সক্ষম হয় ও অপরজন অক্ষম হয় তবে সক্ষম ব্যক্তিকে নেমে নামায আদায় করতে হবে।
উল্লেখ্য, সওয়ারীর উপর নামায আদায় করতে হলে ইশারায় নামায আদায় করতে হবে। যদি সওয়ারী ক্বিবলার দিকে থাকে তবে সওয়ারী থামিয়ে ক্বিবলামূখী হয়ে নামায আদায় করতে হবে। যদি থামানো না যায় ও ক্বিবলামূখী করানো না যায় তবে সওয়ারী যেদিকে চলে সেদিকে ফিরিয়ে নামায আদায় করতে হবে এবং পরে এ নামায ক্বাযা আদায় করে নিতে হবে।
ছহীহ্ মতে, মা’জুর ব্যক্তি সাহায্যকারী লোক পাওয়া সত্ত্বেও সওয়ারীর উপরে নামায আদায় করলে জায়েয হবেনা। ওজরের কারণে সওয়ারীর উপর থেকে ইশারায় যে ফরয নামায পড়া হয়েছে, ওজর চলে গেলে উক্ত নামায পুনরায় ক্বাযা আদায় করতে হবেনা।
সওয়ারীর প্রাণীর পিঠের উপর বসার স্থানের দু’পাশে দু’জন থাকলে একজন অন্যজনের ইক্তিদা করতে পারে। এমনকি এক পাশে দু’জন থাকলেও একে অপরের ইক্তিদা করতে পারবে।
এরূপক্ষেত্রে ক্বিবলামূখী হয়ে নামায আরম্ভ করার পর ক্বিবলা ঘুরে গেলেও নামায আদায় হয়ে যাবে।
মা’জুর ব্যক্তি পাল্কী, গরুর গাড়ী, ঘোড়ার গাড়ী ইত্যাদির ভিতর বসে নামায আদায় করতে পারে; কিন্তু নামায আদায় করার সময় পাল্কী বেহারাদের কাঁধ হতে অথবা গাড়ী গরু অথবা ঘোড়ার কাঁধ হতে আলাদা করে রাখতে হবে। যদি ওজর থাকে তবে কাঁধ হতে আলাদা না করে পাল্কি ও গাড়ী চলা অবস্থায় নামায আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে। যদি চলতি নৌকায় দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলে কারো মাথা ঘুরায় কিংবা কোনরূপ ক্ষতির আশংকা দেখা দেয় তাহলে সেক্ষেত্রে বসে নামায আদায় করতে পারবে। আর এরূপ কোন আশংকা না থাকলে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে। ছোট নৌকা হলে যদি উপরে উঠে রুকু, সিজ্দা আদায় করে নামায আদায় করা সম্ভব হয় তবে তাই করবে। যদি তা না পারা যায় তবে যথা সম্ভব রুকু, সিজ্দা আদায় করে নামায আদায় করতে হবে। তাতেও সম্ভব না হলে ইশারায় নামায আদায় করতে হবে। ইশারায় নামায আদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন রুকুর চেয়ে সিজ্দায় মাথা কিছুটা বেশী নীচু করা হয়। কিন্তু কোন জিনিসের উপর সিজ্দা করা যাবেনা। এতে নামায ফাছেদ হবে না সত্যি তবে মাকরূহ হবে।
যদি নৌকা তীরে সংলগ্ন থাকে ও পৃথক করার কোন সম্ভাবনা না থাকে তাহলে নৌকার মুক্তাদীগণ নৌকা থেকেই তীরে নামায আদায়কারী ইমামের সাথে ইক্তিদা করতে পারবে। অনুরূপ নৌকার ইমামের সাথে তীরের মুক্তাদীগণ ইক্তিদা করতে পারবে। আর যদি নৌকা ও তীরের মধ্যে এতটুকু ফাঁক থাকে এবং যে স্থান দিয়ে কোন ছোট নৌকা চলতে পারে তবে এরূপ অবস্থায় ইক্তিদা করা জায়েয হবেনা।
দু’টি নৌকা একত্রে লাগানো থাকলে তথায় জামায়াত করে নামায আদায় করা জায়েয রয়েছে। কিন্তু দুই সওয়ারীর প্রাণী একত্রে লাগালাগি থাকলে তাতে জামায়াত জায়েয হবেনা।
ফিক্বহুস্ সুনান অসুস্থ ব্যক্তির নামাযের বয়ান
ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান
ফিক্বহুস্ সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান