ফিক্বহুস সুনান মুদরেক, মাসবুক ও লাহেকের নামায আদায়ের বয়ান

সংখ্যা: ৯৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

ওযু ভঙ্গের ক্ষেত্রে লাহেক নামাযীকে পুনরায় ওযু করে এসে অবশিষ্ট নামায পুরা করতে হলে নিম্নোক্ত শর্তগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে।

১. ওযু ভঙ্গ অবস্থায় এমন কোন কাজ করতে পারবে না যা নামাযের মধ্যে করা হয়। ২. ওযু করতে যাওয়ার সময় পথে কুরআন শরীফের আয়াত শরীফ বা সূরা পাঠ করতে পারবে না। ৩. যে সমস্ত কাজ করলে নামায ভঙ্গ হয় তার কোনটিই করতে পারবেনা। ৪. ছতর খুলতে পারবেনা। অর্থাৎ নামাযের অবস্থায় শরীরের যে যে অংশ ঢেকে রাখা ফরয ওযুর সময়ও তা ঢেকে রাখতে হবে। ৫. ওযু ভঙ্গের পর বিনা ওজরে নিজের স্থানে বিলম্ব করতে পারবেনা বরং তাড়াতাড়ি ওযু করার জন্য চলে যেতে হবে। একইভাবে ওযু শেষে তাড়াতাড়ি নামাযে শামীল হতে হবে। যদি ওযু করতে যেতে এক রোকন পরিমাণ সময় বিলম্ব করে তাহলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।

          এই সমস্ত শর্তের কোন একটির খিলাফ করলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। তখন আর অবশিষ্ট নামায আদায় করলে নামায শুদ্ধ হবেনা। বরং পুনরায় শুরু থেকে নামায আদায় করতে হবে।

          মূলতঃ উল্লিখিত শর্তগুলো যথাযথ পালন করতঃ নামায আদায় করলে নামায আদায় হয়ে যাবে সত্যি তবে শর্তগুলো পালন করা খুবই কঠিন। এজন্য ওযু করে এসে পুনরায় প্রথম হতে নামায আদায় করাই উত্তম।

          উল্লেখ্য, যদি নামাযের মধ্যে অনিচ্ছা সত্ত্বে ওযু ভঙ্গ হয় যেমন- প্রসাব, পায়খানা, বাদেগরম, নাসিকা হতে রক্ত বের হওয়া, মুখ ভরে বমি হওয়া, ক্ষত স্থান হতে আপছেআপ রক্তপাত হওয়া ইত্যাদি তাহলে পুনরায় ওযু করে বাকী নামায আদায় করতে পারবে। আর যদি নিজের ইচ্ছায় ওযু ভঙ্গ হয় যেমন- পায়খানা, প্রসাব, মুখভরা বমি, উচ্চ হাস্য, ক্ষতস্থান হতে রক্তপাত ইত্যাদি যে সমস্ত কাজে ওযু ভঙ্গ হয় সে সমস্ত কাজ যদি নিজ ইচ্ছায় করে তাহলে পুনরায় ওযু করে নতুন নিয়তে নামায আদায় করতে হবে। অনুরূপ নামায আদায় কালে শরীরের কোন অঙ্গে কাঁটা ফুটে রক্তপাত হলে কিংবা শরীরের চাপ লেগে ক্ষতস্থান হতে রক্ত বের হওয়ার কারণে ওযু ভঙ্গ হলে পুনরায় ওযু করে নতুন নিয়তে নামায আদায় করতে হবে।

          একইভাবে অন্যের দ্বারা ওযু ভঙ্গ হলে যেমন- অন্যের নিক্ষেপ করা ঢিলা, গুলি, তীর, পাথর শরীরে লেগে রক্তপাত হলে ওযু করে নতুন নিয়তে নামায আদায় করতে হবে।

          যদি ইমামের ওযু নষ্ট হয়ে যায় তবে তৎক্ষনাত মুক্তাদীগণের মধ্য হতে ইমামের যোগ্য কোন ব্যক্তিকে খলীফা বা স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করে নিজে ওযু করতে চলে যাবে এবং খলীফাকে অবশিষ্ট নামায আদায় করার জন্য ইশারায় বুঝিয়ে দিবে। যেমন, এক রাক্য়াতের জন্য এক অঙ্গুলী এবং দু’রাক্য়াতের জন্য দু’অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করবে। রুকুর জন্য হাঁটুতে, সিজদার জন্য কপালে, ক্বিরয়াতের জন্য মুখে, সিজদা সাহুর জন্য বুকে হাত রেখে ইশারা করবে। যে ব্যক্তি এ সমস্ত ইশারার তাৎপর্য বুঝেনা তাকে খলীফা নিযুক্ত করা যাবেনা।

          ইমাম ওযু করে এসে যদি দেখেন যে, জামায়াত তখনও শেষ হয়নি তাহলে নিজে মনোনীত খলীফার মুক্তাদী হয়ে জামায়াত শেষ হওয়ার পর ওযুর সময়ে যে নামায ছুটে গেছে তা মাসবুকের মাসয়ালা অনুযায়ী একাকী আদায় করে নিবেন। অর্থাৎ সূরা-ক্বিরায়াত ইত্যাদি যথা নিয়মে পড়ে নামায আদায় করবেন। ওযু করে ফিরে এসে যদি দেখেন যে, জামায়াত শেষ হয়ে গেছে তাহলেও বাকী নামায একাকী মাসবুকের ন্যায় আদায় করতে হবে।

          যদি ইমাম এমন কোন ব্যক্তিকে খলীফা মনোনীত করেন, যে নামাযের দু-এক রাক্য়াত আদায় হয়ে যাওয়ার পর জামায়াতে শামীল হয়েছে তাহলে সে প্রথমে ইমামের অসমাপ্ত নামায সমাপ্ত করে জামায়াতে প্রথম হতে শামীল আছে এমন একজন মুক্তাদীকে সালাম ফিরাবার জন্য নিজ স্থানে বসিয়ে দিবে এবং সেই ব্যক্তি সালাম ফিরাবার পর প্রথম খলীফা নিজের ছুটে যাওয়া নামায মাসবুকের মাসয়ালা অনুয়ায়ী পুরা করে নিবে।

          রুকু কিংবা সিজদার মধ্যে ইমামের ওযু ভঙ্গ হলে ইমাম যদি অন্য রোকন আদায়ের নিয়তে তাক্বীর বলে মাথা উঠায় এবং দাঁড়ায় তাহলে ইমাম, মুক্তাদী সকলের নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। যদি মুক্তাদী ইমামের সাথে নামাযে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আর ইমাম দু-এক রাক্য়াত নামায পড়ে ফেলেন তাহলে হুশ আসার পর মুক্তাদীকে ইমামের তাবেদারী করতে হবে। অতঃপর ফউত নামায শেষে আদায় করতে হবে। (সমাপ্ত)

ফিক্বহুস সুনান ক্বাযা নামাযের বয়ান

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৫৩)

ফিক্বহুস সুনান নামায ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের বয়ান

ফিক্বহুস্ সুনান: নামায ভঙ্গকারী বিষয় সমূহের বয়ান

ফিক্বহুস্ সুনান নামাযের মাকরূহ্ সমূহের বয়ান