বাত্বাতুল আবত্বাল, মানছুরু বিররু’ব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিভিন্ন জিহাদে ব্যবহৃত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সমরাস্ত্র সমূহ এবং বাহন মুবারক উনাদের পরিচিতি মুবারক

সংখ্যা: ৩০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّاۤ اَعۡطَیۡنٰكَ الۡكَوۡثَرَ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাউছার মুবারক হাদিয়া করেছি।” সুবহানাল্লাহ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাওছার মুবারক উনার লক্ষ-কোটি ব্যাখ্যা মুবারক রয়েছেন। উনাদের মধ্যে একখানা ব্যাখ্যা মুবারক হচ্ছেন, ‘খইরে কাছীর অর্থাৎ সমস্ত প্রকার ভালাই’। অর্থাৎ খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনাকে সমস্ত প্রকার ভালাই অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম বিষয় মুবারকগুলো হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অপরদিকে উনার সাথে যে বিষয় মুবারকগুলো সম্পৃক্ত হয়েছেন, সে বিষয় মুবারকগুলো সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ!

এই ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন,

اِنَّ التُّرْبَةَ الَّتِىْ اِتَّصَلَتْ اِلـٰى اَعْظُمِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَفْضَلُ مِنَ الْاَرْضِ وَالسَّمَاءِ حَتَّـى الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

অর্থ: “নিশ্চয়ই এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম বা শরীর মুবারক) উনার পবিত্র নূরুত তাবারুক মুবারক অর্থাৎ স্পর্শ মুবারক-এ এসেছেন, যেই মাটি, ধূলি-বালি (পদার্থ-বস্তু যা কিছুই হোক না কেন) তা আসমান-যমীন; এমনকি খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ কোটি গুণ বেশি ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ।” সুবহানাল্লাহ!

অন্য ইজমা মুবারক-এ বর্ণিত রয়েছেন,

فَاِنَّهٗ اَفْضَلُ مُطْلَقًا مِّنَ الْكَعْبَةِ وَالْـكُـرْسِىِّ حَتَّى الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার পবিত্র নূরুত তাবারুক মুবারক অর্থাৎ স্পর্শ মুবারক-এ যা কিছু এসেছেন, তা অবশ্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ; এমনকি খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ।’ সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার পবিত্র নূরুত তাবারুক মুবারক অর্থাৎ স্পর্শ মুবারক-এ যা কিছু এসেছেন তা আসমান-যমীন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে; এমনকি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি পবিত্র, ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ।’ সুবহানাল্লাহ

যদি তাই হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যবহৃত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বস্তু মুবারক, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র অস্ত্র মুবারক, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তরবারী মুবারক, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বাহন মুবারক উনাদের ফাযায়েল ফযীলত মুবারক কত বেশী হবে তা চিন্তা ফিকিরের বিষয়। আর উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ইলম থাকাও উম্মতের জন্য অতি জরুরী ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য মুবারক ছিলেন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বীরত্ব মুবারক। বহুসংখ্যক জিহাদে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং সত্য ও সুন্দরের পক্ষে বারবার উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বীরত্ব মুবারক্ব প্রকাশ পেয়েছেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বীরত্ব মুবারক উনার অন্যতম নিদর্শন মুবারক হলেন উনার ব্যবহৃত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তরবারী মুবারক, বর্ম মুবারক, বর্শা মুবারক, তীর মুবারক, শরাধার মুবারক, ঢাল মুবারক, উট বা উষ্ঠী মুবারক, ঘোড়া মুবারক, খচ্চর মুবারক ও গাধা মুবারক।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  ব্যবহৃত তরবারী মুবারক ছিলেন ৯খানা। নিম্নে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তরবারী মুবারকগুলো উনাদের পরিচয় মুবারক তুলে ধরা হলো।

১.  (الـمأثور الشريف) পবিত্র আল মাছুর শরীফ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এটি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র প্রথম তরবারি মুবারক, যা তিনি পবিত্র ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছিলেন। পবিত্র তরবারী মুবারক উনার ওপর খোদাই করে লেখা ছিল সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিমাস সালাম। এই পবিত্র তরবারী মুবারক উনার দৈর্ঘ্য ছিলেন ৯৯ সেন্টিমিটার। ধারালো অংশ মুবারক উনার দৈর্ঘ্য ছিল ৮১ সেন্টিমিটার। আর হাতল মুবারক ছিল ১৪ সেন্টিমিটারের। নান্দনিক এই পবিত্র তরবারী মুবারক উনার  প্রস্থ মুবারক ছিল ৪ সেন্টিমিটার, যা উপরিভাগে গিয়ে ৩.৫ সেন্টিমিটার হয়ে গেছে।

২. (القضيب الشريف) পবিত্র আল ক্বাদ্বিব শরীফ : এটি ছিল লোহার তৈরি অত্যন্ত মজবুত তরবারী মুবারক। এর দৈর্ঘ্য ছিল ১০০ সেন্টিমিটার। প্রস্থ ছিল ২.৮ সেন্টিমিটার। এই তরবারির ধারালো অংশ মুবারক ছিল তুলনামূলক চিকন, যার উপরিভাগ ছিল মাত্র ২.২ সেন্টিমিটার। মজবুত এই তরবারী মুবারক সঠিকভাবে চালানোর জন্য ছিল ১৪ সেন্টিমিটার হাতল মুবারক। শুধু ধারালো অংশ মুবারকের দৈর্ঘ্য ছিল ৮৬ সেন্টিমিটার।

৩. (العضْب الشريف) পবিত্র আল আদ্বব শরীফ : এই সম্মানিত তরবারী মুবারক হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ওহুদের জিহাদ চলাকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। এর আগে এই তরবারী মুবারক দিয়ে জিহাদ  করেছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী  হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি । বর্তমানে এই তরবারী মুবারক কায়রোর জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

৪. (ذوالفِقار الشريف)  পবিত্র জুলফিকার শরীফ: এটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যবহৃত তরবারী মুবারক গুলোর মধ্যে অন্যতম। ঐতিহাসিক বদরের জিহাদের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বিখ্যাত ও মহাসম্মানিত তরবারী মুবারক সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার চতুর্থ খলিফা, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!  এই পবিত্র তরবারী মুবারক উনার দৈর্ঘ্য ছিলেন ১০৪ সেন্টিমিটার, যার মধ্যে ধারালো অংশ ছিল ৮৯ সেন্টিমিটার। এর হাতল মুবারক ছিল অন্যান্য তরবারীর তুলনায় হালকা ও বড়, ১৫ সেন্টিমিটার। মজবুত এই তরবারির মুবারক প্রস্থও ছিল কিছুটা মোটা, ৬ সেন্টিমিটার, যার উপরিভাগ ছিল ৪.৫ সেন্টিমিটার। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরবারী মুবারকের বাঁটের অগ্রভাগ ছিল রুপার তৈরি। (শামায়েলে তিরমীজী শরীফ , হাদীছ শরীফ নং : ৮১)।

পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদদের মতে,  পবিত্র জুলফিকার তরবারীখানা পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে ছিল।

৫. (القُلَعى الشريف) পবিত্র আল কুলায়ী শরীফ : বনু কাইনুকা থেকে গনীমত স্বরূপ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে তিনটি পবিত্র তরবারী মুবারক গ্রহণ করেছিলেন, এটি তার একটি। এটি সাধারণত ভ্রমণকালে নিরাপত্তার জন্য তা ব্যবহার করা হতো। জিহাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হতো না। হাতলসহ এই পবিত্র তরবারী মুবারক উনার  দৈর্ঘ্য  ছিল ১১৪ সেন্টিমিটার, যার মধ্যে ধারালো অংশ  ছিল ৯১ সেন্টিমিটার। তরবারীটির প্রস্থ ছিল ৫.৫ সেন্টিমিটার, যা উপরিভাগে গিয়ে ৪.৫ সেন্টিমিটার হয়ে যায়।

৬.(الحَتف الشريف) পবিত্র আল হাত্তাফ শরীফ : এটি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবচেয়ে ভারী তরবারি মুবারক, যা ছিলেন যুদ্ধের জন্য বেশ উপযোগী ও কার্যকর। এটিও বনু কায়নুকা গোত্র থেকে  গনিমতের মধ্যে ছিল। হাতলসহ এই তরবারী মুবারক উনার দৈর্ঘ্য ছিলেন ১১৩ সেন্টিমিটার, যাঁর ধারালো অংশ ছিলেন ৯৮ সেন্টিমিটার। ধারালো এই তরবারী মুবারক উনার প্রস্থ ছিলেন ৮ সেন্টিমিটার, যা উপরিভাগে ৬ সেন্টিমিটারে শেষ হয়েছেন।

৭. (الرسوب الشريف) পবিত্র আর রাসুব শরীফ : এটি ছিলেন এমন একটি তরবারী মুবারক, যা রূপা দিয়ে মোড়ানো ছিল। ইহা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরবারী মুবারক উনাদের  মধ্যে সবচেয়ে বেশী লম্বা ছিলেন , যার দৈর্ঘ্য ছিলেন ১৪০ সেন্টিমিটার।

৮. (البتار الشريف) পবিত্র আল বাত্তার শরীফ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই তরবারী মুবারক উনার উপর খোদাই করে লেখা ছিল ‘আল কিসাস’ (মৃত্যুদন্ড) এবং ‘সাইফুল আদল’ (ন্যায়ের তরবারী)। এ ছাড়া সেই তরবারী মুবারক উনার উপরে ছিল নান্দনিক নকশা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

৯. (المِخْذَم الشريف) পবিত্র আল মিখজাম শরীফ : রূপায় মোড়ানো ছিল আল মিখজাম শরীফ, যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিভিন্ন সময় ব্যবহার করেছেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (الدرع)  দেরা” বা বর্ম মুবারক ছিল ৭টি । যথা-

 ‘যাতুল ফুদ্বুল’(ذَاتُ الْفُضُولِ), ‘যাতুল উইশাহ’ (ذَاتُ الْوِشَاحِ), ‘যাতুল হাওয়াশী’ (ذَاتُ الْحَوَاشِي), সা‘দিয়াহ (السَّعْدِيَّةُ), ফিদ্বদ্বহ (فِضَّةٌ), বাতরা (الْبَتْرَاءُ), খিরনিক্ব (الْخِرْنِقُ)। (যাদুল মা‘আদ ১/১২৬)।

এতদ্ব্যতীত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার- তীর মুবারক উনার নাম মুবারক ছিল ‘সাদাদ’ (السَّدَادُ), শরাধার মুবারক উনার নাম মুবারক ছিল ‘আল-জাম‘উ’ (الْجَمْعُ), বর্শা মুবারক উনার নাম মুবারক ছিল ‘সাগা’ (السَّغَاء), উনার শিরস্ত্রান মুবারক  উনার নাম ছিলেন ‘যাক্বান’ (الذَّقَنُ), ঢাল মুবারক উনার নাম ছিলেন ‘মূজেয’ (الْمُوجِزُ)।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  (الإبل) বা উট মুবারক ছিলেন ৪টি । যথাঃ

(১) ‘ক্বাছওয়া’ (الْقَصْوَاءُ)। যাতে সাওয়ার হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের সফরে গমন করেন এবং পবিত্র বিদায় হজ্জের সময় পবিত্র আরাফার ময়দানে খুতবা মুবারক দেন (বুখারী শরীফ , হাদীছ শরীফ নং -৪৪০০; তিরমিযী শরীফ, হাদীছ শরীফ নং – ৩৭৮৬)।

(২) ‘আযবা’ (الْعَضْبَاءُ) ও (৩) ‘জাদ‘আ’ (الْجَدْعَاءُ) নামে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আরও দু’টি উষ্ট্রী মুবারক ছিলেন। ‘আযবা’ ছিল অত্যন্ত দ্রতগামী। যাকে কেউ হারাতে পারত না । পবিত্র বিদায় হজ্জ উনার পবিত্র ঈদুল আদ্বহার দিন এর পিঠ মুবারক এ বসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কংকর মুবারক নিক্ষেপ করেন। অতঃপর খুতবা মুবারক দেন।

জাদ‘আ (الْجَدْعَاءُ) পবিত্র হিজরতের সময় সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেন (বুখারী শরীফ, হাদীছ শরীফ নং- ৪০৯৩)

পবিত্র আইয়ামে তাশরীক্বের সময় এর পিঠ মুবারক এ সাওয়ার হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুতবা মুবারক দেন ।

(৪) আরেকটি অত্যন্ত দ্রুতগামী উট ছিলেন। যাকে কেউ অতিক্রম করতে পারত না। যা তিনি বদরের যুদ্ধে গণীমত হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। যাঁর নাকে রূপার নোলক ছিল। এটাকে তিনি পবিত্র হোদায়বিয়ার দিন নহর করেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (الخيل) বা ঘোড়া মুবারক ছিলেন ৭টি। যথাঃ (১) ‘সাকব’ (السَّكْبُ)। যাঁর রং মুবারক ছিলেন কালো ও কপালচিতা। (২) ‘মুরতাজিয’ (الْمُرْتَجِزُ) (৩) ‘লুহাইফ’ (اللُّحَيْفُ) (৪) ‘লেযায’ (اللِّزَازُ) (৫) ‘যারিব’ (الظَّرِبُ) (৬) ‘সাবহাহ’ (السَّبْحَةُ) এবং (৭) ‘ওয়ার্দ’ (الْوَرْدُ)। ঘোড়ার পালানের নাম মুবারক ছিল ‘দাজ’ (الدَّاجُ)।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (البغال) বা খচ্চর মুবারক ছিলেন ৩টি । যথা :

(১) ‘দুলদুল’ (دُلْدُلُ)। যা ছিলেন সাদা-কালো ডোরা কাটা। যা মিসরের বাদশা হযরত মুক্বাওউয়্যিস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি  হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।

(২) ‘ফাদ্বদ্বহ’ (فَضَّةٌ)। যা ছিল সাদা। যা রোম স¤্রাটের পক্ষে মা‘আন (مَعَان)-এর গভর্ণর হযরত ফারওয়া আল-জুযামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুলের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।

(৩) আরেকটি ডোরা কাটা খচ্চর ছিলেন, যা আয়লার অধিপতি হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, বাদশা নাজ্জাশীও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার জন্য একটি খচ্চর পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি সওয়ার হতেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (الحمير) বা গাধা মুবারক ছিলেন ২টি । যথাঃ

 (১) ইয়া‘ফূর (يَعْفُورٌ) বা ‘উফায়ের (عُفَيْرٌ)। যা ছিল সাদা-কালো ডোরা কাটা। যা মিসরের বাদশা হযরত মুক্বাওউয়্যিস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।

(২) হযরত ফারওয়া আল-জুযামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহন করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আরেকটি গাধা মুবারক হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।

দলীলসমূহঃ তাফসীরে ইবনে কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়াননিহায়াহ- ৬/৯, আহমাদ শরীফ, হাদীছ শরীফ নং- ২০০৮৬-৮৭; আবু দাঊদ শরীফ, হাদীছ শরীফ নং-১৯৫৪,  বায়হাক্বী শরীফ হাদীছ শরীফ নং -৫/১৫২,৯৪৬৪; তিরমিযী শরীফ হাদীছ শরীফ নং- ৮১৫; ইবনু মাজাহ শরীফ হাদীছ শরীফ নং-৩০৭৬; যাদুল মা‘আদ ১/১২৯-৩০, ‘আওনুল মা‘বূদ -১৯৫২ নং হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

– মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী ।

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা