বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

সংখ্যা: ৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি,

ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম

(ধারাবাহিক)

          মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “একদা গিয়াসপুরে (সুলতান) মুঈজুদ্দীন কায়কোবাদ এক নতুন শহর তৈরী করার পরিকল্পনা করলো। তখন অধিক লোক আমার দিকে আসতে লাগলো। এমনকি বাদশাহ্ রঈস, আমীর সব ধরণের লোক আমার দিকে রুজু হয়ে গেলো। (তখন) আমার দিলের মধ্যে খেয়াল হলো, আমাকে এখান থেকেও চলে যেতে হবে। আমিও ঐ খেয়ালের মধ্যেই ছিলাম। জোহরের নামাযের পর খুব সুন্দর, সুশ্রী এক যুবক আমার নিকট আসলো এবং এই শের পড়লো,

রোযেকে তুমাহ্ গুদী নামী দানাস্তী!

কাঙ্গাশতে নোমায়ে আলমে খাহী শোদ!!

অর্থঃ- “যেদিন তুমি চাঁদ হয়েছিলে জানতে পারোনি যে (একদা) একটি জগতের লক্ষ্যস্থল (পরিণত) হবে।”

           অতঃপর সেই সুন্দর নওজোয়ান বললো, নিয়ম হচ্ছে এই যে, প্রথম অবস্থায় তো মশহুর না হওয়াটাই শ্রেয়। কিন্তু খ্যাতি যখন সাধারণের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তখন এমনভাবে বসবাস করার চেষ্টা করা উচিত যেন হাশরের মাঠে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মুখে শরমিন্দা না হতে হয়। এরপর সেই নওজোয়ান আরও বলতে লাগলো, খোদায়ী মাখলুক থেকে জুদায়ী হয়ে নির্জনে ইবাদত-বন্দেগী করার মধ্যে উদ্যমী, শক্তিশালী মর্দের পরিচয় মিলে না। বরং আসল মর্দ ঐ ব্যক্তি, যে মাখলুকাতের মধ্যে থেকেই খোদা তায়ালাকে স্মরণ করে। যখন নওজোয়ান তাঁর সমস্ত কথা শেষ করলো তখন আমি তাঁর জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসলাম। কিন্তু তিনি কিছুই খেলেন না। তখন থেকে আমি মনে মনে দিলের মধ্যে পোক্ত ইরাদা করে নিয়েছি যে, এখন এই জায়গা ছেড়ে আর কোথাও যাব না। তারপর এই নওজোয়ান সামান্য পানি পান করলো এবং চলে গেল। ঐদিনের পর থেকে আমি আর কখনো তাঁকে দেখিনি।

          সারকথাঃ মাহবুবে ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন গিয়াসপুর বস্তিতে থাকার দৃঢ় মনোভাব পোষণ করলেন তখন আল্লাহ্ পাক তাঁকে অধিক পূর্ণতা দান করলেন। সাধারণ ও বিশেষ লোকদেরকে তাঁর দরবারের দিকে ঝুঁকিয়ে দিলেন। অতঃপর গায়েবী রিযিক ও হাদিয়া তোহ্ফার দরজা তাঁর জন্য খুলে গেল। আল্লাহ্ পাক-এর ইহ্সান ও মদদের কারণে এ জগৎ তাঁর থেকে ফায়দা হাছিল করতে লাগলো। তাঁর নিজের হালত হচ্ছে এই যে, সমস্ত সময়টাই তিনি রিয়াযত-মুজাহিদার মধ্যে অতিবাহিত করতেন। সব সময় রোযা রাখতেন এবং ইফতার করতেন সামান্য পানি দিয়ে। সাহ্রীর সময়ও কিছু খেতেন না। খাদেমগণ যখন বল্তো আপনি ইফতারের সময়ও সামান্য পরিমাণ খেলেন আবার সাহ্রীর সময়ও (কিছু) খাবেন না তাহলে আপনার অবস্থা কি হবে? এভাবে তো আপনি দিন দিন জঈফ, দুর্বল ও কমজোর হয়ে পড়বেন। খাদেমদের এসব কথা শোনার পর তিনি বল্লেন, কত মিসকীন, দরবেশগণ(আল্লাহ্ওয়ালা) মসজিদের মধ্যে এবং বাজারের মধ্যে ভুখা, উপবাস অবস্থায় (দিনাতিপাত) করছে। এখন বলো এইসব অবস্থা দেখে এসমস্ত খানা আমার হলকুমের নীচে কিভাবে নামবে?” তখন খাদেমগণ মজবুর হয়ে তাঁর সামনে থেকে সাহ্রীর (সামানা) খানা উঠিয়ে রাখতেন।  (অসমাপ্ত)

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার