মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি,
ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
বর্ণিত রয়েছে, একদা এক ব্যক্তি মাহবুবে সুবহানী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মজলিশে বলে উঠলো, “ওমুক জায়গায় আপনার কিছু সঙ্গী সাথী রয়েছে যারা বিভিন্ন প্রকার বাদ্য যন্ত্র বাজাচ্ছে।” তিনি বললেন, “আমিতো তাদের এই সমস্ত নিষিদ্ধ হারাম বস্তু থেকে দূরে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারা তো এটা ঠিক করেনি। শরীয়তের দৃষ্টিতে কাওয়ালী (সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র বাজানো) এবং এই জাতীয় আরো কিছু (কোন অবস্থাতেই জায়েয নেই।)” এরপর বললেন, “হযরত শায়খ আওহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি একদা শায়খুশ্ শুয়ুখ হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহ্রাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট আসলেন। তখন হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহ্রাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর নামাযের মুসাল্লাখানা গুটিয়ে জানুর নীচে রাখলেন। এর অর্থ আগন্তক (মেহমানের) সম্মান ও তাজীমের জন্য তিনি এরূপ করলেন। যখন রাত্রি নেমে এলো তখন হযরত শায়খ আওহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর নিকট সামা শ্রবণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। আর তখন হযরত শায়েখ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মাহ্ফিলে সামা (বাদ্যযন্ত্র, মহিলা, রাগ-রাগিনী তথা অনৈসলামিক সূর ব্যতীত আরো শর্ত সাপেক্ষ্য আল্লাহ্ পাক-এর দিকে আহ্বান সম্বলিত শব্দ দ্বারা রচিত এবং আল্লাহ্ওয়ালা ব্যক্তি দ্বারা কাসিদা পাঠকে সামা বলা হয়) শ্রবণ করার জন্য একটি পাক ছাফ জায়গা নির্দিষ্ট করলেন ও সামার পাঠকদেরকে ডেকে আনালেন এবং তিনি নিজে ঘরের এক কোনে গিয়ে ইবাদতে ইলাহীতে মশগুল হলেন।”
মুছান্নিফ বলেন, “এই বর্ণনা হযরত মুল্লা জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মশহুর কিতাব “নাফাহাতুল উন্স” কিতাবের বিপরীত বা খেলাফ।”
“নাফাহাতুল উন্স” কিতাবে বর্ণিত আছে, “হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সামনে যদি কেউ হযরত শায়খ আওহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আলোচনা তুলতেন তবে তিনি বলতেন, আমার সামনে ঐ বিদ্য়াতীর আলোচনা করবেনা।” (নাউযুবিল্লাহ্)
শায়খ রুকুনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি ও শায়খ আলাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণনা মতে, এই ঘটনা ছহীহ্ এবং বিভিন্ন সময়(অবস্থার) উপর (এটি) প্রযোজ্য বাকি আল্লাহ্ রব্বুল ইজ্জতই এই ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত।
বর্ণিত রয়েছে, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তার বেসাল শরীফের চল্লিশ দিন আগে থেকেই খানাপিনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং তিনি যখন জীবনের সেই শেষ মুহুর্তটিতে এসে পড়লেন তখন জিজ্ঞাসা করলেন, “নামাযের সময় হয়েছে কিনা এবং আমি নামায পড়েছি কিনা?” খাদিমরা বললো, “জী হাঁ, আপনি নামায পড়েছেন।” তখন তিনি বললেন, “আমি দ্বিতীয় বার নামায পড়ে নিচ্ছি।” সুতরাং প্রত্যেক নামাযকেই তিনি এভাবে আদায় করতেন এবং বলতেন, “আমি চলে যাচ্ছি, আমি চলে যাচ্ছি, আমি চলে যাচ্ছি।”
এরপর খাদিমগণের দিকে রুজু হয়ে বললেন, “ঘরের মধ্যে যদি কোন প্রকার সামানও রয়ে যায় তবে কাল ক্বিয়ামতের দিন এর জবাব দিতে হবে।” সুতরাং খাদিমগণ সব কিছুই মানুষদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। শুধু দরবেশগণের খানাপিনার জন্য কিছু রেখে দেয়া হলো। অতঃপর আবার বললেন, “মৃত ব্যক্তির মাল সামান কেন থাকবে? সেটাকেও বের করে ঝেড়ে মুছে ফেলে দাও।” তখন খাদিমগণ খাদ্যের গুদাম ঘরের দরজা খুলে দিলে মানুষ খাদ্য নেয়ার জন্য (ক্রমান্বয়ে) ভীড় করে ফেললো এবং সকল খাদ্য নিয়ে গেলো।
এরপর দ্বিতীয় খাদিমগণ আরজ করলেন, “আপনার পরে আমাদের গরীব বেচারাদের কি অবস্থা দাঁড়াবে?” তিনি বললেন, “আমার মাযার শরীফ থেকে তোমাদের এত অধিক (জিনিষ) মিলবে যে, যা তোমাদের জরুরত মেটানোর জন্য যথেষ্ট হবে।”
খাদিমগণ এরপর বললো, “আমাদের মধ্যে কোন খাদিম (মাযারের জন্য) আসা হাদীয়া তোহ্ফা নজরানা বন্টন করবেন?” তিনি বললেন, “বন্টন করার হক্বদার ঐ খাদিমরই বেশী যে নাকি নিজের হিস্সা থেকেও (দান করার ক্ষেত্রে) হাত প্রসারিত করে দিবে।”
হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি ৭২৫ হিজরীর ১২ই বরিউল আউয়াল বুধবার সূর্যাস্তের সময় বেছাল প্রাপ্ত হন। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার