মূল- হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তর- মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
হেকায়েতঃ এক জলসায় হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গ্নজে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি উপস্থিত ছিলেন। সেই মজলিসে সামা বৈধ কি অবৈধ এ ব্যাপারে আলিমদের ইখতিলাফ নিয়ে লোকজন আলোচনা করছিলেন। লোকদের এ সমস্ত আলোচনার পর তিনি বললেন, “সুবহানাল্লাহ্! এক দল শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে আরেক দল এখনও ইখতিলাফের মধ্যে পড়ে আছে।” এক মজলিসের মধ্যে তিনি বললেন, “তদবীর সম্পর্কে অধিক চিন্তা ফিকির করলে সেটা (আরো) দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তাসলীম করা বা আত্ম সমর্পনের মধ্যে (আত্মার) সালামতি রয়েছে। (জাহেরী) মাওলানা ছাহেবগণ সাধারণ লোকদের নিকট সম্মানের পাত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। আর সূফী-দরবেশগণ অধিক সম্মানের পাত্র হিসেবে গণ্য হন লোকদের নিকট। আর আলিম, ফাযিল আর শরীফ ব্যক্তির মেছাল এরূপ যেমন চন্দ্রালোকিত আসমানের (অসংখ্য) তারার মধ্যে চৌদ্দ তারিখের চাঁদনী রাত। ঐ ব্যক্তি (সবচেয়ে অধিক) নীচ, হীন, নিকৃষ্ট যে নিজেকে (কেবলমাত্র) আহার, বিহার ও পরিধানের মধ্যে মশগুল রাখলো।”
মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি
জন্মঃ ৬৩১, ওফাতঃ ৭২৫
মাহবুবে ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর (জলিলুল কদর) খলীফাদের অন্তর্ভূক্ত। তাঁর নাম মুহম্মদ বিন আহমদ বিন আলী বোখারী। আর লক্বব হচ্ছে, সুলতানুল মাশায়িখ নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
মহান আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে তিনি মকবুল, মনোনীত ওলী ছিলেন। তাঁর (রূহানী) ফয়েজে হিন্দুস্থান পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তাঁর দাদা শায়খ আলী বোখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নানা খাজা আরব রহমতুল্লাহি আলাইহি এ দু’জন বোখারা থেকে লাহোর তাশরীফ আনেন। এখানে বহু দিন থাকার পর তারা বাদায়ুন চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। শিশু অবস্থাতেই তাঁর সম্মানিত পিতা ইন্তিকাল করেন। যাঁর কবর শরীফ বাদায়ুনে অবস্থিত।
যখন তিনি কিছুটা বড় হলেন তখন তার (পবিত্রা) মাতা ছাহেবানী তাঁকে মাদ্রাসায় দ্বীনি ইল্ম হাছিলের জন্য ভর্তি করালেন। সেখানে তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফ এবং দ্বীনি বিষয়ক অন্যান্য কিতাবও পড়েন। আনুমানিক যখন তাঁর বয়স ১২ বছর তখন তিনি ইল্মুল লুগাত, আদব ইত্যাদি কিতাব পড়ছিলেন। এক সময়ের কথা- আবূ বকর নামক জনৈক গজল গায়ক (সামা পাঠকারী) মুলতান থেকে তাঁর ওস্তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, আমি হযরত খাজা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া মুলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সামার মজলিসে এই শের পড়েছিলাম,
لقد لسعت حية الهوى كبدى.
অর্থাৎ- “মুহব্বতের সাপ আমার দিওয়ানা দিল দংশন করেছে।”
এবং বলতে লাগলো, উক্ত শেরের পরের দ্বিতীয় পংক্তি কি ছিল তা আমার স্মরণ নেই। হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তৎক্ষনাত বলে উঠলেন, পরের পংক্তি ছিল, لاطبيب لها ولامراقى.
অর্থাৎ- “মুহব্বতের শরাব পানকারী প্রেমিকের জন্য না কোন চিকিৎসক আছে যে তার রোগ নিরাময় করবে আর না কোন ওঝা আছে যে ঝাড়ফুঁক করে তার দিল থেকে কোন আছর দূর করে দেবে।”
অতঃপর গজল গায়ক হযরত বাহাউদ্দীন জাকারিয়া মুলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খুব তা’রীফ-প্রশংসা করলো এবং বলতে লাগলো, তাঁর দরবারে যিকির শোগলের এই হালত যে, দরবারের একজন চাক্কী পিষনেওয়ালা পুরুষ এবং একজন আওরাত-মহিলাও যিকির আযকারের মধ্যে মশগুল থাকে। এ ধরণের আরো বহু কথা সে বর্ণনা করলো কিন্তু গজল গায়কের এতসব কথার মধ্যে কোন কথাই হযরত মাহবুবে ইলাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দিলের মধ্যে কোন প্রকার তাছির করলো না।
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার