(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)
“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতিপয় সুওয়াল-জাওয়াব
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
সুওয়াল-১৭
নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার স্থান নদীর মাঝখানে চলে গেছে। এতে এলাকাবাসী নতুন জেগে ওঠা চরে স্থান নির্দিষ্ট করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা কতটুকু শরীয়তসম্মত?
জাওয়াব: উপরোক্ত সুওয়ালের জাওয়াবে বলতে হয় যে, যদি নদী ভাঙ্গনের ফলে কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার স্থান নদীর মাঝখানে চলে যায়, এমতাবস্থায় এলাকাবাসী নদীর পার্শ্ববতীর্ কোনো চরে নতুন কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক তৈরি করে, তাহলে প্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিকানা রহিত হবে না; বরং নতুন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকটি ভিন্ন আরেকটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ হিসেবে সাব্যস্ত হবেন। তবে, যদি কখনোও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে প্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার স্থান পুনরায় জেগে উঠেন, তাহলে সেই স্থানটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার স্থান হিসেবে ধর্তব্য হবেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা বহাল থাকবেন। উক্ত জমি থেকে জনসাধারণ দুনিয়াবী কোনো ফায়দা হাছিল করতে পারবে না।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জেগে উঠা জায়গাটির হুকুম কী হবে?
এর জবাবে বলতে হয় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জেগে উঠা জায়গাটি যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনারই হুকুম রাখে, সেহেতু তা সীমানা নির্ধারণ করে চিহ্নিত করে হেফাযত করতে হবে। অথবা বিভিন্ন ফল-ফলাদি বা দামী কাঠের গাছ লাগানো যেতে পারে, যাতে লাগানো গাছের ফল বা উপযুক্ত গাছ বিক্রি করে তার অর্থ স্বীয় এলাকার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার কাজে খরচ করা যায়। পরবর্তী সময়ে সে স্থানে আবার কখনো জনবসতি গড়ে উঠলে যেন তারা ওয়াকফকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার স্থানকে পুনরায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। কারণ, ওয়াক্বফকৃত স্থানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থাকুক বা না থাকুক সেই স্থানটির মালিক হচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জায়গাটি ক্বিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মসজিদ মুবারক হিসেবেই গণ্য হবেন। এর ব্যতিক্রম করা কাট্টা হারাম ও কুফরী। যারা ব্যতিক্রম করবে, তাদের জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হবে। (দলীলসমূহ: ফতওয়ায়ে কাযীখান, আল মুখতাছারুল কুদূরী, আল জাওহারতুন নাইয়্যারাহ্, আল লুবাব লিল মায়দানী, আল হেদায়া মা’য়াদ দেরায়া, আইনুল হিদায়া, ফতহুল ক্বাদীর, আল কিফায়া, আল ঈনায়া, বাদায়েয়ুস সানায়া, ফতওয়ায়ে আলমগীরী, আল বাহরুর রায়েক, আল মুযমিরাত, ফতওয়ায়ে কুরবা, আয্্ যাখীরাহ্, খিযানাতুল মুফতীন, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, আল কুনিয়া, আল মুনিয়া, মুহীতে সারাখসী, ফতওয়ায়ে শামী ইত্যাদি)
সুওয়াল-১৮
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার অপচেষ্টা করা হলে বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার হুরমত-ইয্যত বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করা হলে এলাকাবাসী বা মুছল্লীদের দায়িত্ব-কর্তব্য কি?
জাওয়াব: এলাকাবাসীর দায়িত্ব হচ্ছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার উক্ত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করা। এটা প্রত্যেক মুছল্লী ও ঈমানদারদের জন্য ফরযে আইন।
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِيْدِنِ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَاٰى مِنْكُمْ مُنْكَـرًا فَـلْـيُـغَـيِّـرْهُ بِـيَدِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَبِـلِسَانِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهٖ وَذٰلِكَ اَضْعَفُ الْاِيْـمَانِ
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ যখন সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার খিলাফ কোনো কাজ দেখবে, তখন সে যেন তা হাত দিয়ে বাধা দেয়। যদি হাত দিয়ে বাধা দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যেন তা মুখ দিয়ে বাধা দেয়। যদি তাতেও সম্ভব না হয়, তাহলে যেন তা অন্তরে বাধা দেয়। অর্থাৎ অন্তরে খারাপ জেনে সেখান থেকে দূরে সড়ে যায়। এটা হচ্ছে সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার সর্বনিম্ন স্তর।” (মুসলিম শরীফ, নাসাঈ শরীফ, মুসনাদে আহমাদ ৩/৫৪, কান্যুল ‘উম্মাল ৩/৬৬, ছহীহ ইবনে হিব্বান ১/৫৪২, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৬/৯৪, আল মুসনাদুল মুস্তাখরাজ লি আবী না‘ঈম ১/১৩৬, মাছাবীহুস সুন্নাহ্ লিল বাগবী ৩/৪০৭, আল আহ্কামুশ শর‘ইয়্যাতুল কুবরা লিল ইশবীলী ১/৯৭, আল ঈমান লি ইবনে মুন্দাহ্ ১/৩৪২, আদ্ দুর্রুল মানছূর ৫/৪০০, তাফসীরুল ক্বরতুবী ৪/৪৯, তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৯১, তাফসীরে বাগবী ২/৮৫, আল বাহ্রুল মুহীত্ব ৩/২৯০, আল জাওয়াহিরুল হুস্সান লিছ ছা‘আলাবী ১/২৩৪, তাফসীরুল ঈজী ১/২৮৭, তাফসীরে খাযিন ১/২৮১, ফাত্হুর রহমান ফী তাফসীরিল কুরআন ২/৮, আল মুহার্রারুল ওয়াজীয্ ১/৪৮৭, ফুতূহুল গাইব ৭/৩০৬, শরহুস সুন্নাহ ১৪/৩৪৯, আল আমরু বিল মা’রূফ ওয়ান নাহ্য়ু ‘আনিল মুন্কার ১/১৯, ফাত্হুল বারী লি ইবনে হাজার ১৩/৫৩, শরহুল বুখারী লি ইবনে বাত্ত্বাল ১৯/৬২, ইকমালুল মু’লিম ১/২০৮, হিলইয়াতুল আউলিয়া ১০/২৭, আদ্ দীবাজ ১/৬৩, জামি‘উল ‘উলূম ওয়াল হিকাম লি ইবনে রজব ১/৩১৯,শরহুল বুলূগ ১/৩০,‘আওনুল মা’বূদ ১২/২৮৩, আল বায়ান ওয়াত্ তা’রীফ ২/২১৭, মিরক্বাতুল মাফাতীহ্ ৮/৩২০৮, নাইলুল আত্বার ৭/২০৬, আত্ তাওদ্বীহ্ লি শরহিল জামি‘ইছ ছহীহ্ ৩২/৩৬৮, যখীরাতুল ‘উক্ববা ১৩/১০৮, আত্ তা‘ঈন ফী শরহিল আরবা‘ঈন ১/২৮৭, আল ফাত্হুল মুবীন বি শরহিল আরবা‘ঈন ১/৫৩৯, তুহ্ফাতুল আশরাফ ৩/৩৫২, রিয়াদ্বুছ ছালিহীন ১/১৪৬, আল আহ্কামুল উসত্বা লিল ইশবীলী ১/৮৭, আত্ তা’দীল ওয়াত্ তাজরীহ্ ১/৮৬, আল আহ্কামুছ ছুগরা লিল ইশবীলী ১/৯১, আল ইলমাম বি আহাদীছিল আহ্কাম ইত্যাদি)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
وَلَيْسَ وَرَاءَ ذٰلِكَ مِنَ الْاِيْـمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ
অর্থ: “এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও সম্মানিত ঈমান মুবারক অবশিষ্ট থাকবে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, ইকমালুল মু’লিম শারহু ছহীহ মুসলিম ১/২১১, আল মুফহিম ১/১৪৭, শারহুন নববী ‘আলা মুসলিম ১/১৩২, আদ দীবাজ ‘আলা মুসলিম লিস সুয়ূত্বী ১/৬৫, ফাইদ্বুল ক্বদীর শারহুল জামিয়িছ ছগীর ৬/১৬৯, জামি‘উল ‘উলূম ওয়াল হিকাম ২/৩৬, দালীলুল ফালিহীন ২/১৬২, মিছবাহুত তানভীর ১/২৪৭, শারহুল আরবা‘ঈন ১/৩০, আল ইফ্ছাহ্ ২/৯৮, তুহ্ফাতুল আবরার ১/১৩১, যাখীরাতুল ‘উক্ববা ফী শারহিল মুজত্ববা ৩৭/২৯৪, আল ফাতহুর রব্বানী ১/১৯৫, ফাতহুল মুন‘ইম শারহু ছহীহ মুসলিম ১/১৯০, আত তাহ্বীর ১/৩৩৩, আল মাফাতীহ্ ফী শারহিল মাছাবীহ্ ১/২৬০, আল মু‘ঈন ১/৩৯৭, শারহুল মাছাবীহ্ লি ইবনিল মালিক ১/১৬৩, আল কাওকাবুল ওয়াহ্হাজ ২/৪০৪, আত তা’ঈন ১/২৯১, আল ফাত্হুল মুবীন শারহুল আরবা‘ঈন লি ইবনে হাজার হাইতামী ১/৫৪৬ ইত্যাদি)
অতএব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার অপচেষ্টা করা হলে বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার হুরমত-ইয্যত বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করা হলে এলাকাবাসী বা মুছল্লীদের সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে শক্ত প্রতিবাদ করা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে হিফাযতে অংশগ্রহণ করা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওযূ ব্যতীত আযান দেয়া মাকরূহ তানযীহী। এ মাকরূহ তানযীহী কাজটা অহরহ করলে পুরো মহল্লাবাসীর উপর গযব নাযিল হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অনুরূপ প্রত্যেক জামে মসজিদে কমপক্ষে একজন রোযাদারকে রমাদ্বান শরীফের শেষ ১০ দিন সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ ই’তিকাফ করা কর্তব্য। অন্যথায় মহল্লাবাসী সকলেই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ তরকের কারণে কবীরা গুনাহে গুনাহগার হবে।
এখন মুয়াযযিনের মাকরূহে তানযীহী আমলের কারণে মহল্লাবাসী সকলেই যদি গযবের সম্মুখীন হয় এবং একজন রোযাদার ই’তিকাফ না করলে পুরো মহল্লাবাসী সকলেই যদি কবীরা গুনাহের উপযুক্ত হয়, তাহলে কোনো এলাকায় মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গলে সেই এলাকাবাসী যে কত কঠিন আযাব-গযবের উপযুক্ত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
قَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَكَلَّمَ بِكَلَامِ الدُّنْـيَا فِـىْ خَـمْسَةِ مَوَاضِعٍ اَحْبَطَ اللهُ تَـعَالـٰى مِنْهُ عِبَادَةَ اَرْبَعِيْـنَ سَنَةً اَلْاَوَّلِ فِـى الْـمَسْجِدِ وَالثَّانِــىْ فِـى تِلَاوَةِ الْقُرْاٰنِ وَالثَّالِثِ فِـىْ وَقْتِ الْاَذَانِ وَالرَّابِـــعِ فِـىْ مَـجْلِسِ الْعُلَمَاءِ وَالْـخَامِسِ فِـىْ زِيَارَةِ الْقُبُـوْرِ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পাঁচ স্থানে দুনিয়াবী কথা বলবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট করে দিবেন। অর্থাৎ তার উক্ত অপরাধের কারণে ৪০ বৎসরের আমল নষ্ট হয়ে যায়। ১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে, ২. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার সময়, ৩. সম্মানিত আযান উনার সময়, ৪. আলিম-উলামাগণ উনাদের মজলিসে এবং ৫. কবর যিয়ারতের সময়।” (তাফসীরে আহ্মাদী ৭১০ নং পৃষ্ঠা, লুবাবুল হাদীছ লিল ইমাম জালালুদ্দীন আস সুয়ূত্বী ১/১৩)
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে সাধারণ দুনিয়াবী কথা বলার অপরাধে যদি ৪০ বছরের ইবাদত বা আমল নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যদি ভেঙ্গে ফেলা হয়, তার অপরাধ কত বেশি বা কত কঠোর হবে সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার পর রাস্তা বা অন্য কোনো কিছু নির্মাণ করা হলে, সেখানে হারাম, নাজায়িয, কুফরী, শির্কী করা হলে, গান-বাজনা করা হলে, সম্মানিত শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ করা হলে, যানবাহন চলাচল করলে অথবা বেদ্বীন-বদদ্বীন অপবিত্র মানুষ যাতায়াত করলে, কত কঠিন কবীরা গুনাহ্ এবং কতটুকু আযাব-গযব পতিত হবে, সেটা মানুষের কল্পনার বাইরে। সেটাই বলা হয়েছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার অপরাধ হচ্ছে কুফরী। আর কেউ কুফরী করলে তার যিন্দেগীর সমস্ত নেক আমল নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে তার ঈমানও নষ্ট হয়ে যায়। না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ সে মু’মিন-মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফির, মুনাফিক ও মুরতাদে পরিণত হয়ে যায়। যদিও সে মুসলমান দাবি করুক না কেন, তার নাম মুসলমানদের নাম অনুযায়ী হোক না কেন, তার পিতা-মাতা, ভাই-বোন মুসলমান হোক না কেন। না‘ঊযুবিল্লাহ!
অতএব, পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বিরোধী যাবতীয় কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও আন্দোলন করা।
(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)
কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া