মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার ফযীলত ও বরকত মুবারক

সংখ্যা: ৩০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় বান্দা-বান্দী, উম্মত অর্থাৎ সমস্ত কায়িনাতের জন্য বরকতপূর্ণ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উছীলা মুবারক। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ বা চুল মুবারকও তার ব্যতিক্রম নন। সুবহানাল্লাহ!

বক্ষমান প্রবন্ধে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ বা চুল মুবারক উনার ফযীলত ও বরকত মুবারক সম্পর্কিত কয়েকখানা ওয়াক্বেয়াহ মুবারক উল্লেখ করা হলো।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকতে আরোগ্য লাভ:

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং উনাদের পরবর্তীগণ রোগ থেকে মুক্তি লাভের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি মুবারক পান করতেন এবং উনার বরকতে আরোগ্য লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মু সালামাহ বিনতে আবী উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট পাঠালেন। (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট রক্ষিত) একটি পানির পাত্র থেকে (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আওলাদ) হযরত ইসরাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তিন আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিলেন।

فِيْهِ شَعْرٌ مِنْ شَعْرِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ اِذَا اَصَابَ الْاِنْسَانَ عَيْنٌ اَوْ شَىْءٌ بَعَثَ اِلَيْـهَا مِخْضَبَهٗ فَاطَّلَعْتُ فِى الْجُلْجُلِ فَـرَاَيْتُ شَعَرَاتٍ حُمْرًا

অর্থাৎ ঐ পাত্র মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক ছিলেন। কারো বদ নজর লাগলে কিংবা অন্য কেনো রোগ দেখা দিলে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিতেন। (রাবী বলেন,) আমি (সেই পাত্র মুবারকে) খয়েরী রংয়ের কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৮৯৬)

অপর বর্ণনায় রয়েছে-

হযরত উসমান ইবনে আবদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মু সালামাহ বিনতে আবী উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট পাঠালেন। আর তখন এটা নিয়ম ছিলো যে, যখনই কারো বদ নজর লাগতো কিংবা কেউ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হতো, তখন একটি পাত্রে পানি ঢেলে তা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার কাছে পাঠানো হতো। (কেননা উনার কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক ছিলেন।)

فَاَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُهٗ فِىْ جُلْجُلٍ مِّنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَهٗ فَشَرِبَ مِنْهُ قَالَ فَاطَّلَعْتُ فِى الْجُلْجُلِ فَـرَاَيْتُ شَعَرَاتٍ حَمْرَاءَ

‘অতঃপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক বের করতেন, যা তিনি রূপার নলের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখতেন এবং পানির মধ্যে ডুবিয়ে নাড়া দিতেন। তারপর ঐ পানি রোগী পান করতো। (যার বরকতে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতো।) (রাবী বলেন,) আমি (সেই পাত্র মুবারকে) খয়েরী রংয়ের কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৭/২৮৮৮, জামউল ফাওয়াইদ ২/৪২২ ইত্যাদি)

হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

رَاَيْتُ اَبِىْ يَاْخُذُ شَعْرَةً مِّنْ شَعْرِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـيَضَعُهَا عَلٰى فِيْهِ يُقبِّلُهَا وَاَحْسِبُ اَنِّىْ رَاَيْـتُهٗ يَضَعُهَا عَلٰى عَيْنِهٖ وَيَغْمِسُهَا فِى الْمَاءِ وَيَشْرَبُهٗ يَسْتَشْفِىْ بِهٖ

অর্থ: আমি আমার সম্মানিত পিতা উনাকে দেখেছি, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক নিয়ে উনার মুখে রেখে বুছা দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার চোখ মুবারকে রাখতেন এবং রোগমুক্তির জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি মুবারক পান করতেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২১/২৫৩)

হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিজয় লাভের রহস্য

হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বিজয়ের কথা কারোই অজানা নয়। প্রত্যেক জিহাদেই তিনি বিজয় লাভ করতেন। কিন্তু এই বিজয় লাভের মূল কারণ কি? এ বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ ও তারীখের কিতাবে বিভিন্ন ওয়াক্বেয়া বর্ণিত রয়েছে। যা থেকে বুঝা যায় উনার বিজয় লাভের মূল কারণ ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকত। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- ইয়ারমুক জিহাদের দিন হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বীরের বেশে কাফির সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হলেন। অপর পক্ষে নাসতূর নামক কাফিরদের এক শক্তিশালী যোদ্ধা বের হলো। উভয়ের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে যুদ্ধ চলতে থাকলো। হঠাৎ হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ঘোড়া হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ঘোড়ার মাথায় এসে পড়লেন এবং উনার টুপি মুবারক মাটিতে পড়ে গেলো। সুযোগ পেয়ে কাফির নাসতূর উনার পিছনে চলে আসলো। কিন্তু হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বার বার চিৎকার করে উনার সাথীদের বলছিলেন, আমার টুপি মুবারক আমাকে দিন, আপনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি রহমত মুবারক করুন। উনার গোত্র বনী মাখযূমের এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে উনার হাতে টুপি মুবারক তুলে দিলেন। তিনি সাথে সাথে টুপি মুবারক মাথায় দিয়ে নাসতুরের সাথে পূনরায় যুদ্ধ শুরু করলেন। অবশেষে সেই কাফির নাসতূরকে তিনি জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন। এ ঘটনার পর উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এটা কি করলেন, শত্রু তো আপনার পিঠের উপর এসে পড়েছিলো। কিন্তু আপনি টুপি মুবারক উনার চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এর কারণ কি?

সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ঐ টুপি মুবারকে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নায়িবয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) রয়েছেন। যার বরকতে প্রত্যেক জিহাদে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে বিজয় দান করেন। এজন্যই আমি ঐ টুপি মুবারক উনার সন্ধানে ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকত আমার কাছ থেকে চলে যেয়ে কোনো মুশরিকের হাতে যেয়ে পড়ে।’

সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ الْحَمِيْدِ بْنِ جَعْفَرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ اَنَّ حَضْرَتْ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ فَـقَدَ قَـلَنْسُوَةً لَهٗ يَـوْمَ الْيَـرْمُوْكِ فَـقَالَ اُطْلُبُـوْهَا فَـلَمْ يَجِدُوْهَا فَـقَالَ اُطْلُبُوْهَا فَـوَجَدُوْهَا فَاِذَا هِىَ قَـلَنْسُوَةٌ خَلَقَةٌ فَـقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَلَقَ رَأْسَهٗ فَابْـتَدَرَ النَّاسُ جَوَانِبَ شَعْرِهٖ فَسَبَـقْتُـهُمْ اِلٰى نَاصِيَتِهٖ فَجَعَلْتُـهَا فِىْ هٰذِهِ الْقَلَنْسُوَةِ فَـلَمْ أَشْهَدْ قِتَالًا وَهِىَ مَعِىْ اِلَّا رُزِقْتُ النَّصْر

অর্থ: হযরত আব্দুল হামীদ ইবনে জা’ফর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে বর্ণনা করেন। সম্মানিত ইয়ারমূক জিহাদের দিন হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত টুপি মুবারক হারিয়ে যায়। তিনি সৈন্যদেরকে উনার সম্মানিত টুপি মুবারক খোজার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। উনারা প্রথমে খুজে পাননি। অতঃপর আবার নির্দেশ মুবারক দেন, তখন উনারা সেই সম্মানিত টুপি মুবারক ছিন্ন অবস্থায় খুজে পান। তারপর হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উমরা মুবারক করার পর উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল ফাতহ মুবারক হলক্ব করেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা দ্রুত উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার চতুর্পাশ্বে ছুটে আসেন। আমি সবার আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক উনার সামনের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার নিকট পেঁৗছি এবং তা লাভ করি। অতঃপর সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক (আমার) এই সম্মানিত টুপি মুবারক উনার মাঝে স্থাপন করি। এরপর আমি যে কোনো জিহাদ মুবারকে উপস্থিত হয়েছি সবসময়ই আমার সাথে এই সম্মানিত টুপি মুবারক ছিলেন এবং আমি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছি, বিজয় লাভ করেছি। সুবহানাল্লাহ! (আল মুস্তাদরাক আলাছ ছহীহাইন ৩/৩৩৮, মু’জামুল কাবীর ৪/১৪২, দালায়েলুন নুবুওওয়াহ্ ৬/২৪৯ ইত্যাদি)

‘শিফা শরীফে’ বর্ণিত রয়েছে-

وَكَانَتْ فِىْ قَـلَنْسُوَةِ حَضْرَتْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ شَعَرَاتٌ مِنْ شَعْرِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَقَطَتْ قَـلَنْسُوَتُهٗ فِىْ بَعْضِ حُرُوْبِهٖ فَشَدَّ عَلَيْـهَا شِدَّةً اَنْكَرَ عَلَيْهِ اَصْحَابُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَثْـرَةَ مَنْ قُتِلَ فِيْـهَا فَـقَالَ لَمْ اَفْـعَلْهَا بِسَبَبِ الْقَلَنْسُوَةِ بَلْ لِمَا تَضَمَّنَـتْهُ مِنْ شَعْرِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِئَلَّا اُسْلَبَ بَـرَكَتَهَا وَتَـقَعَ فِىْ اَيْدِى الْمُشْرِكِيْنَ

অর্থ: “হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনার টুপি মুবারক উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) রক্ষিত ছিলেন। কোনো এক জিহাদে উনার ঐ টুপি মুবারক মাটিতে পড়ে যায়। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে (সবকিছু ভুলে) টুপি মুবারক খোজার জন্য লেগে যান (এবং পেয়েও যান)। ঐ জিহাদে অনেক মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন, এ কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করেন, একটি টুপির জন্য আপনি এতো পেরেশান হয়ে গেলেন কেন? তিনি বললেন,

لَمْ اَفْـعَلْهَا بِسَبَبِ الْقَلَنْسُوَةِ بَلْ لِمَا تَضَمَّنَـتْهُ مِنْ شَعْرِهٖ  صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِئَلَّا اُسْلَبَ بَـرَكَتَـهَا وَتَـقَعَ فِىْ اَيْدِى الْمُشْرِكِيْنَ

‘আমি শুধু একটি টুপির জন্য এমনটি করিনি, বরং আমি এমনটি এ কারণে করেছি যে, ঐ টুপি মুবারক উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক রক্ষিত ছিলেন। (তাই আমি শঙ্কিত ছিলাম যে,) ঐ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকত আমার থেকে চলে যাবে এবং কোনো মুশরিকের হাতে পড়বে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/১২৭)

উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

وَ كَانَتْ شَعَرَاتٌ مِنْ شَعْرِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ قَـلَنْسُوَةِ حَضْرَتْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ فَـلَمْ يَشْهَدْ بِهَا قِتَالًا اِلَّا رُزِقَ النَّصْرَ

অর্থ: “হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনার টুপি মুবারক উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) রক্ষিত ছিলেন। তিনি যে কোনো জিহাদ মুবারকে ঐ টুপি মুবারকসহ উপস্থিত হতেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে বিজয় লাভ করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ১/২৪৫, হাদায়িকুল আনওয়ার ১/১৬১, বায়হাক্বী শরীফ ইত্যাদি)

আরো একখানা ওয়াক্বেয়া মুবারক

একবার হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শাম দেশে জাবালা ইবনে আয়হাম গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য গমন করলেন। কিন্তু অনিচ্ছা সত্বে টুপি মুবারক (যেই টুপি মুবারক উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক সেলাই করা ছিলো) ঘরে রেখে যান। উভয় দল মুখোমুখি হওয়ার পর রোমদের প্রধান কর্মকর্তা মারা যায়। তখন জাবালা সকল সৈন্যদের নির্দেশ দেয় যে, মুসলমানদের উপর এক সঙ্গে প্রচন্ড আক্রমণ চালাও। আক্রমণের মুখে মুসলমানদের অবস্থা কিছুটা স্পর্শকাতর হয়ে যায়। হযরত রাফে’ ইবনে আমর তাঈ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বললেন, মনে হচ্ছে আজ আমাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত, আমরা শাহাদাতের পেয়ালা পান করতে যাচ্ছি। হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। কারণ আমি আজ ঐ টুপি মুবারক অনিচ্ছা সত্বে ঘরে রেখে এসেছি যার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক রয়েছেন।

এদিকে অবস্থা ছিল এই, আর ওদিকে সে রাত্রীতেই মুসলিম সেনা প্রধান হযরত আবূ উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্ন মুবারকে দেখলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে আদেশ মুবারক করলেন, এই সময় আপনারা ঘুমিয়ে আছেন? হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাহায্যার্থে এগিয়ে যান। কাফিররা উনাদেরকে ঘিরে ফেলেছে।

হযরত আবূ উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তখনই ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং সৈন্যবাহিনীর মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে সকলেই তৈরী হয়ে যান। অতঃপর তিনি যতো দ্রুত সম্ভব তৈরী হয়ে মুসলিম সৈন্যদেরকে নিয়ে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে উনারা একজন আরোহী দেখতে পেলেন, যিনি ঘোড়ায় চড়ে উনাদের আগে যাচ্ছিলেন। তিনি দ্রুতগতি সম্পন্ন কয়েকজন অশ্বারোহীকে আদেশ দিলেন যে, ঐ আরোহীর অবস্থা জেনে নেয়ার জন্য। উনারা যখন ঐ আরোহীর নিকটবর্তী হলেন তখন ডাক দিয়ে বললেন, হে আরোহী! একটু থামুন। ডাক শুনতে পেয়েই তিনি থেমে গেলেন। উনারা জানতে পারলেন যে, তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আহলিয়া হযরত উম্মে তামীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত আবূ উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে সফরের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, হে সম্মানিত আমীর! যখন রাত্রে আমি শুনলাম আপনি মুসলিম সৈন্যবাহিনীর মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে শত্রুরা ঘিরে ফেলেছে, সত্বর তৈরী হয়ে যান। তখন আমি ভাবছিলাম যে, তিনি কখনো পরাভূত হবেন না। কারণ উনার সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক রয়েছেন। কিন্তু যখনই ঘরে আমার দৃষ্টি উনার টুপি মুবারকের উপর পড়লো যার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক ছিলেন, খুবই আফসোস হলো এবং তখনই আমি (উক্ত টুপি মুবারক নিয়ে) রওয়ানা হলাম যাতে এই টুপি মুবারক উনার কাছে পেঁৗছিয়ে দিতে পারি। হযরত আবূ উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক আপনাকে বরকত দান করুন। অতঃপর তিনিও উনাদের সাথে সৈন্যদের অন্তর্গত হয়ে গেলেন।

হযরত রাফে’ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, অবস্থা এতই স্পর্শকাতর ছিলো যে, আমরা আমাদের শাহাদাতের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি মুবারক শোনা গেলো। হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি লক্ষ্য করছেন এ আওয়াজ কোন দিক থেকে আসছে! যখন রূমী সৈন্যদের প্রতি উনার দৃষ্টি পড়ল তখন দেখলেন যে, কতিপয় আরোহী তাদের পিছনে ধাওয়া করছেন এবং তারা উৎকণ্ঠিত হয়ে পালিয়ে আসছে। হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার ঘোড়া হাকিয়ে জনৈক আরোহীর নিকট পেঁৗছলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, হে আরোহী। আপনি কে? উত্তর আসলো আমি আপনার আহলিয়া হযরত উম্মে তামীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। আপনার সেই বরকতময় টুপি মুবারক নিয়ে এসেছি, যার বরকতে আপনি শত্রুদের উপর বিজয় লাভ করে থাকেন। আপনি এই কারণেই তা অনিচ্ছা সত্ত্বে ফেলে এসেছেন যে, এই বিপদ আপনাদের উপর অবশ্যম্ভাবী ছিলো। অতঃপর তিনি ঐ টুপি মুবারক প্রদান করলেন এবং হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার মাথা মুবারকে পরে নিলেন।

বর্ণনাকারী ক্বসম করে বলেন, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঐ সম্মানিত টুপি মুবারক মাথায় দিয়ে যখন কাফিরদের প্রতি আক্রমণ শুরু করলেন, তখন সাথে সাথে কাফির সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো এবং মুসলমানগণ বিজয় লাভ করলেন।’ সুবহানাল্লাহ! (যিকরে জামীল)

উপরোক্ত ওয়াক্বেয়া মুবারকসমূহ উনাদের থেকে সুস্পষ্টভাবেই বুঝা যাচ্ছে যে, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এই আক্বীদাই পোষণ করতেন, উনার সমস্ত বিজয়ের মূলেই ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক। যেটা উনার সম্মানিতা আহলিয়া তিনিও জানতেন এবং দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতেন। যার কারণে তিনি অতিসত্ত্বর সেই টুপি মুবারক নিয়ে রওয়ানা দিয়েছিলেন। বাস্তবে ঘটেছিলোও তাই। সুবহানাল্লাহ!

একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক থাকা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা অর্জনের চেয়েও অধিক মুহাব্বতের:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

হযরত ইবনে সীরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি  হযরত আবীদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনাকে বললাম, আমাদের নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) রয়েছে। যা আমরা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে অথবা  উনার সম্মানিত পরিবার উনাদের থেকে পেয়েছি। অতঃপর হযরত ইবনে সীরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

لِاَنْ تَكُوْنَ عِنْدِىْ شَعْرَةٌ مِنْهُ اَحَبُّ اِلَىَّ مِنَ الدُّنْـيَا وَمَا فِيْـهَا

অর্থাৎ আমার নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক থাকা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা অর্জনের চেয়েও অধিক মুহাব্বতের। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৭০)

এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ওয়াক্বেয়া বর্ণিত রয়েছে-

বলখ শহরে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি অনেক সম্পদশালী ছিলেন। দুনিয়াবী ধন সম্পদের পাশাপাশি উনার নিকট এক অমূল্য রত্ন মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৩ খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক সংরক্ষিত ছিলো। ঐ ব্যবসায়ীর দুইজন পুত্র সন্তান ছিলো। ব্যবসায়ীর ইন্তেকালের পর  দুই ছেলে তাদের পিতার সমস্ত সম্পদ নিজেদের মধ্যে সমান সমান করে বণ্টন করে নিলো। কিন্তু তাদের মধ্যে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়, সমস্যাটি হলো, তাদের পিতার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক ছিলো ৩ খানা। যা সমান ভাগ করা যাচ্ছিলো না। সুতরাং বড় ভাই ছোট ভাইকে বললো, একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক তুমি রাখো, আরেকখানা আমি রাখবো। আর তৃতীয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক আমরা দুইভাগ করে নিবো। এভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারকও সমান বণ্টন হয়ে যাবে।

 ছোট ভাইয়ের অন্তরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অগাধ মুহাব্বত মুবারক থাকার কারণে তিনি অস্থির হয়ে বললেন, আমি কখনো এটা মেনে নিবো না যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক দুই টুকরো করা হবে। বড় ভাই যার দুনিয়াবী সম্পদের লালসা ছিলো, সে বললো, যদি তোমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার প্রতি এতই মুহাব্বত থাকে নিজের ভাগের সমস্ত সম্পদ আমাকে দিয়ে দাও আর ৩ খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক তুমি নিয়ে নাও।

ছোট ভাই তৎক্ষণাৎ প্রস্তাব গ্রহণ করে নিজের ভাগের সমস্ত সম্পত্তির বিনিময়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক নিয়ে নিলেন। এরপর ছোট ভাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করলেন। উনার কাছে যদিও দুনিয়াবী সম্পদ ছিলো না কিন্তু উনার নিকট অমূল্য সম্পদ বিদ্যমান ছিলেন।

তিনি প্রতিদিন অত্যন্ত মুহাব্বত ও আদব সহকারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার যিয়ারত করতেন এবং অধিকহারে পবিত্র দুরুদ শরীফ পাঠ করতেন। একসময় তিনি একটা ব্যবসা শুরু করলেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকতে উনার সম্পদ দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেতে থাকলো। অন্যদিকে বড় ভাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বিনিময়ে যে সম্পদ গ্রহণ করেছিলো তা কমতে শুরু করলো। এভাবেই সময় অতিবাহিত হতে লাগলো। একদিন ঐ ছোট ভাই যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার সম্মানার্থে দুনিয়ার ধন-দৌলতকে অবহেলা করেছিলেন তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন।

উনার ইন্তিকালের পর ঐ যুগের এক বুযূর্গ ব্যক্তি স্বপ্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দিদার মুবারক লাভ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ বুযূর্গ ব্যক্তিকে ইরশাদ মুবারক করলেন, “আপনি লোকদেরকে বলে দিন, কারো কোন কিছুর প্রয়োজন হলে সে যেন ঐ ব্যক্তির কবরে যায় আর তাদের যা কিছু প্রয়োজন তার জন্য দোয়া করে। তাহলে তার প্রয়োজন পূরণ করা হবে।” সুবহানাল্লাহ!

এভাবে ঐ মহান আশিক্বে রসূল উনার মাযার শরীফ বড় মহত্বপূর্ণ হয়ে গেলো। লোকজন দলে দলে সেখানে আসা যাওয়া শুরু করলো এবং নিজেদের নেক উদ্দেশ্য পূরণ করতে লাগলো।

শুধু এতটুকুই নয়! ঐ মহান আশিক্বে রসূল উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার প্রতি আদব প্রদর্শনের এমন ফলাফল হলো যে, সম্মানিত লোকেরাও উনার মাযার শরীফের পাশ দিয়ে অতিত্রুম করার সময় বাহন থেকে নেমে যেতেন এবং আদব রক্ষা করে মাযার শরীফের পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে ঐ স্থান অতিক্রম করতেন। সুবহানাল্লাহ! (হাব্বুন নাসীম আলা নাফহাতিস ছলাতি ওয়াত তাসলীম ৩৩ পৃষ্ঠা, যিকরে জামীল ৬৫ পৃষ্ঠা)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়কে আমাদের সমস্ত কিছু থেকে বেশি মুহাব্বত করার, তা’যীম-তাকরীম করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা