মছাম্মত কামরুন্ নাহার
فاعف عنهم واستغفرلهم.
অর্থঃ- “আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।” (আলে ইমরান/১৫৯)
ছহেবে শাফায়াতে কুবরা, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের সর্বক্ষেত্রেই এমনকি কাফির-মুশরিক তথা দুশমনদের প্রতি দয়া ও ক্ষমার অতুলনীয় আদর্শের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
হুব্বে আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মক্কা বিজয়ের দিনে দয়া ও ক্ষমার এক অবিস্মরণীয় ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হল।
“উহুদের যুদ্ধের দিন আবূ সূফীয়ানের স্ত্রী হিন্দা হযরত হামযাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বুক মুবারক চিড়ে কলিজা টুকরো টুকরো করে চিবিয়ে খেয়েছিলো। মক্কা বিজয়ের দিন সে চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে হাবীবে আযম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে এসে এক সুযোগে বাইয়াত গ্রহণ করে নিরাপত্তা হাছিল করেন। ছহেবে ক্বলম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চিনতে পারলেন কিন্তু কখনো ঐ কথার পুনরাবৃত্তি করলেননা। হযরত হিন্দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা দয়া ও ক্ষমার এই মহৎ আদর্শে এতই অভিভূত হয়ে পড়লেন যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে তিনি বলেই ফেললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার জীবনে এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন আপনার এই তাবু মুবারক হতে জঘণ্যতম তাবু আমার দৃষ্টিতে আর ছিলনা। অথচ আজ আমার দৃষ্টিতে এই জীবনে যতগুলো তাবু দেখেছি আপনার তাবু মুবারক হতে প্রিয়তম তাবু আমার নিকট আর নেই।” (বুখারী শরীফ)
অন্যত্র বর্ণনা করা হয়েছে, “হযরত আবূ সূফীয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পূর্বে কেমন ছিলেন তার স্বাক্ষ্য বহন করছে ছহেবে বাহ্র ওয়া বার, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিহাদসমূহ। বদর জিহাদ হতে শুরু করে মক্কা শরীফ বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত যতগুলো জিহাদে মুসলমানদের অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে এর অধিকাংশগুলোতেই তাঁর প্রত্যক্ষ হাত ছিল। কিন্তু মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় যখন হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁকে গ্রেপ্তার করে দরবারে নববীতে হাযির হলেন তখন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে বিনম্র ব্যবহার করলেন। হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অতীত অপরাধের জন্য তাঁকে হত্যা করতে চাইলেন কিন্তু রহমতুল্লিল আলামীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু হযরত আবূ সুফীয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকেই ক্ষমা করলেন না বরং তাঁর গৃহকেও নিরাপত্তার স্থল বলে ঘোষণা করলেন। এ প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল জিন্নে ওয়াল ইন্স, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি হযরত আবূ সুফীয়ান (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর গৃহে প্রবেশ করবে তার অপরাধ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” পৃথিবীর ইতিহাসে এরূপ ক্ষমার নজীর আর দ্বিতীয়টি নেই। (বুখারী, মুসলিম)