যিকরুল্লাহ, ছাহিবু ক্বাবা ক্বাওসাইনি আও আদনা, ছাহিবু লাওলাক, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করা প্রসঙ্গে উলামায়ে  সূ’দের মিথ্যাচারের জবাব

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

কিছু নামধারী মাওলানা যারা মূলত মানুষের ঈমান নষ্টের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক খাটো করাই তাদের মূল কাজ। এরা প্রচার করছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির মুবারক করা যাবে না। করলে সেটা শিরিক হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ!

আসলেই কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির মুবারক করলে শিরিক হবে? সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে এ বিষয়ে কি বলা হয়েছে? সেটাই আমরা দেখবো নিম্নোক্ত আলোচনায়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرًا لِتُـؤْمِنُـوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُـعَزِّرُوْهُ وَتُـوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا

 অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে, সুসংবাদদাতা হিসেবে এবং ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। যেন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান আনো এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক করো, উনাকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা, অনন্তকালব্যাপী। সুবহানাল্লাহ্! (পবিত্র সূরা ফাতহ্ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮-৯)

এখানে শেষোক্ত تُسَبِّحُوْهُ শব্দের মাছদার বা মূলধাতু হচ্ছে- تَسبِيْحٌ যার একটি অর্থ হচ্ছে যিকির করা। যা থেকে প্রমাণিত স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيدٍ الْـخُدْرِىِّ  رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰـى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَتَانِىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـقَالَ اِنَّ رَبِّىْ وَرَبَّكَ يَـقُوْلُ لَكَ كَيْفَ رَفَـعْتُ ذِكْرَكَ؟ قَالَ اَللهُ اَعْلَمُ قَالَ اِذَا ذُكِـرْتُ ذُكِرْتَ مَعِىْ

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার কাছে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে বললেন, নিশ্চয়ই আপনার এবং আমার রব তায়ালা মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার নিকট জানতে চেয়েছেন, আমার হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি জানেন, আমি আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারক কিভাবে বুলন্দ করেছি? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিনয় প্রকাশ করে বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, যখনই আমাকে স্মরণ করা হবে, আমার যিকির করা হবে তখন আমার স্মরণ বা যিকিরের সাথে সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হবে। সুবহানাল্লাহ! (ছহীহ ইবনে হিব্বান ৮/১৭৫, মাওয়ারিদুয যময়ান ইলা যাওয়ায়িদে ইবনে হিব্বান ১/৪৩৯)

হযরত যারক্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘শরহুয যারকানী’ কিতাবে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করে বলেন-

وَذَكَرَهُ الطَّبَـرَانِىُّ وَصَحَّحَه اِبْنُ حِبَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ

‘এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত ত্ববারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন। আর হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ বলেছেন।’ (শরহুয যারক্বানী ৮/৩১০)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যাচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত যিকির মুবারক উনার সাথে উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবুব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক উনাকে আবশ্যক করে দিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক পূর্ণ হয়না, মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ববূলও হয়না। সুবহানাল্লাহ!

সেটাই বিশিষ্ট ছূফী হযরত সাহল ইবনে আত্বা আদামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন- (মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,)

جَعَلْتُ تَـمَامَ الْاِيْـمَانِ بِذِكْرِكَ مَعِىْ وَقَالَ اَيْضًا جَعَلْتُكَ ذِكْرًا مِّنْ ذِكْرِىْ فَمَنْ ذَكَرَكَ ذَكَرَنِىْ

অর্থ : আমার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ঈমান উনার পূর্ণতাকে এ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছি যে, আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক উনার সাথে সাথে আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারক হবে। তিনি আরো বলেন, আমি আপনার আলোচনা মুবারক উনাকে আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক হিসেবে সাব্যস্ত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আপনাকে স্মরণ করলো, আপনার যিকির মুবারক করলো; সে মূলত আমাকেই স্মরণ করলো এবং আমারই যিকির মুবারক করলো। সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ১/২০)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক হিসেবেই ঘোষণা মুবারক করেছেন। আর যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির মুবারক করলো সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারকই করলো। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফে হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিকিরকে ইবাদত এবং নেককার বান্দা উনাদের যিকিরকে গুনাহের জন্য কাফফারা বলা হয়েছে। যেটা হযরত মুআয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ذِكْرُ الْاَنْبِيَاءِ مِنَ الْعِبَادَةِ وَذِكْرُ الصَّالِـحِيْنَ كَفَّارَةٌ

অর্থাৎ হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের আলোচনা করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আর নেককার বা আল্লাহওয়ালা উনাদের আলোচনা করা গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপ। সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূতী-১২৫০৩)

হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিকির করা যদি ইবাদত হয় এবং আল্লাহওয়ালা উনাদের আলোচনা করা যদি গুনাহের জন্য কাফফারা হয়। তাহলে যেই মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সারা কায়িনাত যাঁর উম্মত, উনার যিকির করলে, উনার আলোচনা করলে সেটা কি হবে? তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সুবহানাল্লাহ!

মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারকই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক, উনার যিকির মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান, উনার যিকির মুবারক ব্যতীত কেউ ফায়দা হাছিল করতে পারে না। সুবহানাল্লাহ!

এজন্যই ইলমে তাছাওউফে ত্বরীক্বা অনুযায়ী লতীফার যিকিরের সাথে সাথে ইশা বাদ ও ফজর বাদ ১০০ বার করে কমপক্ষে ২০০ বার দৈনিক পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা আবশ্যক করে দেয়া হয়। যাতে সালিক সালিকা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দুইজনের যিকিরই করতে পারে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারককে যারা শিরিক বলে তারা মূলত উনার শান মান মুবারকের বিদ্বেষী হওয়ার কারণেই বলে, এরা চরম জাহিল ও গোমরাহ। তাদের থেকে সাবধান থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির-ফিকিরে মশগুল থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-হাফিয মুহম্মদ ইবনে আব্দুস সালাম ফরাযী।

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা