রজব মাসের ফযীলত

সংখ্যা: ৮৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে এরশাদ করেন,

ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২টি, আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে ৪টি সম্মানিত।” (সূরা তওবা/৩৬)

          এ আয়াত শরীফের তাফসীরে সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

ثلاثة متواليات ذوالقعدة وذوالحجة والمحرم وواحد فرد فهو رجب.

অর্থঃ- “সম্মানিত মাসের ৩টি জিলক্বদ, জিলহজ্ব ও মুর্হরম এক সাথে। আর একটি পৃথক তা হচ্ছে রজব।”

“লুগাতে” রজব শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে সম্মানিত।

          এ মাসটির ফযীলত সম্পর্কে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

رجب شهر الله وشعبان شهرى ورمضان شهر امتى.

অর্থঃ- “রজব আল্লাহ্ পাক-এর মাস। শা’বান আমার মাস এবং রমাদ্বান আমার উম্মতের মাস।” (জামে’ ছগীর)

          অর্থাৎ রজব মাসকে তার মর্যাদা ও ফযীলতের কারণে আল্লাহ্ পাক-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

          শা’বান মাস হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট (নফল রোজা, নামায ইত্যাদি পালনের ক্ষেত্রে) অধিক পছন্দনীয় ছিল বিধায় তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

          আর রমাদ্বান শরীফের রোজা উম্মতে মুহম্মদীর প্রতি ফরজ হওয়ার কারণে এর সম্বন্ধ উম্মতের প্রতি করা হয়েছে।

          হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে,

ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلتى العيدين وليلة القدر المباركة.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই দোয়া পাঁচ রাত্রিতে কবুল হয়। রজব মাসের পহেলা রাত্রি, শা’বানের ১৪ই তারিখ দিবাগত রাত্রি, দু’ঈদের দু’রাত্রি এবং মোবারক ক্বদরের রাত্রি।

          রজব মাসের নিম্নোক্ত বেশ কিছু নাম তার ফযীলতেরই প্রমাণ বহন করে। যেমন- (১) শাহ্রুল্লাহ্, (২) শাহ্রুর রাগায়িব, (৩) শাহরুল মি’রাজ, (৪) শাহ্রু ওফাতে সুলতানিল হিন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি, (৫) আছম, (৬)  রজব, (৭) রজবু মুদ্বার, (৮) মুনছিলুল আসিন্না, (৯) আছব্ব, (১০) মুন্ফিস, (১১) মাত্বহার, (১২) মুয়াল্লা, (১৩) মুক্বীম, (১৪) হরম, (১৫) মুক্বাশ্ক্বাশ, (১৬) র্ফদ, (১৭) মুনছিলুল আলাহ্,

শাহরুর রাগায়িব

          রজব মাসের পহেলা শুক্রবারের রাত্রিটি হচ্ছে- “লাইলাতুর রাগায়িব।” এ রাত্রিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আম্মার রেহেম শরীফে তাশরীফ নেন।

          হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম আহ্মদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, লাইলাতুর রাগায়িবের ফযীলত শবে ক্বদর, শবে বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন-রাত্রির চেয়েও বেশী। (সুবহানাল্লাহ্)

শাহরুল মি’রাজ

          সহীহ্ মতে, রজব মাসের ২৭ তারিখের রাত্রিটি হচ্ছে লাইলাতুল মি’রাজ বা শবে মি’রাজ। এ রাত্রিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসমান-যমীন, লৌহ-কলম, আরশ-কুরসী, বেহেশ্ত-দোযখ সব কিছু পরিদর্শন করতঃ আল্লাহ্ পাক-এর দীদার লাভ করেন এবং হাদিয়াস্বরূপ উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পয়গাম নিয়ে আসেন যা মু’সিন বান্দার জন্য মি’রাজ স্বরূপ।

শাহ্রু ওফাতে সুলতানিল হিন্দ

রহমতুল্লাহি আলাইহি

এ মাসের ৬ তারিখ সুলতানুল হিন্দ, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ্ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চীশ্তি, আজমিরী, সাঞ্জেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত লাভ করেন। তিনি এমন এক মহান বুযুর্গ যাঁর উছীলায় এক কোটিরও বেশী বিধর্মী ঈমানদার হয়েছে। (সুবহানাল্লাহ্)

শাহরু আছম

রজব মাসের একটি নাম হচ্ছে আছম (বধির)। অর্থাৎ যে কানে শুনেনা। এ মর্মে কিতাবে এসেছে, প্রত্যেকটি মাস শেষ হলে আল্লাহ পাক-এর নিকট পেশ করা হয় এবং তা বান্দার ভাল-মন্দ সব বিষয়ের স্বাক্ষ্য প্রদান করে। রজব মাসকে যখন পেশ করা হয়, ‘আল্লাহ পাক তাকে সম্বোধন করে বলেন, হে রজব। “লোকেরা কি তোমাকে ইজ্জত, সম্মান করেছে? রজব চুপ করে থাকে। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অতঃপর রজব মাস বলে, হে আল্লাহ্ পাক! আপনি হলেন সাত্তার (দোষ-ত্রুটি গোপনকারী)। আপনি আপনার সৃষ্টিকে অপরের দোষ-ত্রুটি গোপন করার জন্য নির্দেশ করেছেন। আর আপনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নাম দিয়েছেন আছম (বধির)। এজন্য আমি তাদের নেকী গুলোই শুনেছি কিন্তু তাদের পাপের বিষয়গুলো শুনতে পাইনি। অর্থাৎ রজব মাস বান্দার কেবল নেক আমলের স্বাক্ষী হয়, পাপের স্বাক্ষী হয়না।” (সুবহানাল্লাহ্) রজব মাসের অধিক সম্মান ও ফযীলতের কারণেই মাসটি যখন আগমন করতো তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া করতেন, اللهم بارك لنا في رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَلَّغْنَا رمضان. অর্থঃ- “হে আল্লাহ্ পাক। রজব ও শা’বানে আমাদেরকে = বরকত দান করুন এবং রমাদ্বান মাসে পৌছার তাওফিক দান করুন।” (মীযানুল ই’তিদাল) রজব মাসের আমল রজব মাসের আমল সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “যে মুসলমান পুরুষ-মহিলা (রজব মাসের পহেলা দিন) দিনে রোজা রাখবে এবং রাত্রিতে নফল ইবাদত-বন্দেগীতে কাটিয়ে দিবে আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টির = উদ্দেশ্যে, আল্লাহ্ পাক তার আমল নামায় এক বৎসর দিনে রোজা রাখার এবং রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করার ছওয়াব লিখে দিবেন।” = সুতরাং এ মাসে আল্লাহ পাক-এর যাবতীয় নিষিদ্ধ বিষয় = হতে বিরত থেকে বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগী, = দোয়া-ইস্তেগফার করে মাসটির হক আদায় করা কর্তব্য।

শা’বান মাস ও শবে বরাতের ফযীলত

পবিত্র রমাদ্বান মাসের ফযীলত

পবিত্র শাওয়াল মাসের ফযীলত

পবিত্র যিলক্বদ মাসের ফযীলত

পবিত্র যিলহজ্ব মাসের ফযীলত