রবিউল আউয়াল মাস ও তার  আলোচনা

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস। এ মুবারক মাসের বারই তারিখ পবিত্র সোমবার দিনটিতে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, ইমামুল মুরসলীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যমীনে তাশরীফ আনেন। অর্থাৎ এ দিনটি হচ্ছে তাঁর “বিলাদত শরীফ”-এর দিন। এ পবিত্র দিনটি মুসলিম উম্মাহ্র জন্য খুশী ও আনন্দের দিন।

          কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম দোয়া করেছিলেন,

ربنا انزل علينا مائدة من السماء تكون لنا عيدا لاولنا واخرنا-

অর্থঃ “হে রব! আমাদের জন্য আপনি আসমান হতে (বেহেশতী খাদ্যের) একটি খাঞ্চা নাযিল করুন। খাঞ্চা নাযিলের উপলক্ষটি আমাদের জন্য। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি ঈদ (খুশী) স্বরূপ হবে।” (সূরা মায়িদা/১১৪)

           হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম এর উক্ত দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা নিজ কুদরতে একটি খাঞ্চা নাযিল করেছিলেন। আর খাঞ্চা নাযিলের দিনটিকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর উম্মতদেরকে নিয়ে খুশীর দিনরূপে উদযাপন করেছিলেন।

           সামান্য এক খাঞ্চা খাদ্র দ্রব্য নাযিল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর অনুসারী খৃষ্টানরা যদি ঐ দিনটিকে খুশীর দিনরূপে উদযাপন করে তাহলে যিনি সৃষ্টির মূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, ইমামুল মুরাসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, যাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি হতনা তাঁর বিলাদত শরীফ’-এর দিনটিকে কিরূপ খুশীর দিন হিসেবে উদযাপন করা উচিত তা প্রতিটি মুসলমানকে ফিকির করতে হবে।

“ছহীহ বুখারী”- এর হাদীস শরীফের মর্মে জানা যায় “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফ-এর সূসংবাদে খুশী হয়ে আবু লাহাব শাহাদত অঙ্গুলি ইশারা করে তার ছুয়াইবিয়া নাম্নী একটি দাসীকে আযাদ করেছিল। সে যখন জাহান্নামের আযাব ভুগতে ভুগতে কাতর হয়ে পড়ে , তখন ঐ অঙ্গুলিটি চুষতে থাকে আর তা হতে আল্লাহ তায়ালার রহমতের ঝর্ণাধারা সৃষ্টি হয়ে  তার পিপাসা নির্বাপিত করে।

          আবু লাহাব একজন গোড়া কাফির, হুজুর পাক ছল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘোরতর দুশমন। অথচ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “বিলাদত শরীফ”- এর সুসংবাদে খুশী হয়ে একটি দাসীকে আযাদ করে দিয়েছিল। শুধু এই একটি কাজের বরকতে তার প্রতি আল্লাহ তায়ালার এত বড় রহমত যে, জাহান্নামের মধ্যে তার পিপাসা মিটানো হয়। এমতাবস্থায় যে মুসলমান হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “বিলাদত শরীফ” উপলক্ষে শীরয়ত সম্মত ত্বরীকায় খুশী প্রকাশ করবে, মীলাদ শরীফ তথা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করাকে পছন্দনীয় কাজ মনে করবে, তার প্রতি আল্লাহ তায়ালা অফুরন্ত রহমত নাযিল করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

          আরেকটি কথা, আবু লাহাব খুশী হয়েছিল তার ভাতিজার বিলাদত শরীফের সংবাদ পেয়ে, আল্লাহ তায়ালার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত শরীফের সংবাদ পেয়ে নয়, এতেই তার প্রতি এত বড় রহমত। তাহলে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার প্রিয়তম রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “বিলাদত শরীফ” এর দিনটি খুশীর দিন হিসেবে উদযাপন করবে, তাঁর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করবে তার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করবে, না’ত বা প্রশংসামুলক কাছীদা আবৃত্তি করবে ও শুনবে সে যে আবু লাহাব অপেক্ষা কোটি কোটি গুণ রহমত, বরকত, ছাকীনা হাছিল করবে তাতে বিন্দুতম সন্দেহের অবকাশ নেই।

          আজকে এক শ্রেণীর মুসলমানদের জন্য আফসুস হয় যে, তারা আখেরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত বলে নিজেকে পরিচয় দেয় সত্যিই কিন্তু তাঁর বিলাদত শরীফের দিনকে খুশীর দিন হিসেবে মানতে তাদের কষ্ট হয়। তারা “পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”-এর বিরোধীতা করতেও কুক্তাবোধ করেনা। তারা বিরোধীতা করে মীলাদ শরীফ ও কিয়ামের অথচ এগুলোর স্বপক্ষে রয়েছে কুরআন-সুন্নাহর শত শত ছহীহ, নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য দলীল। তা হতে নিম্নে যৎসামান্য আলোচনা করা হল মাত্র।

 “মাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়া” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন যমীনে তাশরীফ আনেন সেই রাত্রিতে অগণিত ফেরেশ্তা অবতরণ করেন এবং হযরত আমিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর হুজরা শরীফের দরজায় দাঁড়িয়ে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করেন।”

          “মিশকাত শরীফে” বর্ণিত রয়েছে, হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমীপে উপস্থিত ছিলাম। ইতোপূর্বে কোন কোন লোক আমাদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিল এবং সম্ভবত এ সংবাদ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্ণগোচর হয়েছিল। এ সময় তাঁর দরবার শরীফে আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মিম্বর শরীফে আরোহণ করতঃ উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কে? সকলে সমস্বরে উত্তর দিলেন, আপনি আল্লাহ্ পাক-এর রসূল। অতঃপর তিনি ইরশাদ করলেন, “আমি মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্দুল্লাহ্ (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর পুত্র, আব্দুল মুত্তালিব (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর পৌত্র। আল্লাহ্ তায়ালা আমাকে কুল-মাখলুকাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মাখলুক অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মানব ও রসূলরূপে পাঠিয়েছেন। শ্রেষ্ঠ গোত্র কুরাঈশ খান্দানে এবং কুরাঈশ গোত্রের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হাশেমী শাখায় আমাকে পয়দা করেছেন।

          আরো বর্ণিত রয়েছে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি হলাম হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম-এর দোয়া, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম-এর সুসংবাদ এবং আমার মাতা হযরত আমিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর দেখা অলৌকিক ঘটনার বাস্তব প্রতিফলন। আমার মাতা আমার বেলাদতকালে দেখেছিলেন যে, এক “নূর” যমীনে তাশরীফ নিলেন এবং তাঁর আলোকে শাম দেশের বালাখানাসমূহ তাঁর দৃষ্টিগোচর হল।

          হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যখন একে অপরের সাক্ষাৎ পেতেন এবং কোন স্থানে একত্রে বসতেন তখন একজন আরেজনকে বলতেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর না’ত তথা প্রশংসা মূলক কোন কথা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন।

          এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আতা ইবনে ইয়াছার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদা আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সমীপে গেলাম এবং আরজ করলাম, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যে না’ত “তাওরাত” কিতাবে আছে তা আমাকে আবৃত্তি করে শুনান। তিনি তখন আমাকে তা পড়ে শুনালেন। (মিশকাত শরীফ)

          হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদিন সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে হযরত আবূ আমর আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ঘরে গেলেন। তিনি সেখানে দেখতে পেলেন যে, হযরত আবূ আমের আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর নিজ সন্তানাদি ও আত্মীয়-স্বজনদের একত্রিত করে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ শরীফ (জন্ম বৃত্তান্ত) আলোচনা করছেন। এটা দেখে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত খুশি হলেন এবং বললেন, হে আমের! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক তোমার জন্য তাঁর রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন এবং সকল ফেরেশ্তাগণ  তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। আর যারা তোমার ন্যায় এরূপ আমল করবে, তারাও তোমার ন্যায় নাযাত পাবে।” (কিতাবুত তানবীর ফী মাওলুদিল বাশীর ওয়ান্ নাযীর, সুবুলুল হুদা ফী মাওলুদিল মুস্তফা)

          আরো বর্ণিত আছে যে, একদিন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানকার সকল লোকদেরকে তাঁর নিজ ঘরে একত্রিত করে, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ শরীফ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করেন, যা শুনে উপস্থিত সকলেই আনন্দচিত্তে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর ছলাত-সালাম পাঠ করেন। এমন সময় রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, حلت لكم شفاعتى. অর্থাৎ তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল। (মাওলুদুল কবীর, দুররুল মুনাজ্জাম, সুবুলুল হুদা ফী মাওলুদিল মুস্তফা)

          মূলতঃ আল্লাহ্ পাক, ফেরেশতাগণ, পূর্ববর্তী নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ, খোদ নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এবং পরবর্তীকালে ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ সকলের আমল হতেই মীলাদ শরীফের প্রমাণ পাওয়া যায়।

          হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বিলাদত শরীফ-এর আলোচনা মাহ্ফিলে তাঁর উদ্দেশ্যে ছলাত ও সালাম আরজ করার প্রাক্কালে যে ক্বিয়াম করা হয় তা তাঁর প্রতি তা’জীম প্রদর্শনের নিয়তেই করা হয়, অন্য কোন নিয়তে নয়। আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে تعزروه وتوقروه. নির্দেশ দ্বারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি তা’জীম প্রদর্শনের হুকুম ঘোষণা করেছেন। কোন যুগ বা অবস্থা বিশেষের সহিত এই হুকুম খাছ নয়। বরং সকল যুগে সকল অবস্থায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর পুণ্যস্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা প্রত্যেক মু’মিনের কর্তব্য।

প্রায় সকল মুসলমানেরই জানা আছে যে, জমজমের পানি ও ওজুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নত। জমজম কুয়ার সাথে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম-এর স্মৃতি বিজড়িত। তাই তার পানি দাঁড়িয়ে তা’জীমের সাথে পান করতে হয়। ওজুর ধর্মীয় মর্যাদা অনেক। তাই ওজুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে তা’জীমের সাথে পান করতে হয়। এমতাবস্থায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র স্মৃতির আলোচনা ও তাঁর নামে সালাম পেশ করার সময় দাঁড়িয়ে তা’জীম প্রদর্শন করলে ছওয়াব হবে কিনা, তা সহজেই উপলব্ধি করা যায়।

          হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমাকে কোন একটি বিষয়ে খোশ-খবর দিলেন। তখন আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনার জন্য আমার বাপ-মা কুরবান হোক, আপনি এরই যোগ্য।  (মিশকাত শরীফ)

          উপরোক্ত হাদীসের মর্ম হতে বুঝা যায় যে, কোন সুসংবাদ লাভ করলে তজ্জন্য দাঁড়িয়ে খুশী প্রকাশ করা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগমগণের সুন্নত বা নীতি। হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিলাদত (জন্মগ্রহণ)-এর খবর অপেক্ষা বেশী খুশীর খবর বা সুসংবাদ আর কি হতে পারে?

          আল্লাহ্ পাক যাদের মদীনা শরীফে রওজা পাক যিয়ারত করার সৌভাগ্য দান করেন, তাঁরা রওজা শরীফের পাশ্বে দাঁড়ানো অবস্থায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে সালাম পেশ করে থাকেন। তাঁরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চামড়ার চোখে দেখেন না, তা স্বত্ত্বেও সরাসরিভাবে “হে নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম। ইয়া রসূলাল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম। ইয়া হাবীবাল্লাহ্ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম।” এমনিভাবে সালাম পেশ করে থাকেন। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই রওজা পাক-এর অভ্যন্তর হতে যিয়ারতকারীগণের এই সালাম নিবেদনের দৃশ্য দেখতে ও আওয়াজ শুনতে পান। মাটি-পাথরের দেয়ালের আড়ালে তিনি আরাম ফরমাচ্ছেন বলে আশেকানের ছলাত ও সালাম তাঁর কাছে পৌঁছতে যখন বাধাপ্রাপ্ত হয় না; তখন শতসহস্র মাইল দূর হতে কেউ দিলের চোখে রওজা পাক সামনে মনে করে দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করলে তা তাঁর কাছে পৌঁছতে অসুবিধা কোথায়?

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বত যার দিলে নাই, সে খাঁটি মু’মিন নয়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তির দিলে নবীজীর ইশ্ক, মহব্বত স্থান পেয়েছে তিনি মাশুকের স্মরনে কতভাবেই না আত্মনিবেদন করে থাকে।

          মুল কথা হলঃ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি পুরাপুরি হক্ব আদায় করা তা’জীম দেখান কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় শরীয়ত সম্মত পন্থায় যে যত উপায়ে এবং যত বেশী সম্ভব, তাঁর উদ্দেশ্য তা’জীম প্রদর্শন করবে, সে ততই বেশী ফায়দা ও বরকত হাছিল করবে।

রবিউস্ সানী মাস ও তার আলোচনা

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ-সম্মানিত রবীউছ ছানী শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা

জুমাদাল উলা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

জুমাদাল উখরা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

রজব মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা