রসূলু রব্বিল আলামীন, নাজিরুও ওয়া বাশীরুম মুবীন, দলীলে কা’বায়ে মাকসূদ, শাফিউল মুজনিবীন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদ্বেষ পোষণকারীদের অন্তর কুফরীতে পরিপূর্ণ এবং স্থায়ী আবাস জাহান্নাম

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ সাদী

قل موتوا بغيظكم.

অর্থঃ- “বলুন, তোমরা তোমাদের গোস্বায় মরে যাও।” (সূরা আলে ইমরান/১১৯)

জানা আবশ্যক যে, লওহ, কলম, আরশ, কুরছী, জান্নাত, জাহান্নাম এবং সমুদয় সৃষ্টি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আকরামুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুস সাকালাইন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইল্ম-এর অংশ। জান্নাত, জাহান্নাম, সুখ, দুঃখ, যাবতীয় নিয়ামত এবং কোন কিছুই তাঁর মুবারক মাধ্যম ব্যতীত বন্টিত হয়না। মহান আল্লাহ্ পাক-এর যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য, মালিকানা ও করুণায় দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় বিষয়কর্ম পরিচালিত হয়, সৃষ্টিসহ তৎসমুদয়ের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহমানতার অখন্ড উপলক্ষও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রুজি, রিযিক, জীবন, মরণ, প্রাণ স্পন্দন, সৃষ্টি, আরম্ভ, প্রবাহ এবং লয় তাঁরই মুবারক উছীলায় সম্পাদিত হয়। আল্লাহ্ পাক সদয় হয়ে নাজ-নিয়ামত ও রুজি-রিযিক বন্টনের এখতিয়ার তাঁর প্রিয়তম হাবীব ছল্লৗাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই দান করেছেন। এমর্মে তিনি বলেছেন- انما انا قاسم والله يعطى.

অর্থঃ- “বন্টন করি আমি, আর দান করেন আল্লাহ্ পাক।” এই বন্টন ক্ষমতা সম্পর্কে কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

وما نقموا الا ان اغنهم الله ورسوله من فضله.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল নিজ অনুগ্রহে তাঁদেরকে (মু’মিনগণ) ধনবান করেছেন। এটাইতো তাদেরকে (কাফির সম্প্রদায়) ব্যথিত করেছে” (সূরা তওবা/৭৪)।

          এই আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মানুষকে দান করার জন্য যোগ্যতা ও ক্ষমতা প্রাপ্ত। যোগ্যতার এই অনুষঙ্গ আল্লাহ্ পাক-এর ক্ষমতা ভাগাভাগির সঙ্গে আদৌ সম্পৃক্ত নয়। মূলতঃ এর মাধ্যমে রুবুবিয়াত পরিচালিত করা, সমগ্র কায়েনাতকে সঞ্জীবিত ও প্রবাহমান রাখা, জ্বীন ও ইনসানকে সুখ, দুঃখ, আবেগ, আনন্দ, বিষাদে আন্দোলিত করা, তাদেরকে মুহব্বত, মারিফাত-এর প্রজ্ঞা দানে নৈকট্যের শীর্ষে পৌঁছে দেয়া এবং ঐহিক ও পারত্রিক নিয়ামত সম্ভারে তাদেরকে কামিয়াবী দান করার ক্ষেত্রে আল্লাহ্ পাক আপন হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদ্যন্তকালের এক অতুলনীয় ও মহা মহিমান্বিত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহ্ পাক-এর উদ্দিষ্ট নিয়মে সকল বিষয়কর্ম তাঁর সদয় এখতিয়ারে। বান্দার কোন কাজে প্রথমে সাইয়্যিদুল বাশার হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তুষ্ট না হলে আল্লাহ্ পাক সন্তুষ্ট হননা। তাই আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি অর্জনের অনিবার্যতায় প্রাথমিকভাবে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সন্তুষ্ট করা উম্মতের জন্য ফরয।

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছায় বিন্দুতম বিদ্বেষ পোষণ করার পরিণতি বড় করুণ। বিদ্বেষ পোষণ এবং ঠাট্টা-বিদ্রুপ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন-

ولقد استهزئ برسل من قبلك فحاق بالذين سخروا منهم ماكانوابه يستهزون.

অর্থঃ- “আপনার পূর্বেও অনেক রসূল আলাইহিমুস্ সালামকেই ঠাট্টা বিদ্রুপ করা হয়েছিল। পরিণামে তারা যা’ নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত, তা বিদ্রুপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।” (সূরা আম্বিয়া/৪১)

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহানতম শান ও মর্যাদা আল্লাহ্ পাক বিশ্ববাসীকে এভাবে জানিয়েছেন-

انا ارسلنك شاهدا ومبشرا ونذيرا لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا.

অর্থঃ- “(হে রসূল)! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদানকারী ও সুসংবাদ প্রদানকারী (মুমিনগণের জন্য) এবং ভীতি প্রদর্শনকারী (কাফিরদের জন্য) হিসেবে পাঠিয়েছি। যেন তোমরা আল্লাহ্ পাক ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য কর ও সম্মান প্রদর্শন কর এবং সকাল-সন্ধায় তাঁরই পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকো।” (সূরা ফাত্হ্ /৮, ৯)

           প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক অধিষ্ঠান ও পবিত্রতা বর্ণনার মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক বিদ্বেষ পোষণকারীদের মন্দ স্বভাব ও জঘন্য দোষ এভাবে বর্ণনা করেছেন-

ما انت بنعمة ربك بمجنون وان لك لاجرا غير ممنون وانك لعلى خلق عظيم.

অর্থঃ- “আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহে আপনি উন্মাদ নন্। আর আপনার জন্য অবশ্যই রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার এবং আপনি অবশ্যই মহানতম চরিত্রের  অধিকারী” (সূরা ক্বলম/২-৪)। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওলীদ বিন মুগীরা পাগল বলে অপবাদ দিয়েছিল। এতে তার প্রতি ক্রোধভরে আল্লাহ্ পাক এই আয়াত শরীফে আপন হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা ও মরতবা প্রকাশ করেছেন। অতপর ওলীদ বিন মুগীরার স্বভাব-সম্পৃক্ত দোষ এবং আভ্যন্তরীণ কলঙ্ক ও গলদ বিশ্ববাসীর অবহিতির জন্য আল্লাহ্ পাক স্থায়ী দৃষ্টান্ত হিসেবে এভাবে পাক কুরআন-এর অন্তর্ভূক্ত করেছেন-

ولا تطع كل حلاف مهين هماز مشاء بنميم مناع للخير معتد اثيم عتل بعد ذلك زنيم.

অর্থঃ- “(হে রসূল)! আপনি তার কথায় কর্ণপাত করবেন না। সে (ওলীদ বিন মুগীরা) মিথ্যে শপথকারী, অপমানিত, নিন্দাকারী, পরের দোষ বর্ণনাকারী, চোগলখোর, সৎকাজে নিষেধকারী, সীমা লংঘনকারী, পাপিষ্ঠ, বদ চরিত্র এবং অধিকন্তু সে অবৈধ সন্তান” (সূরা ক্বলম/ ১০-১৩)।

          উপরোক্ত আয়াত শরীফ নাযিলের পর ওলীদ তার মাকে জিজ্ঞেস করে, “মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম)কে অপবাদ দেয়ার কারণে আমার দশটি দোষ বর্ণনা করা হয়েছে। এই দশটি দোষের মধ্যে আমি অবশ্যই নয়টিতে দোষী। কিন্তু দশম দোষটি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। অর্থাৎ আমি অবৈধ সন্তান কিনা, মা তুমি সে সম্পর্কে আমাকে সত্য সংবাদ দাও। নইলে তরবারীর আঘাতে তোমার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলব।” এর জবাবে তার মা প্রকম্পিত কণ্ঠে জানায়, “সত্যি তুমি অবৈধ সন্তান। তোমার পিতা ছিল অনেক ধন-সম্পদের মালিক, কিন্তু পুরুষত্বহীন। আমাদের সন্তানাদি না হলে ধন-সম্পদ হাত ছাড়া হয়ে যাবে, এই আশঙ্কায় আমি এক রাখালের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম। তুমি সেই অবৈধ মিলনের ফসল।” এখানেই শেষ নয়। আল্লাহ্ পাক আরো ইরশাদ করেন-

سنسمه على الخرطوم.

অর্থঃ- “আমি তার নাসিকার উপর দাগ লাগিয়ে দিব” (সূরা ক্বলম/১৬)। উদ্দেশ্য, যাতে তার (ওলীদ বিন মুগীরা) অন্তরের কলঙ্ক মুখাবয়বেই ধরা পড়ে। কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবদ্দশাতেই তার আকৃতি পরিবর্তিত হয়েছিল, যদিও পরকালের শাস্তি তার জন্য অবধারিত। আলোচ্য আয়াত শরীফ আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, তাঁকে অপবাদ দেয়া এবং হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াসে যেসব হতভাগ্যরা লিপ্ত, তাদের মধ্যে বর্ণিত সমুদয় দশটি দোষ অথবা কিছু দোষ অবশ্যই বিদ্যমান থাকবে।

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান ও আনুগত্য প্রদর্শন এবং তাঁর প্রতি সদাচরণ করা তাঁর জীবদ্দশাতে যেমন ফরয ছিল, তাঁর ইন্তিকালের পরও তেমনভাবেই ফরয। সুন্নত অনুসরণসহ তাঁর শরীয়তের প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সকল বিষয়ের প্রতি মুহব্বত ও সম্মানসূচক অনুকরণ ও অনুশীলন করা প্রত্যেক উম্মতের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই দায়িত্বের পরিধি সুগভীর। কারণ, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা প্রদর্শনের আবশ্যকীয় বিষয়টি তাঁর মহানতম শান, মরতবা ও মাহাত্মপূর্ণ অধিষ্ঠান পরিপূর্ণরূপে উপলব্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনুগত উম্মতের এমন উপলদ্ধি ও আমলের ফযীলত অপরিমেয়। অর্থাৎ সেই উম্মত আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি লাভে কামিয়াবী হাছিল করবে। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিরবচ্ছিন্নভাবে মুহব্বত করার গতি, প্রকৃতি ও গভীরতা মূলতঃ উম্মতের আভ্যন্তরীন বিষয়। অন্তর থেকেই এই মুহব্বত উৎসারিত হয়। তাই মুহব্বতের গতি ও প্রকৃতি অনুপাতে আল্লাহ্ পাক কামিয়াবীর সোপান নির্ধারিত করেন। কাজেই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি আনুগত্য ও নিবেদনের ফযীলতের পরিমাণ ও পরিধি মানুষের অবিহিতিতে নেই। অপরদিকে তাঁর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন ও বিদ্বেষ পোষণকারীর জন্য নির্ধারিত আযাব-গযবের পরিমাণ বর্ণনাতীত। বিদ্বেষ পোষণের গতি, প্রকৃতি ও পরিধি ব্যাপকতর এবং ব্যক্তি বিশেষে এর পরিমাপ ভিন্নতর হওয়ায় এর করুণ পরিণতির মাত্রাও অপরিমেয়। আল্লাহ্ পাক-এর বিরাগভাজন হয়ে জাহান্নামের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াই এর মূল এবং শেষ কথা।

          রিসালত অস্বীকার করলে মানুষ কাফির হয়। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রণীত শরীয়ত না মানলেও মানুষ কাফিরে পরিণত হয়। একইভাবে তাঁর সুন্নত অবজ্ঞা করলে, তাঁর আদর্শ, নীতি ও রীতি অবহেলা করলে, এমনকি তাঁর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যে কোন বিষয়ের প্রতি ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছায় বিন্দুতম অনীহা দেখালেও মানুষ বিনাশপ্রাপ্ত হয়।

          এ কারণেই আক্বাঈদের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন উম্মত কদু খাওয়াকে অপছন্দ করলে এবং “আমি কদু ভালোবাসিনা”- অবজ্ঞাভরে এমন উচ্চারণ করলে সে মুরতাদ হয়ে জাহান্নামের কীটে পরিণত হয়। কারণ, যদিও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রিসালত মানা হয়, রিসালত ধারণ, বহন ও প্রকাশকারী আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বাস করা হয় এবং তাঁর শাফায়াত প্রত্যাশায় রাখা হয় কিন্তু তাঁর পছন্দের তরকারী “কদু”কে নিন্দা ও অবজ্ঞা করা হয় (নাউজুবিল্লাহ্)। এরূপ অবস্থায় আল্লাহ্ পাক এর ক্রোধের শিকারে পরিণত হওয়া ছাড়া কটুক্তিকারীর গত্যন্তর কোথায়?

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসৃত, সম্মতি প্রদত্ত ও নির্দেশিত আদর্শ পরিপন্থী কোন ধারণা ও বিশ্বাস অন্তরে বাসা বাঁধলে এবং তদনুপাতে কোন আমল করলে অথবা না করলেও (কেবলমাত্র বিরূপ আক্বিদার কারণেই) মানুষের বিনাশ সাধিত হয়।

          বক্ষ্যমান নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমরা বলতে চাইছি যে, আল্লাহ্ পাক-এর উদ্দিষ্ট ব্যবস্থাধীনে জগৎ-সংসার সমূহ পরিচালনা ও সঞ্জীবিত রাখায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একক নিয়ামক মাধ্যম। মানুষের আকল, বুদ্ধি, স্বাস্থ্য, সম্পদ, রুজি, রিযিক, জান্নাত, জাহান্নাম, জীবন, মরণ, সৃষ্টি, লয়, যাবতীয় নাজ-নিয়ামত, মুহব্বত, মারিফাত এবং সর্বোপরি আল্লাহ্ পাক-এর পরম নৈকট্যসুধা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক উছীলা এবং তাঁর সদয় এখতিয়ারেই বন্টিত হয়। শরীয়ত প্রণয়ন এবং প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আদেশ দানে আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে তিনি পরিপূর্ণরূপে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। চিন্তা, ধ্যান, ধারণা, অনুভব ও আমলের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিকভাবে তাঁর প্রতি যে কোন প্রকারের বিন্দুতম অবজ্ঞা, অবহেলা, অনীহা এবং অসম্মান প্রদর্শন করলে অথবা মনে কোন প্রকার সংশয় রাখলে মানুষের চূড়ান্ত ক্ষতি সাধিত হয়। একজন মানুষের জীবন ও জগৎ-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়কর্ম খালিছ অন্তরে ইবাদতমুখী নিবেদন ও মনোযোগে আনতে না পারলে আমরণ সম্পাদিত আমল নিস্ফল ও মূল্যহীন হয়ে পড়ে। আল্লাহ্ পাক এর কাছে এমন গলদ আমলের কোন নেক বিনিময় নেই। নিবেদন ও মনোযোগের মূল মাধ্যম হজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ্ পাক কর্তৃক নির্ধারিত এই মুবারক মাধ্যম ভিত্তিক সংযোগ ও নিবেদনের ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ চরম শাস্তির যোগ্য হয়ে উঠে এবং তার জন্য অবধারিত গন্তব্য সাব্যস্ত হয় জাহান্নামের অতল গহবর। আল্লাহ্ পাক সতর্কবাণী ঘোষণা করেছেন যে-

فليحذر الذين يخالفون عن امره ان تصيبهم فتنة او يصيبهم عذاب اليم.

অর্থঃ- “যে সব মানুষ রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা করে, তাদের ভীত সন্ত্রস্ত থাকা আবশ্যক যে, তাদের উপর কোন বিপদ অথবা কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হয় কিনা” (সূরা নূর/ ৬৩)।

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধিতা এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ সম্পর্কে উপরে কিঞ্চিত আলোকপাত করা হয়েছে। সবিস্তার আলোচনার সুযোগ এ নিবন্ধে নেই। সমঝদার মানুষের জন্য এটুকুই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি। وما توفيقى الا بالله-

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ