রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামেলু লেওয়ায়িল হামদ, আল মাখসূসু বিল ইযযে ওয়াল হুরমত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বদৌলতে ইন্তিকালের পর সম্মান ও দুনিয়াতে ঋণ থেকে মুক্তি লাভ

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ বদরুদ্দোজা

يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما.

অর্থঃ-“হে ঈমানদারগণ, তোমরাও তাঁর উপর ছলাত-সালাম পাঠ কর।”(সূরা আহযাব/ ৫৬)

          হযরত শেখ জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি “জামউল জাওয়াম” কিতাবের ভূমিকায় লিখেছেন, “ইব্নে আসাকির নিজের ইতিহাস গ্রন্থে হাফ্স ইবনে আব্দুল্লাহ্  হতে বর্ণনা করেছেন,“ আমি আবূ জারাকে মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছি। সে প্রথম আকাশে ফেরেশ্তাদের সঙ্গে ইমামতি করে নামায আদায় করছে। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এত বড় মর্যাদা কি করে লাভ করেছ?” সে উত্তর দিলো, “আমি নিজের হাতে হাজার হাজার হাদীস শরীফ লিখেছি এবং প্রত্যেক হাদীস শরীফ লিপিবদ্ধ করার সময় বলেছি,

عن النبى صلى الله عليه وسلم.

অর্থাৎ এই হাদীস শরীফ নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে কিংবা নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছেন। নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

من صلى على صلوة واحدة صلى الله عليه عشرا.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ শরীফ পাঠ করবে আল্লাহ্ পাক তার উপর দশবার দরূদ শরীফ পাঠাবেন অর্থাৎ রহমত নাযিল করবেন।”

          বর্ণিত আছে, কোন একজন ইল্মে হাদীসের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তাঁকে কোন এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে তার অবস্থা জিজ্ঞেস করায় সে বললো, আল্লাহ্ রব্বুল ইজ্জত জাল্লা জালালুহু আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর যারা ঐ মজলিশে বসে হাদীস শ্রবণ করত তাদেরকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন। ক্ষমা করে দেয়ার কারণ, তারা দরূদ শরীফ পাঠ করতেন। অর্থাৎ ইল্মে হাদীস পাঠ করবার সময় বার বার “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বলতেন।

          বর্ণিত আছে যে, কোন একজন নেক্কার (সৎ) লোকের তিন হাজার দীনার ঋণ হয়েছিল। ঋণদাতা কাজীর নিকট নালিশ করলো। কাজী তাকে এক মাসের সময় দিলো। অতঃপর নেক্কার লোকটি কাজীর নিকট হতে এসে বিনয়, নম্রতা ও কান্নাকাটি করে আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে হাত উঠালেন এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করার জন্য মেহরাবে বসে গেলেন। মাসের সাতাশ তারিখের রাত্রে কে যেন তাকে ডেকে বলছেন, “আল্লাহ্ পাক আপনার ঋণ পরিশোধ করেছেন। আপনি আলী ইবনে ঈসা উজীরের নিকট যান এবং বলেন আমার ঋণ পরিশোধ করার জন্য তিন হাজার দীনার দেয়ার জন্য হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুকুম করেছেন।” নেক্কার লোকটি বললেন, “আমি স্বপ্ন হতে জাগ্রত হয়ে খুব আনন্দ অনুভব করলাম এবং নিজে মনে করে বলতে লাগলাম, “যদি উজীর স্বপ্নের সত্যতা সম্বন্ধে আমার নিকট কোন নিদর্শন চায় তবে কি বলবো।” সুতরাং সে ঐদিন আর উজীরের নিকট যায়নি। তারপর দ্বিতীয় রাত্রে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পুনরায় দেখলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম রাত্রে যা বলেছেন ঐ কথাই পুনরায় বললেন। আমি আনন্দের সঙ্গে নিদ্রা হতে উঠলাম কিন্তু মানুষের স্বভাবের চাহিদায় ঐ দিনও আমি আলী ইবনে ঈসা উজীরের নিকট গমণ করলাম না। তৃতীয় রাত্রে পুনরায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে উজীরের নিকট না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এ স্বপ্নের সত্যতার উপর আপনার খিদমতে কোন একটি নিদর্শন প্রার্থনা করছি।” হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এ কথার উপর বেশ বাহবা দিলেন এবং বললেন, “যদি উজীর নিদর্শন চায় তবে তাকে বলবে, সে প্রত্যেক দিন ফযরের নামাযের পর হতে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কারো সঙ্গে কথা-বার্তা না বলে, সে পাঁচ হাজার বার দরূদ শরীফের হাদীয়া আমার দরবারে পাঠাত। আর আল্লাহ্ পাক ও কিরামান-কাতিবিন ফেরেশ্তাদ্বয় ছাড়া এভেদ আর কেউই জানে না। এই স্বপ্ন দেখার পর আমি উজীরের নিকট গমণ করলাম এবং স্বপ্নের সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলাম। আর যে নিদর্শন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তাও প্রকাশ করলাম। উজীর খুব সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন, “মারহাবা অর্থাৎ খুশীর কথা; আল্লাহ্ পাক-এর দূতের দূত আমার নিকট এসেছে।” তারপর তিন হাজার দীনার আমাকে দিলেন এবং বললেন, “এগুলো দিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ কর এবং আরো তিন হাজার দীনার দিয়ে বললেন,” এগুলো দিয়ে তোমার পরিবার পরিজনের জন্য খরচ করো তারপর আরো তিন হাজার দীনার দিয়ে বললেন, এগুলো দিয়ে ব্যবসা করো। আর আমাকে কছম দিয়ে বললেন, “তুমি আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট করোনা। তোমার যে সময় যা দরকার পড়ে আমাকে জানাবে। তারপর এ তিন হাজার দীনার নিয়ে আমি নির্দিষ্ট দিন কাজীর দরবারে হাজির হলাম এবং গণনা করে দীনার গুলো  দিলাম এবং সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলাম। কাজী বললেন, এত বড় ফযীলত ও বুযুর্গী একা উজীর লাভ করবেন কেন? আমি তোমার ঋণ পরিশোধ করে দিচ্ছি। তখন ঋণদাতা বললেন, এতবড় ফযীলত তোমরা নিয়ে যাবে বরং এ ব্যাপারে আমি সকলের চেয়ে উপযুক্ত। সুতরাং আমি তোমাকে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বতে ঋণের দায় হতে ক্ষমা করে দিলাম। তখন কাজী বললো, আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বতে যা বের করেছি তা ফেরৎ নিবনা। অতঃপর নেক্কার লোকটি বললো, আমি সমস্ত মাল নিয়ে ঘরে ফিরলাম এবং আল্লাহ্ পাক-এর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে ছহিবুছ ছলাত ওয়া সালাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ত্বরিকতের নিয়ম মুতাবিক হাক্বীক্বী হক আদায় করে নিয়মিত দরুদ শরীফ পাঠ করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

 

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে

ছহেবে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন, খাজিনাতুর রহমত, ছহিবুল বারাকাত, ছহেবে তাতমাইন্নুল ক্বুলূব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করার বরকত

উসওয়ায়ে রসূলে আকরাম, যুছ্ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, তাজেদারে মদীনা, ছহিবু আউয়ালু শাফিয়িন ওয়া আউয়ালু মুশাফ্ফিয়ীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশ বা দরবার শরীফ

রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা

আন্ নাবীউস্ সালেহ্, ছহিবুল উসীলা, হায়াতুন্ নবী, রিসালতে পানাহ্, আকরামুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন,  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পর্শ ধন্য কিছু জিনিস মুবারকের বেমেছাল মর্যাদা ও ফযীলত প্রসঙ্গে